হোম > বিশ্ব > যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা

সমুদ্রতলের কেব্‌ল রক্ষায় এককাট্টা যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়া

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

প্রতীকী ছবি

আধুনিক বিশ্বে জ্বালানি ও তথ্য (ডেটা) সরবরাহের অন্যতম মাধ্যম সমুদ্রগর্ভের পাইপলাইন এবং সাবমেরিন কেব্‌ল। সাম্প্রতিক ইরান যুদ্ধ ও রাশিয়া-চীনের গোপন নজরদারিতে সমুদ্রগর্ভের পাইপলাইন ও সাবমেরিন কেব্‌ল নিয়ে বেশ চিন্তায় পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া এবং যুক্তরাজ্য। তবে বাড়তে থাকা হুমকি মোকাবিলায় বেশ বড় পদক্ষেপও নিয়েছে তিন দেশের ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা জোট ‘অকাস’।

জানা গেছে, এই গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ রক্ষায় তারা যৌথভাবে নতুন মানববিহীন সাবমেরিন বা আন্ডারসি ড্রোন তৈরির পরিকল্পনা করছে।

সিঙ্গাপুরে শাংগ্রি-লা ডায়ালগের ফাঁকে তিন দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের একটি বৈঠকে এই পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করা হয়। আগামী বছর থেকে সমুদ্রতলে এই চালকবিহীন ডুবোযানগুলো সরবরাহ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, পশ্চিমা দেশগুলো সমুদ্রতলের এই কেব্‌ল ও পাইপলাইনে রাশিয়া-চীনের পক্ষ থেকে বড় ধরনের নাশকতার ঝুঁকি দেখছে। একই সঙ্গে পারস্য উপসাগরের অগভীর পানির মধ্য দিয়ে যাওয়া ডেটা নেটওয়ার্কগুলোকে ইরান নিজের স্বার্থে ব্যবহার বা ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে বলেও তারা উদ্বিগ্ন।

বর্তমানে বিশ্বজুড়ে প্রায় ৫৭০টি সক্রিয় (৮০টি পরিকল্পিত) সাবমেরিন কেব্‌ল রয়েছে। এসব সাবমেরিন ব্যবহার করে বিভিন্ন মহাদেশের মোট টেলিযোগাযোগ ও ইন্টারনেট ডেটার ৯৫ শতাংশ থেকে ৯৯ শতাংশ সরবরাহ করা হয়। স্যাটেলাইটের তুলনায় এই ফাইবার অপটিক কেব্‌লগুলোর ডেটা পরিবহনের সক্ষমতা বহুগুণ বেশি। এর পাশাপাশি সমুদ্রের তলদেশ দিয়ে এখন গ্রিন এনার্জি বা বিদ্যুৎ পরিবহনের কেব্‌ল নেটওয়ার্কও ছড়িয়ে পড়ছে।

সাম্প্রতিক সময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ডেটা সেন্টার বেশি হওয়ার কারণে এই কেব্‌ল নেটওয়ার্কের গুরুত্ব আরও বহুগুণ বেড়ে গেছে। সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে বেশ কিছু বড় ডেটা সেন্টার তৈরি হচ্ছে, যেগুলোর নিরাপত্তার জন্য এবং গ্রাহকদের কাছে ডিজিটাল পরিষেবা পৌঁছে দিতে এই সমুদ্রগর্ভের ফাইবার অপটিক কেব্‌লগুলোর ওপরই নির্ভর করতে হয়।

সিঙ্গাপুরে শাংগ্রি-লা ডায়ালগের ফাঁকে বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে ‘অকাস’ জোটের তিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী। ছবি: এক্স

হরমুজ প্রণালির তলদেশ দিয়ে গোটা ছয়েক প্রধান সাবমেরিন কেব্‌ল গেছে, যা বৈশ্বিক ই-কমার্স, ক্লাউড সার্ভিস, ব্যাংকিং ও যোগাযোগের সিংহভাগ ডেটা ট্রাফিক বহন করে। মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমগুলো এই করিডরের দুর্বলতাকে সামনে আনছে। সম্প্রতি ইরানের আধা সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ হরমুজ প্রণালির তলদেশ দিয়ে যাওয়া কেব্‌লগুলোর একটি মানচিত্র প্রকাশ করে সেগুলোকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বর্ণনা করেছে। গতকাল শনিবারও ইরানের আরেকটি আধা সরকারি মাধ্যম দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়া সমস্ত ফাইবার অপটিক কেব্‌লকে ইরানের টোলের আওতাভুক্ত করা উচিত।

