হোম > বিশ্ব > যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা

ইরানে থেকে গিয়ে দেশটির তেলের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্প

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: এএফপি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র চাইলে ইরানে থেকে যেতে পারে এবং দেশটির তেল মার্কিন ‘নিয়ন্ত্রণে’ রাখতে পারে। এ প্রসঙ্গে তিনি ভেনেজুয়েলার বিপুল তেলসম্পদের এক-পঞ্চমাংশের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের নেওয়া উদ্যোগের সঙ্গে তুলনা করেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

আয়ারল্যান্ড সফরে গিয়ে বৈঠক করার পাশাপাশি গলফ খেলা দেখতে গিয়ে ট্রাম্প স্থানীয় সময় গতকাল আবারও বলেন, তিনি এখনো আশা করছেন—চলতি বছরেই ইরানের যুদ্ধ শেষ হবে। তবে যুক্তরাষ্ট্রে নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন বা মিডটার্ম নির্বাচনের পরপরই যুদ্ধ শেষ হতে পারে বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন।

আইরিশ ওপেন গলফ চ্যাম্পিয়নশিপে বক্তব্য দেওয়ার সময় ট্রাম্প আরও বলেন, ইরানের যুদ্ধ শেষ হলে পেট্রলের দাম ‘পাথরের মতো দ্রুত’ পড়ে যাবে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতায় তেলের বাজারেও ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। সৌদি আরবের একটি তেল পাইপলাইনে হামলার পর সোমবার তেলের দাম আবারও বাড়তে পারে বলে ধারণা করছেন তেল ব্যবসায়ীরা।

ট্রাম্প বলেন, তিনি শুধু ‘সঠিক চুক্তি’ করবেন। কোনো চুক্তি ‘ভালো না হলে’ তিনি তা করবেন না। তিনি আরও দাবি করেন, ইরান শান্তি আলোচনা করতে ‘প্রতিনিয়ত’ যোগাযোগ করছে। তবে এর আগে তেহরান ট্রাম্পের এমন দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে।

তবে এবার ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততা অব্যাহত রাখার আরেকটি সম্ভাবনার কথাও সামনে এনেছেন। এ ক্ষেত্রে তিনি আগস্টে ঘোষিত ভেনেজুয়েলা-সংক্রান্ত মার্কিন চুক্তির উদাহরণ দেন।

ট্রাম্প বলেন, ‘শেষ পর্যন্ত আমরা ইরান থেকে বের হয়ে আসব, যদি না আমরা সেখানে থেকে গিয়ে ভেনেজুয়েলার মতো তেল নিয়ন্ত্রণে রাখার সিদ্ধান্ত নিই।’ তিনি আরও বলেন, ভেনেজুয়েলা থেকে যুক্তরাষ্ট্র যে রাজস্ব পেয়েছে, তা দিয়ে ‘অনেকবার’ যুদ্ধের খরচ মেটানো সম্ভব হয়েছে।

এর আগে, ইয়েমেনে চলমান যুদ্ধ সম্পর্কে ট্রাম্প বলেছিলেন—ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা ওয়াশিংটনের সঙ্গে সংঘাতে যেতে চায় না এবং তারা যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বার্তা পাঠিয়ে এই যুদ্ধে না জড়ানোর অনুরোধ করেছে। একই সময়ে সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে তাঁর টেলিফোনে কথা হয়েছে বলেও জানান ট্রাম্প। মার্কিন গণমাধ্যম অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সৌদি যুবরাজ হুতিদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার অনুরোধ করলেও ট্রাম্প তা নাকচ করে দিয়েছেন।

ট্রাম্পের এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন মধ্যপ্রাচ্যে ছয় মাস ধরে চলা যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের প্রভাবে পুরো অঞ্চল অস্থির হয়ে উঠেছে। হরমুজ প্রণালিতে ইরানের অবরোধের কারণে সৌদি আরবের তেল রপ্তানির বড় অংশ এখন বাব এল-মান্দেব ও লোহিত সাগরনির্ভর। তবে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথের বড় অংশের নিয়ন্ত্রণ এখন হুতিদের হাতে চলে যাওয়ায় নতুন করে বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

গত শনিবার আয়ারল্যান্ডের ডাবলিন সফরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ‘হুতিরা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। তারা আমাদের সঙ্গে যুদ্ধ করতে চায় না। তারা চায় না আমরা তাদের বিরুদ্ধে যাই।’ তিনি আরও বলেন, ‘সবকিছু ঠিকঠাক হয়ে যাবে।’ একই সঙ্গে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে নিজের ‘বন্ধু’ বলেও উল্লেখ করেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।

তবে ট্রাম্প তাঁর বক্তব্যে হুতিদের সঙ্গে যোগাযোগের ধরন, সময় কিংবা আলোচনার বিষয়বস্তু সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানাননি। হুতি গোষ্ঠীর পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করা হয়নি।