হোম > বিশ্ব > যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা

রাশিয়ার হামলার আশঙ্কায় ভীত ইউরোপীয় মিত্ররা, ‘মোটেও উদ্বিগ্ন’ নন ট্রাম্প

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: এএফপি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, রাশিয়া ন্যাটোর কোনো দেশে হামলা চালাতে পারে, এমন আশঙ্কা নিয়ে তিনি মোটেও উদ্বিগ্ন নন। গতকাল বৃহস্পতিবার ফোনে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, রাশিয়া ন্যাটো দেশগুলোর ওপর হামলা চালাবে, এ নিয়ে তাঁর কোনো দুশ্চিন্তা নেই।

ইউরোপীয় নেতারা অবশ্য বিষয়টি নিয়ে ব্যাপকভাবে ভীত হয়ে উঠেছেন। তাঁরা প্রকাশ্যে সতর্ক করে বলেছেন, মস্কো ন্যাটোর দৃঢ়তা এবং বিশেষ করে জোটের যৌথ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, অর্থাৎ আর্টিকেল ৫-এর প্রতি ট্রাম্পের অঙ্গীকার পরীক্ষা করতে পারে। সীমিত পরিসরের কোনো হামলা অথবা অন্য কোনো সামরিক উসকানির মাধ্যমে রাশিয়া এমন পরীক্ষা চালাতে পারে বলে তাঁরা আশঙ্কা করছেন।

এদিকে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ পরিচালক জন র‍্যাটক্লিফ মঙ্গলবার গোপনে মস্কো সফর করেন। সেখানে তিনি রাশিয়ার পররাষ্ট্র গোয়েন্দা সংস্থা এসভিআর–এর পরিচালক সের্গেই নারিশকিনের সঙ্গে বৈঠক করেন।

বেশ কয়েকটি গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয় যে, র‍্যাটক্লিফের এই সফরের উদ্দেশ্য ছিল রাশিয়াকে সতর্ক করা, যাতে তারা ন্যাটোর কোনো দেশের ওপর হামলা না চালায়। তবে ট্রাম্প সাক্ষাৎকারে এসব প্রতিবেদন অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেছেন, র‍্যাটক্লিফ মস্কোতে গিয়ে রাশিয়াকে এমন কোনো সতর্কবার্তা দেননি।

ন্যাটো দেশগুলোর বিরুদ্ধে সম্ভাব্য রুশ উসকানি সম্পর্কে জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি মোটেও উদ্বিগ্ন নই...একেবারেই না। কোনো সমস্যা নেই।’ ট্রাম্প র‍্যাটক্লিফের মস্কো সফরকে ‘নিয়মিত কাজের অংশ’ বলে অভিহিত করেন এবং সফরটি নিয়ে গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে কেন এত গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, তা নিয়েও বিস্ময় প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, ‘র‍্যাটক্লিফ প্রতি ছয় মাসে অথবা বছরে একবার তার রুশ প্রতিপক্ষের সঙ্গে দেখা করেন। তাদের মধ্যে খুব ভালো সম্পর্ক রয়েছে। কোনো বার্তা দেওয়া হয়নি এবং অস্বাভাবিক কিছুই ঘটেনি।’ এর প্রায় দুই ঘণ্টা পর সাংবাদিকরা ট্রাম্পকে আবার জিজ্ঞেস করেন, ন্যাটো দেশগুলোর ওপর সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে কোনো সতর্কবার্তা দিয়েছে কি না। ট্রাম্প তখন বলেন, তিনি এ বিষয়ে মন্তব্য করতে চান না। তবে একই সঙ্গে বলেন, ‘তারা ন্যাটোর ভূখণ্ডে হামলা করবে না।’

রাশিয়ার পররাষ্ট্র গোয়েন্দা সংস্থার পরিচালক সের্গেই নারিশকিনও বৃহস্পতিবার নিশ্চিত করেন যে, র‍্যাটক্লিফ মস্কো সফরের সময় তার সঙ্গে বৈঠক করেছেন। নারিশকিন বলেন, ওই আলোচনা ছিল তাদের ‘নিয়মিত কাজের অংশ’ এবং সেখানে ‘অস্বাভাবিক কিছুই ছিল না।’ তিনি জানান, র‍্যাটক্লিফের সঙ্গে তার আলোচনায় ‘গোয়েন্দা সংক্রান্ত বিষয়’ নিয়ে কথা হয়েছে।

এর আগে জুলাই মাসে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছিলেন, আগামী কয়েক মাসে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেনে নতুন করে বড় ধরনের আক্রমণ চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন। জেলেনস্কির দাবি, এ উদ্দেশ্যে রাশিয়া ৫ লাখ সেনা নিয়ে ব্যাপক সামরিক মোতায়েন বা সমাবেশের পরিকল্পনা করছে। জেলেনস্কি আরও দাবি করেন, রাশিয়া উত্তর কোরিয়ার অতিরিক্ত ৩০ হাজার সেনাকে ইউক্রেনে যুদ্ধ করার জন্য পাঠানোর লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় অবকাঠামোও তৈরি করছে।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে রাশিয়ার কয়েকটি ড্রোন ন্যাটোর একাধিক সদস্য দেশের আকাশসীমায় প্রবেশ করেছে। এসব ড্রোনের মধ্যে কয়েকটি রোমানিয়া ও পোল্যান্ডের আকাশসীমায় প্রবেশ করলে সেগুলো গুলি করে ভূপাতিত করা হয়। এই ঘটনাগুলো ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে রাশিয়া ন্যাটোর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও রাজনৈতিক ঐক্য পরীক্ষা করতে পারে, এমন উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।

এদিকে বৃহস্পতিবার রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অভিযোগ করেছে, ইউক্রেনকে এমন প্রযুক্তি সরবরাহ করে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স ‘আগুন নিয়ে খেলছে, যার মাধ্যমে ইউক্রেন রাশিয়ার ভূখণ্ডের আরও গভীরে দীর্ঘপাল্লার হামলা চালাতে সক্ষম হচ্ছে। রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র আরও হুমকি দিয়ে বলেছেন, ইউক্রেনকে যুক্তরাজ্যের সামরিক সহায়তার প্রতিশোধ হিসেবে রাশিয়া ইউক্রেনের ভেতরে এবং ইউক্রেনের বাইরেও ব্রিটিশ সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাতে পারে।