হোম > বিশ্ব > যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা

প্রাণের ভয়ে বাইরে বের হন না ট্রাম্পের ছোট ছেলে

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২০ বছর বয়সী ছেলে ব্যারন ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

বাবা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দ্বিতীয় বারের মতো হোয়াইট হাউসে তিনি। এর মধ্যে গত দুই বছরে তিনবার হত্যাচেষ্টা। প্রথম মেয়াদেও খুব একটা সুবিধার কাটেনি তাঁর। এসব দেখে বড় হওয়া ছেলে ২০ বছর বয়সী ছেলে ব্যারন ট্রাম্প যেন অনেকটাই নিজেকে ‘লোকচক্ষুর আড়ালে’ রাখাটা ঠিক মনে করেন। তবে কতটা কাজে আসছে এই লুকিয়ে থাকার জীবন বেছে নেওয়া তা নিয়ে প্রশ্ন জাগছেই। কারণ সম্প্রতি ইরানের কাছ থেকে হুমকি পেয়েছেন তিনি।

দ্য নিউইয়র্ক পোস্টের এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ট্রাম্পের সবচেয়ে ছোট সন্তান নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটিতে দ্বিতীয় বর্ষের (সোফোমোর ইয়ার) পড়াশোনা শেষ করছেন। এ সময়ও তিনি নিজেকে অনেকটা আড়ালে রেখেছেন। গ্রীষ্মের বেশির ভাগ সময় ব্যারন তাঁর মা ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের সঙ্গে নিউ জার্সির ট্রাম্প ন্যাশনাল গলফ ক্লাব বেডমিনস্টারে কাটিয়েছেন।

ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র সংবাদমাধ্যমটিকে বলেন, ‘সে বাইরে বের হয় না।’ আরেকটি সূত্র বলেছে, ‘ছেলেটি বেশ নির্জন জীবনযাপন করে।’

অন্য একটি সূত্র জানিয়েছে, ব্যারন জনসমক্ষে আসা একেবারেই পছন্দ করেন না এবং তা এড়িয়ে চলার চেষ্টা করেন; বাইরে এলেও খুব দ্রুত কোনো ব্যক্তিগত ও সুরক্ষিত আশ্রয়ে ফিরে যান। সূত্রটি আরও বলেন, ‘আপনি তাঁকে কোথাও ঘোরাঘুরি করতে দেখবেন না।’

দ্য নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রক্ষণশীল পরিবেশকর্মী চার্লি কার্কের সঙ্গে ব্যারনের ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়েছিল এবং কার্কের হত্যাকাণ্ডে তিনি মানসিকভাবে আঘাত পান। খবরটি তাঁর বাবাকে ফোন করে তিনিই জানান এবং বলেন, ‘বাইরে বের হলে ঠিক এই জিনিসটাই ঘটে।’

ফার্স্ট লেডি তাঁর ছেলের নিরাপত্তার বিষয়ে অত্যন্ত সতর্ক এবং ব্যারনের ব্যক্তিগত জীবনযাপনের সিদ্ধান্তকে শ্রদ্ধা করেন। মেলানিয়ার কার্যালয় সংবাদমাধ্যমটিকে জানিয়েছে, ‘সাম্প্রতিক হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে অনুরোধ করা হচ্ছে, ব্যারনের ব্যক্তিগত জীবনসংক্রান্ত কোনো তথ্য যেন কোনো প্রতিবেদনে প্রকাশ করা না হয়।’

ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ব্যারনের বয়স যখন এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে তাঁর জন্য নিয়োজিত সিক্রেট সার্ভিসের নিরাপত্তা প্রত্যাহার হওয়ার কথা ছিল, তখন মেলানিয়ার কার্যালয় হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ করে সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ব্যারনের নিরাপত্তা বাড়ানোর অনুমোদন দিতে অনুরোধ করেছিল। বাইডেন প্রশাসন সেই অনুরোধ গ্রহণ করে।

মেলানিয়ার তথ্যচিত্রের একটি অংশে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে তিনি সিক্রেট সার্ভিসের এজেন্টদের বলেন, ‘আমি জানি ব্যারন বাইরে যাবে না। আর আমি সেটিকে সম্মান করি।’

