হোম > বিশ্ব > যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা

এইচ–১বি কর্মীদের স্বামী-স্ত্রীর কাজের অনুমতি বাতিলের প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রে, সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হবে ভারতীয়রা

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

এইচ-১বি কর্মসূচি মার্কিন নাগরিকদের স্টেম খাতে ক্যারিয়ার গড়ার আগ্রহ কমিয়ে দিচ্ছে। ছবি: আনাদুলো এজেন্সি

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের নতুন এক প্রস্তাবের কারণে দেশটিতে বৈধভাবে কাজ করার অধিকার হারাতে পারেন হাজারো এইচ–৪ ভিসাধারী। এর মাধ্যমে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চালু থাকা একটি নীতি বাতিল হয়ে যেতে পারে। এইচ-৪ ভিসা হলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি নন–ইমিগ্র্যান্ট বা অ-অভিবাসী ভিসা, যা এইচ-১ বি, এইচ-১ বি ১, এইচ-২ এ, এইচ-২বি অথবা এইচ-৩ ভিসাধারীদের ওপর নির্ভরশীল নিকট স্বজনদের দেওয়া হয়।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন এইচ–১বি ভিসাধারীদের স্বামী বা স্ত্রীদের কাজের অনুমতি বন্ধ করতে চায়। প্রস্তাবটি কার্যকর হলে, এটি এমন এক নিয়মকে উল্টে দেবে, যার আওতায় যোগ্য এইচ–৪ ভিসাধারীরা গত ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে কাজ করতে পারছেন।

এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে ভারতীয় পেশাজীবী পরিবারগুলোর। কারণ এইচ–৪ কাজের অনুমতিপত্রধারীদের বড় একটি অংশ ভারতীয় নাগরিক। ২০১৪ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত এইচ–৪ এমপ্লয়মেন্ট অথোরাইজেশন ডকুমেন্ট (ইএডি) বা কর্মসংস্থানের অনুমতিপত্রের আবেদনের তথ্য অনুযায়ী, অনুমোদিত আবেদনগুলোর ৯৩ শতাংশই পেয়েছিলেন ভারতীয় নাগরিকরা। আর এসব ভারতীয় অনুমতিপত্রধারীর ৯৪ শতাংশ ছিলেন নারী।

প্রস্তাবটি রেজইনফো ডট গভে (Reginfo. gov) অফিস অব ইনফরমেশন অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্সের অধীনে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এর শিরোনাম ‘এইচ-৪ নির্ভর স্বামীদের বা স্ত্রীদের কাজের অনুমতির জন্য যোগ্য অনাগরিকদের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে।’ প্রস্তাবটি মার্কিন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির (ডিএইচএস) দীর্ঘমেয়াদি নিয়ন্ত্রক পরিকল্পনায় যুক্ত করা হয়েছে। তবে এটি কবে প্রকাশ করা হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো তারিখ নির্ধারণ করা হয়নি।

ডিএইচএস-এর নোটিশে বলা হয়েছে, ‘ডিএইচএস কিছু এইচ–১বি নন-ইমিগ্র্যান্ট কর্মীর এইচ–৪ নির্ভরশীল স্বামী বা স্ত্রীদের (সি) (২৬) শ্রেণির অধীনে কর্মসংস্থানের অনুমতি চাওয়ার যোগ্য বিদেশি নাগরিকদের শ্রেণি থেকে বাদ দেওয়ার প্রস্তাব করছে।’

ডিএইচএস-এর প্রস্তাবে আরও বলা হয়েছে, ‘এই প্রস্তাব ২০১৫ সালের চূড়ান্ত নিয়ম ‘এমপ্লয়মেন্ট অথোরাইজেশন ফর সার্টেইন এইচ–৪ ডিপেনডেন্ট স্পাউসেস’-এর মাধ্যমে করা পরিবর্তনগুলো বাতিল করবে এবং এইচ–৪ নির্ভরশীল স্বামী বা স্ত্রীদের কর্মসংস্থানের অনুমতি চাওয়ার যোগ্যতা না দেওয়ার ক্ষেত্রে ডিএইচএস-এর দীর্ঘদিনের নীতি পুনর্বহাল করবে।’

