হোম > বিশ্ব > যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই শেষ হবে ইরান যুদ্ধ: ট্রাম্প

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: এএফপি

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, আগামী নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন শেষ হওয়ার পরপরই ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ শেষ হবে বলে তিনি মনে করেন। গতকাল বুধবার সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘আমি মনে করি, নির্বাচনের পরপরই যুদ্ধ শেষ হবে।’ তাঁর দাবি, ইরান ‘আর বেশি দিন টিকে থাকতে পারবে না।’ একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, ইরান নির্বাচনকে প্রভাবিত করার জন্য ‘মরিয়া হয়ে চেষ্টা করছে।’ খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।

তবে ট্রাম্পের এমন আশাবাদের পরও মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, ট্রাম্পের শীর্ষ উপদেষ্টারা ব্যক্তিগতভাবে সতর্ক করছেন যে, যুদ্ধ তাঁর প্রেসিডেন্টের মেয়াদের বাকি দুই বছর পর্যন্তও চলতে পারে।

ইরানের অর্থনীতিকে চাপে ফেলার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ওয়াশিংটন। এর মধ্যেই গতকাল বুধবার আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) পরিচালনা পর্ষদ ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ‘অমান্য করার’ অভিযোগে দেশটিকে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে পাঠানোর পক্ষে ভোট দিয়েছে। কূটনৈতিক এই পদক্ষেপের ফলে তেহরানের ওপর আরও চাপ বাড়ল।

এএফপির দেখা প্রস্তাবটি ২৩-৩ ভোটে পাস হয়। আটটি দেশ ভোটদানে বিরত ছিল। রাশিয়া, চীন ও নাইজার প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দিয়েছে। জাতিসংঘের পরমাণু পর্যবেক্ষণ সংস্থায় ইরানের প্রতিনিধি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের চাপের কারণে প্রস্তাবটি পাস হয়েছে। তিনি বলেন, এর ‘কোনো ভিত্তি নেই এবং এটি কোনো ফল বয়ে আনবে না।’

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু আবারও দাবি করেছেন, ইরান পতনের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে। গতকাল বুধবার দক্ষিণ সিরিয়ায় ইসরায়েলি সেনাদের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় তিনি বলেন, ‘মূল কাজ হলো ইরানের সন্ত্রাসী শাসনব্যবস্থাকে উৎখাত করা। আমরা এর খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছি।’ দক্ষিণ সিরিয়ার ওই এলাকায় ইসরায়েল তাদের ভাষায় একটি ‘নিরাপত্তা অঞ্চল’ দখল করে রেখেছে।

এদিকে, গত মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী ইরানের পাঁচটি তেলবাহী ট্যাংকার ধ্বংস করার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সর্বশেষ দফার লড়াই শুরু হয়। মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ট্যাংকারগুলোতে হামলা চালানোর আগে তাদের ক্রুদের ‘জাহাজ ছেড়ে যেতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল’।

মঙ্গলবার কলম্বিয়া সফরের সময় সাংবাদিকদের মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, ‘ইরান মার্কিন নৌযানগুলোতে হামলার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তারা যতবার এটি করবে বা করার চেষ্টা করবে, ততবারই তাদের ট্যাংকার হারাতে হবে। আর আমি মনে করি, আজও আপনারা এরকম ঘটনা দেখতে পাবেন।’

ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই হরমুজ প্রণালির ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার দাবি করে আসছে তেহরান। এর ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দিয়ে জাহাজ চলাচল কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করার আগে জাহাজগুলোকে ইরানের কাছ থেকে অনুমতি নিতে এবং ট্রানজিট ফি বা পারাপারের ফি দিতে হচ্ছে।