মেলানিয়াকে নিয়ে তৈরি প্রামাণ্যচিত্রের একটি অংশে দেখা যায়, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে তিনি সিক্রেট সার্ভিস এজেন্টদের উদ্দেশ্যে বলছিলেন, ‘আমি জানি ব্যারন বাইরে যাবে না এবং আমি ওর এই সিদ্ধান্তকে সম্মান করি।’

ট্রাম্পের শপথগ্রহণের আনুষ্ঠানিক কুচকাওয়াজের প্রস্তুতির সময় কথাটি বলা হয়েছিল, যেখানে ফার্স্ট ফ্যামিলি বা প্রেসিডেন্টের পরিবারকে পেনসিলভানিয়া অ্যাভিনিউ ধরে হেঁটে যাওয়ার কথা ছিল। পরে তীব্র ঠান্ডার কারণে পরিকল্পনাটি পরিবর্তন করে অনুষ্ঠানটি ঘরের ভেতরে আয়োজন করা হয়।

এ দিকে চলতি সপ্তাহের শুরুতে ট্রাম্পের পরিবারের সদস্যদের লক্ষ্য করে অস্বাভাবিক এক হুমকি দেয় ইরান। দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে ব্যারন ট্রাম্পের অবস্থান খুঁজে বের করার উপায় বর্ণনা করার পাশাপাশি ১ কোটি ডলারের (বাংলাদেশি মুদ্রায় ১২৩ কোটি ২৮ লাখ টাকা) পুরস্কার ঘোষণা করা হয়।

ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস কর্পসের (আইআরজিসি) সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমে প্রকাশিত এবং দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের চ্যানেল ৩-এ সম্প্রচারিত ভিডিওটির শিরোনাম ছিল ‘ব্যারন ট্রাম্পকে কোথায় হত্যা করা যায়’। এতে ২০ বছর বয়সী ব্যারনের চলাফেরার বিষয় তুলে ধরা ও দৃশ্যায়িত করা হয়।

ভিডিওতে দাবি করা হয়, ব্যারনকে ‘সম্পূর্ণভাবে নজরদারির মধ্যে’ রাখা হয়েছে। এমনকি সিক্রেট সার্ভিসের নজর এড়িয়ে একটি মেয়ে এক ব্যক্তিগত বৈঠকে ব্যারনের পাশে গিয়ে বসেছিল বলেও এতে দাবি করা হয়।

এর আগে গত মাসে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডিকে সরাসরি লক্ষ্য করে একটি ভিডিও প্রকাশ করেছিল। ভিডিওটির শেষ দিকে ব্যারনকে লক্ষ্যবস্তু করা হয় এবং সরাসরি হুমকি দিয়ে বলা হয়, ‘এটি কেবল শুরু। ব্যারন ট্রাম্প, আমাদের জন্য অপেক্ষা করুন।’

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে ব্যারনকে হত্যার হুমকি দিয়ে প্রচারিত ভিডিওটির বিষয়ে মার্কিন সিক্রেট সার্ভিস অবগত বলে সিএনএনের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। সিক্রেট সার্ভিসের মুখপাত্র নেট হেরিং সিএনএনকে বলেন, ‘আমরা ভিডিওটি সম্পর্কে অবগত এবং হুমকি হিসেবে বিবেচিত হতে পারে, এমন যেকোনো বিষয় আমরা তদন্ত করি।’

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, কৌশলগত নিরাপত্তার স্বার্থে সিক্রেট সার্ভিস নিরাপত্তাসংক্রান্ত গোয়েন্দা তথ্য নিয়ে আলোচনা করে না।

তবে ট্রাম্পের কনিষ্ঠ সন্তানকে হত্যার যেকোনো চক্রান্তের খবরকে ‘মিথ্যা ও ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন ইরানের নিরাপত্তাপ্রধান মোহসেন রেজাই। বৃহস্পতিবার লেবাননের ‘আল মানার’ টিভিতে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই দাবি করেন।