বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের অভিবাসী ভিসা স্থগিত
যুক্তরাষ্ট্র ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসী (ইমিগ্র্যান্ট) ভিসাপ্রক্রিয়াকরণ সাময়িকভাবে স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, ২১ জানুয়ারি থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে। এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়ছে লাতিন আমেরিকা, ক্যারিবীয় ও বলকান অঞ্চল এবং দক্ষিণ এশিয়া, আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক দেশ। তালিকায় বাংলাদেশ, পাকিস্তান, নেপাল, আফগানিস্তান, ইরান, নাইজেরিয়া, মিসরসহ ৭৫টি দেশের নামও রয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, গত নভেম্বর মাসে জারি করা একটি নির্বাহী আদেশের ধারাবাহিকতায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ওই নির্দেশনায় এমন অভিবাসীদের ক্ষেত্রে কঠোর যাচাইয়ের কথা বলা হয়, যাঁরা ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য আর্থিক বোঝা হয়ে উঠতে পারেন।
পররাষ্ট্র দপ্তরের বিবৃতিতে বলা হয়, ট্রাম্প প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসনব্যবস্থার অপব্যবহার বন্ধ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। যাঁরা কল্যাণ সুবিধা নিয়ে মার্কিন জনগণের সম্পদ ভোগ করতে চান, তাঁদের প্রবেশ ঠেকানো হবে।
কীভাবে কার্যকর হবে নিষেধাজ্ঞা
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বলছে, সংশ্লিষ্ট দেশের নাগরিকেরা ভিসার আবেদন জমা দিতে ও সাক্ষাৎকারে অংশ নিতে পারবেন। তবে কোনো অভিবাসী ভিসা অনুমোদন বা ইস্যু করা হবে না। স্থগিতাদেশ কবে প্রত্যাহার হবে—সে বিষয়েও কোনো সময়সীমা জানানো হয়নি।
তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যতিক্রম হলো—যাঁরা দ্বৈত নাগরিক এবং নিষিদ্ধ তালিকার বাইরে থাকা কোনো দেশের বৈধ পাসপোর্ট ব্যবহার করে আবেদন করবেন, তাঁরা এই স্থগিতাদেশের আওতায় পড়বেন না।
কোন ভিসা এই সিদ্ধান্তের আওতায় পড়ছে না
এই সিদ্ধান্ত শুধু অভিবাসী (পারমানেন্ট রেসিডেন্ট) ভিসার জন্য প্রযোজ্য। এর বাইরে যে ভিসাগুলো স্থগিত হচ্ছে না, সেগুলো হলো—ট্যুরিস্ট ভিসা, বিজনেস ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা ও অস্থায়ী বা নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা।
কোন কোন অভিবাসী ভিসা ক্যাটাগরি স্থগিত হচ্ছে
যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন ধরনের ইমিগ্র্যান্ট বা অভিবাসী ভিসা দেয়। স্থগিতের তালিকায় প্রথমেই রয়েছে পরিবারভিত্তিক অভিবাসী ভিসা। এর আওতায়—মার্কিন নাগরিকের স্বামী/স্ত্রীর ভিসা (আইআর-১, সিআর-১), বাগদত্ত/বাগদত্তা ভিসা (কে-১), মার্কিন নাগরিকের পরিবারের সদস্যদের ভিসা (আইআর-২, আইআর-৫, এফ-১, এফ-৩ ও এফ-৪), গ্রিনকার্ডধারীর পরিবারের সদস্যদের ভিসা (এফ-২এ, এফ-২বি) এবং শিশু দত্তক-সংক্রান্ত ভিসা (আইআর-৩, আইআর-৪, আইএইচ-৩ ও আইএইচ-৪)।
এরপর রয়েছে কর্মসংস্থানভিত্তিক অভিবাসী ভিসা। এর আওতায় রয়েছে—দক্ষ ও অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত কর্মী ভিসা (ইবি-১, ইবি-২ ও ইবি-৩), বিনিয়োগভিত্তিক অভিবাসী ভিসা (ইবি-৫), বিশেষ অভিবাসী ভিসা (ইবি-৪), ধর্মীয় কর্মীদের ভিসা (এসডি, এসআর), ইরাক ও আফগান দোভাষী/অনুবাদক ভিসা (এআই) এবং মার্কিন সরকারের হয়ে কাজ করা ইরাকিদের বিশেষ ভিসা (এসকিউ)।
এ ছাড়া অন্যান্য অভিবাসী ভিসার মধ্যে রয়েছে—ডাইভারসিটি ভিসা বা ডিভি লটারি ভিসা এবং রিটার্নিং রেসিডেন্ট ভিসা বা এসবি।
প্রসঙ্গত, মার্কিন সরকার অভিবাসীদের জন্য খাদ্য, স্বাস্থ্যসেবা, আবাসনসহ বিভিন্ন ধরনের সহায়তা দেয়। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যে সরকারি সহায়তা কর্মসূচিতে বড় ধরনের জালিয়াতির ঘটনা সামনে আসে। এরপরই এমন কঠোর পদক্ষেপ নেয় স্টেট ডিপার্টমেন্ট। এর লক্ষ্য, আবেদনকারীরা যাতে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে এসে সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল না হন।
তবে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে ফিফা বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার মাত্র পাঁচ মাস আগে এমন সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও আন্তর্জাতিক নীতির প্রতি নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে। ইতিমধ্যে অভিবাসী, শরণার্থী, বিদেশি শিক্ষার্থী ও ভিসা আবেদনকারীদের ওপর ধারাবাহিক কড়াকড়ির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের অতিথিপরায়ণতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হচ্ছে। এর আগে গত সপ্তাহে বাংলাদেশসহ ৩৮টি দেশের নাগরিকদের জন্য নতুন ভিসা বন্ডের নিয়ম চালু করে যুক্তরাষ্ট্র।
তথ্যসূত্র: ইউএস স্টেট ডিপার্টমেন্ট ও আল-জাজিরা