একইভাবে লোহিতসাগরের তলদেশ দিয়েও ইউরোপ, এশিয়া ও আফ্রিকার মধ্যে সিংহভাগ ডেটা ট্রাফিক পরিবাহিত হয়। ফলে হরমুজ প্রণালি বা লোহিতসাগর—যেকোনো অঞ্চলেই নৌ যোগাযোগ কিংবা সাবমেরিন কেব্‌লে আঘাত হানা হলে তা মুহূর্তের মধ্যে বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনবে।

এই পরিস্থিতিতে ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তাঝুঁকি মোকাবিলায় বড় পদক্ষেপ নিয়েছে ‘অকাস’ জোটভুক্ত তিন দেশ যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাজ্য।

সম্মেলনে অস্ট্রেলিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী রিচার্ড মার্লেস সমুদ্রের তলদেশকে একটি ‘যুদ্ধক্ষেত্র’ হিসেবে অভিহিত করেন। সমুদ্রগর্ভের ইন্টারনেট কেব্‌লগুলোকে আধুনিক সভ্যতার ধমনি আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, এখন প্রায়ই সমুদ্রতলের কেব্‌লগুলো কাটা বা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এতে অস্ট্রেলিয়ার মতো দ্বীপরাষ্ট্রগুলো চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। গত ১৮ মাসে সমুদ্রের তলদেশের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগুলোতে একের পর এক হামলার ঘটনা ঘটেছে।

যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জন হিলি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘আমাদের কেব্‌ল ও পাইপলাইন নিয়ে আপনাদের তৎপরতা আমরা লক্ষ করছি। এগুলোতে কোনো ধরনের আঘাত সহ্য করা হবে না এবং এর পরিণতি হবে অত্যন্ত ভয়াবহ।’

উল্লেখ্য, গত মাসে উত্তর আটলান্টিকে সমুদ্রের তলদেশের কেব্‌লগুলোতে গোপনে নজরদারি চালানো তিনটি রুশ সাবমেরিন ট্র্যাক করেছে যুক্তরাজ্য।

অকাস জোট জানিয়েছে, এই নতুন চালকবিহীন ডুবোযান বা আন্ডারসি ড্রোনগুলোতে অত্যাধুনিক সেন্সর ও অস্ত্র ব্যবস্থা যুক্ত থাকবে। এটি তিন দেশের নৌবাহিনীর নজরদারি, সাবমেরিনবিরোধী যুদ্ধ ও সমুদ্রের মাইন মোকাবিলার সক্ষমতাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেন, নতুন চালকবিহীন ডুবোযানগুলো অত্যন্ত অভিযোজনক্ষম হবে এবং সমুদ্রতলের বিভিন্ন ধরনের সামরিক ও নিরাপত্তা অভিযানে ব্যবহৃত হবে।

কেনেডি সেন্টার থেকে ট্রাম্পের নাম সরানোর নির্দেশ আদালতের

যুক্তরাষ্ট্র ইরাকে খুব বাজে কাজ করেছে, ইরানেও যাওয়া উচিত হয়নি: ট্রাম্প

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ‘চুক্তি হচ্ছেই’, খসড়ায় পরিবর্তনের অনুরোধ ট্রাম্পের

১২০ বছর পর লাইব্রেরিতে ফিরল আগুন থেকে বেঁচে যাওয়া বিরল এক বই

এশীয় মিত্রদের ভুলে যায়নি যুক্তরাষ্ট্র: হেগসেথ

ইরান ইস্যুতে ‘সিচুয়েশন রুমে’ ট্রাম্পের দুই ঘণ্টার বৈঠক, হয়নি কোনো সিদ্ধান্ত

চুক্তি না হলে ইরানে আবার হামলা চালাতে প্রস্তুত যুক্তরাষ্ট্র: হেগসেথ

বিশ্বজুড়ে অনলাইনে আত্মহত্যার বিষ বিক্রির কথা স্বীকার অভিযুক্তের

ট্রাম্পের ১.৮ বিলিয়ন ডলারের তহবিল আটকে দিলেন বিচারক

উড্ডয়নের আগেই বিস্ফোরিত হলো বেজোসের রকেট