হোম > বিশ্ব > যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা

অন্তর্কোন্দল ও ইসরায়েল লবির বিপুল বিনিয়োগ ডিঙিয়ে জয়ী হলেন আয়েশা ওয়াহাব

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

আফগান বংশোদ্ভূত আয়েশা ওয়াহাব। ছবি: সংগৃহীত

ডেমোক্রেটিক পার্টির অভ্যন্তরীণ তীব্র কোন্দল এবং ইসরায়েলপন্থী শক্তিশালী লবি গ্রুপের কোটি কোটি ডলারের প্রচারণাকেও ব্যর্থ করে দিলেন প্রগতিশীল রাজনীতিবিদ আয়েশা ওয়াহাব। ক্যালিফোর্নিয়ার একটি আসনের বিশেষ উপনির্বাচনে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের (কংগ্রেস) সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন তিনি।

ক্যালিফোর্নিয়ার ১৪ নম্বর ইস্ট বে সংসদীয় আসনের এই বিশেষ নির্বাচনে আয়েশা ওয়াহাব তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী মেলিসা হার্নান্দেজকে পরাজিত করেন। যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ওঠার পর গত এপ্রিলে ওই আসনের তৎকালীন কংগ্রেস সদস্য এরিক সোয়ালওয়েল পদত্যাগ করায় এই উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তবে সোয়ালওয়েল তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

প্রাথমিক বাছাই বা প্রাইমারি নির্বাচনে আয়েশা ওয়াহাব তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ও বে এরিয়া র‍্যাপিড ট্রানজিট (বার্ট)-এর পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি মেলিসা হার্নান্দেজের চেয়ে ২০ পয়েন্টের বেশি ব্যবধানে এগিয়ে ছিলেন। তবে চূড়ান্ত বিশেষ নির্বাচনে তাঁদের ব্যবধান উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসে।

প্রায় ৯৫ শতাংশ ভোট গণনার চূড়ান্ত ফলাফলে দেখা যায়, ওয়াহাব মাত্র ৬ পয়েন্টের কিছু বেশি ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করেছেন।

সাবেক ফস্টার কেয়ারের (পালক গৃহ) শিশু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের আইনপ্রণেতা হয়ে ওঠা আয়েশা ওয়াহাব জয়লাভের পর এক বিবৃতিতে বলেন, ‘যে অঞ্চল আমাকে গড়ে তুলেছে, আমি সেই অঞ্চলের মানুষের অধিকারের জন্য লড়ে যাব। ফস্টার কেয়ার থেকে কংগ্রেসে পৌঁছানোর এই পথচলা প্রমাণ করে “আমেরিকান ড্রিম” বা মার্কিন স্বপ্নের বাস্তবতা।’

উল্লেখ্য, আয়েশা ওয়াহাব ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্য আইনসভার প্রথম মুসলিম ও আফগান-আমেরিকান নারী সদস্য।

ইসরায়েলপন্থী লবির বিপুল অর্থ জলে গেল

নির্বাচনের প্রাথমিক পর্বে আয়েশা ওয়াহাব বড় ব্যবধানে এগিয়ে থাকলেও শেষ মুহূর্তে সমীকরণ অনেকটাই বদলে যায় ইসরায়েলপন্থী শক্তিশালী লবিং সংস্থা ‘আমেরিকান ইসরায়েল পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কমিটি’ (আইপ্যাক / AIPAC)-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক তহবিল বা ‘সুপার প্যাকগুলোর’ (Super PACs) বিপুল অর্থায়নের কারণে।

রাজনৈতিক তহবিল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ‘ট্র্যাক আইপ্যাক’-এর তথ্য অনুযায়ী, মেলিসা হার্নান্দেজের পক্ষে প্রচারণা চালাতে এবং আয়েশা ওয়াহাবের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক বিজ্ঞাপন প্রচার করতে আইপ্যাক-সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো প্রায় ৬৪ লাখ (৬.৪ মিলিয়ন) মার্কিন ডলার ব্যয় করেছে।

বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাঁর কাজের রেকর্ডকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানকে জানান আয়েশা ওয়াহাব। তিনি এই ঘটনাকে ‘নির্বাচন প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ এবং অর্থ দিয়ে আসন কিনে নেওয়ার চেষ্টা’ বলে অভিহিত করেন।

ডেমোক্রেটিক পার্টির অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েন

বাইরের লবিং গ্রুপের পাশাপাশি ডেমোক্রেটিক পার্টির ভেতরের সংঘাতও এই নির্বাচনকে নাটকীয় মোড় দেয়। স্টেট সিনেটর ওয়াহাব অঙ্গরাজ্য ডেমোক্রেটিক পার্টি, প্রগতিশীল গোষ্ঠী ‘আওয়ার রেভোলিউশন’, স্থানীয় প্রধান শ্রমিক সংগঠনগুলো এবং ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল রব বোন্টার আনুষ্ঠানিক সমর্থন পান।

অন্যদিকে, নির্বাচনের ঠিক শেষ দিনগুলোতে ক্যালিফোর্নিয়ার ডেমোক্রেটিক প্রতিনিধি দলের প্রধান ও প্রভাবশালী কংগ্রেস সদস্য জোহি লফগ্রেন প্রকাশ্যে মেলিসা হার্নান্দেজকে সমর্থন দেন। দ্রুত সময়ের মধ্যে আসনটি পূরণের জন্য একজন সাময়িক বা অন্তর্বর্তীকালীন প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তাবে ওয়াহাব সমর্থন না দেওয়ায় লফগ্রেন তাঁর বিরোধিতা করেন বলে জানা গেছে।

তবে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রগতিশীল অংশ শুরু থেকেই ওয়াহাবের পক্ষে শক্ত অবস্থান নেয়। ক্যালিফোর্নিয়া ডেমোক্রেটিক প্রোগ্রেসিভ ককাসের সাবেক চেয়ারম্যান আমার শেরগিল লফগ্রেনের পদক্ষেপের কড়া সমালোচনা করে এটিকে ‘বিস্ময়কর’ বলে উল্লেখ করেন।

নির্বাচনের ফল আসার পর এক বিবৃতিতে হার্নান্দেজ জানান, তিনি তাঁর এই লড়াইয়ে গর্বিত এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বার্থে তাঁর কাজ চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।

যৌন কেলেঙ্কারির জেরে খালি হওয়া সোয়ালওয়েলের সাবেক এই আসনে মেয়াদের অবশিষ্ট সময় আয়েশা ওয়াহাব প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।