কুখ্যাত অর্থলগ্নিকারী ও দণ্ডপ্রাপ্ত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইন সম্পর্কিত যুক্তরাষ্ট্র সরকারের প্রকাশ করা লাখ লাখ নথিতে তিব্বতি আধ্যাত্মিক নেতা দালাই লামার নাম বহুবার এসেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে এই আলোচনার প্রেক্ষাপটে রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) দালাই লামার দপ্তর জানিয়েছে, তাঁর সঙ্গে এপস্টেইনের কখনোই সাক্ষাৎ হয়নি।
এর আগে চীনা রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত কিছু প্রতিবেদনে এপস্টেইন নথিতে দালাই লামার নাম একাধিকবার উল্লেখ থাকার দাবি করা হয়।
দালাই লামার দপ্তর বিবৃতিতে বলেছে—সাম্প্রতিক কিছু সংবাদ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে দালাই লামাকে জেফ্রি এপস্টেইনের সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। আমরা দ্ব্যর্থহীনভাবে নিশ্চিত করছি, দালাই লামা কখনোই জেফ্রি এপস্টেইনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেননি এবং তাঁর পক্ষ থেকে বা তাঁর হয়ে কোনো ধরনের বৈঠক বা যোগাযোগের অনুমতিও দেওয়া হয়নি।
গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ (ডিওজে) এপস্টেইন সংক্রান্ত তদন্তের সর্বশেষ ধাপের নথি প্রকাশ করে। এতে ৩০ লাখেরও বেশি নথি, ছবি ও ভিডিও রয়েছে। বার্তা সংস্থা এএফপির অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এসব নথিতে দালাই লামার নাম ১৫০–এর বেশি বার এসেছে, তবে কোথাও তাঁর সঙ্গে এপস্টেইনের সাক্ষাৎ বা সরাসরি যোগাযোগের কোনো প্রমাণ নেই। নথিতে কারও নামের উল্লেখ থাকলেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কোনো অনিয়মের প্রমাণ হয় না—এ কথাও প্রতিবেদনে স্পষ্ট করা হয়েছে।
এদিকে চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিজিটিএন দাবি করেছে, এপস্টেইন ফাইলসে ‘দালাই লামা’ নামটি অন্তত ১৬৯ বার এসেছে। মাধ্যমটি একটি ইমেইলের কথা উল্লেখ করে, যেখানে অজ্ঞাত এক ব্যক্তি এপস্টেইনকে লিখেছেন—তিনি এমন একটি অনুষ্ঠানে যাওয়ার কথা ভাবছেন, যেখানে দালাই লামার উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। পরে আরেকটি ইমেইলে ওই ব্যক্তি লেখেন, তিনি দালাই লামার অনুষ্ঠানে যাচ্ছেন। তবে এই ইমেইলগুলোতে দালাই লামার সঙ্গে ওই ব্যক্তির প্রকৃত সাক্ষাৎ বা দেখা হওয়ার কোনো উল্লেখ নেই।
৯০ বছর বয়সী নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী দালাই লামা ১৯৫৯ সালে চীনা সেনাবাহিনীর দমন-পীড়নের পর তিব্বতের লাসা ত্যাগ করে ভারতে আশ্রয় নেন। বর্তমানে তিনি ধর্মশালায় বসবাস করছেন এবং তিব্বতিদের অধিক স্বায়ত্তশাসনের পক্ষে কাজ করছেন—যা চীন বরাবরই বিরোধিতা করে আসছে।
উল্লেখ্য, জেফ্রি এপস্টেইন ২০০৮ সালে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের পতিতাবৃত্তিতে প্রলুব্ধ করার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হন। ২০১৯ সালে যৌন পাচারের অভিযোগে কারাগারে থাকা অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। এপস্টেইন–সংক্রান্ত নথি প্রকাশের পর বিশ্বের বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি প্রশ্নের মুখে পড়েছেন; কেউ কেউ পদত্যাগও করেছেন, আবার কেউ তদন্তের মুখে আছেন।