ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধি ও চুক্তির রূপরেখা চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে শুক্রবার হোয়াইট হাউসের ‘সিচুয়েশন রুমে’ শীর্ষ উপদেষ্টাদের নিয়ে এক জরুরি বৈঠকে বসেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী চলা এই উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকটি পরবর্তী পদক্ষেপ বা কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়া শেষ হয়েছে।
বৈঠক শুরুর আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর শর্তাবলি পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি জানিয়ে দেন, ইরানকে অবশ্যই এই মর্মে সম্মত হতে হবে যে তারা কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র বা বোমা তৈরি করবে না। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল সম্পূর্ণ অবাধ ও উন্মুক্ত করতে হবে এবং সেখানে পেতে রাখা সব সামুদ্রিক মাইন ধ্বংস করতে হবে।
ট্রাম্প তাঁর পোস্টে আরও বলেন, তিনি হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন নৌ অবরোধ তুলে নিতে প্রস্তুত। একই সঙ্গে তিনি মাটির নিচে চাপা পড়ে থাকা ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তরের কথা বলেন, যাতে তা অপসারণ ও ধ্বংস করা যায়।
তবে ওয়াশিংটনের এসব দাবির বিপরীতে তেহরানের পক্ষ থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন বক্তব্য এসেছে। ইরানের ফার্স নিউজ এজেন্সি একটি সরকারি সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, ট্রাম্পের সর্বশেষ মন্তব্যগুলো ছিল ‘সত্য ও মিথ্যার মিশ্রণ’। ইরানের দাবি, প্রস্তাবিত সমঝোতা স্মারকে পারমাণবিক উপাদান ধ্বংস করার মতো কোনো শর্ত বা বিধান রাখা হয়নি।
হোয়াইট হাউসের এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হলো, যার ঠিক এক দিন আগে মার্কিন কর্মকর্তারা দাবি করেছিলেন, দুই দেশের আলোচকেরা ৬০ দিনের একটি সমঝোতা স্মারকের খসড়া প্রস্তুত করেছেন। প্রস্তাবিত এই খসড়া চুক্তির মূল লক্ষ্য ছিল যুদ্ধবিরতির মেয়াদ ৬০ দিন বাড়িয়ে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করা।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সিচুয়েশন রুমের বৈঠকের আগপর্যন্ত খসড়া চুক্তিতে তাঁর চূড়ান্ত অনুমোদন দেননি বলে জানায় মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস। তবে শুক্রবারের এই বৈঠক শেষে বিবিসি বলছে, ইরান ইস্যুতে সিচুয়েশন রুমে ট্রাম্পের দুই ঘণ্টার বৈঠকে কোনো সিদ্ধান্তই হয়নি।
এদিকে চুক্তি নিয়ে এই টানাপোড়েনের মধ্যে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সিঙ্গাপুরে শাংরি-লা ডায়ালগে বক্তব্য দিতে গিয়ে বলেছেন, চুক্তি না হলে ইরানে পুনরায় হামলা শুরু করতে মার্কিন সামরিক বাহিনী পুরোপুরি সক্ষম এবং তাদের অস্ত্রের মজুতও পর্যাপ্ত।
প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলার মাধ্যমে এই যুদ্ধ শুরু হয়। এর জবাবে ইরানও ইসরায়েল ও উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন মিত্রদের ওপর পাল্টা আঘাত হানে এবং হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়। বিশ্বব্যাপী ব্যবহৃত মোট জ্বালানির প্রায় ২০ শতাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম হু হু করে বেড়ে যায়, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিকে সংকটে ফেলেছে।