তবে এটি এখনো শুধু একটি প্রস্তাব, চূড়ান্ত নিয়ম নয়। ফলে এর মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে এইচ–৪ ভিসাধারীদের কাজের অনুমতি বন্ধ হচ্ছে না। নিয়মটি কার্যকর হওয়ার আগে ডিএইচএস-কে প্রথমে ফেডারেল রেজিস্টারে একটি আনুষ্ঠানিক নোটিশ অব প্রপোজড রুলমেকিং প্রকাশ করতে হবে। এরপর জনগণ ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে মতামত দেওয়ার সুযোগ দিতে হবে। সবশেষে ডিএইচএস-কে একটি চূড়ান্ত নিয়ম জারি করতে হবে।

এই প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত বৈধ ইএডি থাকা এইচ–৪ ভিসাধারীরা বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী কাজ চালিয়ে যেতে পারবেন। এইচ–৪ ইএডি ব্যবস্থা বাতিলের চেষ্টা অবশ্য এবারই প্রথম নয়। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে, ২০১৭ সালে ডিএইচএস নির্দিষ্ট কিছু এইচ–৪ ভিসাধারীর কর্মসংস্থানের অনুমতি বাতিলের প্রস্তাব দিয়েছিল। তবে সেই পরিকল্পনা কখনো চূড়ান্ত করা হয়নি এবং ২০২১ সালে তা প্রত্যাহার করা হয়।

এইচ–৪ ইএডি বাতিলের এই উদ্যোগ এইচ–১বি ভিসাকে লক্ষ্য করে ট্রাম্প প্রশাসনের নেওয়া কয়েকটি পদক্ষেপের একটি। ডিএইচএস নতুন এইচ–১বি কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে ১ লাখ ৩ হাজার ২৬৫ ডলার ফি আরোপেরও প্রস্তাব করেছে। একই সঙ্গে হোয়াইট হাউস এইচ–১বি কর্মীদের চাকরি হারানোর পর নতুন নিয়োগকর্তা খুঁজে নেওয়ার জন্য বর্তমানে যে ৬০ দিনের সময়সীমা পান, সেটিও তুলে দিতে চায়।

এইচ–৪ ভিসা নিজে কোনো কাজের ভিসা নয়। এইচ–১বি ভিসাধারীর স্বামী, স্ত্রী বা সন্তানদের এই ভিসা দেওয়া হয় মূলত পরিবারের সদস্যদের যুক্তরাষ্ট্রে একসঙ্গে বসবাসের সুযোগ দেওয়ার জন্য। কোনো এইচ–৪ ভিসাধারী বৈধভাবে চাকরি করতে চাইলে আলাদা একটি কাজের অনুমতিপত্র বা (ইএডি) প্রয়োজন হয়। তবে এই সুবিধা কেবল সেই সব এইচ–৪ স্বামী বা স্ত্রীদের জন্য পাওয়া যায়, যাদের এইচ–১বি ভিসাধারী স্বামী বা স্ত্রী ইতোমধ্যে গ্রিন কার্ড পাওয়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছেন।

ইএডি না থাকলে এইচ–৪ ভিসাধারীরা বৈধভাবে কাজ করতে পারেন না। তবে তারা যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করতে পারেন, ড্রাইভিং লাইসেন্স নিতে পারেন এবং ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে পারেন। এই প্রস্তাবের প্রভাব ভারতীয় এইচ–১বি পরিবারগুলোর ওপর বিশেষভাবে বেশি পড়তে পারে। কারণ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ অর্থবছরে অনুমোদিত এইচ–১বি পিটিশনের প্রায় ৭১ শতাংশই ভারতীয় নাগরিকদের জন্য ছিল।