হোম > বিশ্ব > যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা

ইরাক যুদ্ধের পর মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক উপস্থিতি

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

ছবি: ইউএস আর্মি

ইরান ইস্যুতে মধ্যপ্রাচ্যে ২০০৩ সালের ইরাক আক্রমণের পর আকাশশক্তির সবচেয়ে বড় সমাবেশ ঘটিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। গত কয়েক দিনে বিপুলসংখ্যক অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান ও সহায়ক সরঞ্জাম এই অঞ্চলে পাঠিয়েছে দেশটি। ধারণা করা হচ্ছে, খুব দ্রুতই যুদ্ধ শুরু হতে পারে। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প শেষ পর্যন্ত ইরানে হামলার নির্দেশ দেবেন কি না এবং দিলেও সেই অভিযানের লক্ষ্য কী হবে—ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংস করা, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা নিশ্চিহ্ন করা নাকি বর্তমান সরকার পতনের ঘটানো তা নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি।

ফ্লাইট ট্র্যাকিং ডেটা এবং মার্কিন কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক দিনে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে সর্বাধুনিক এফ-৩৫ এবং এফ-২২ স্টিলথ যুদ্ধবিমান পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এ ছাড়া আক্রমণাত্মক ও ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার বিমানে ঠাসা দ্বিতীয় একটি বিমানবাহী রণতরী বর্তমানে ওই অঞ্চলের পথে রয়েছে। বিশাল বিমান অভিযানের সমন্বয় করার জন্য অত্যাবশ্যকীয় ‘কমান্ড-অ্যান্ড-কন্ট্রোল’ বিমান এবং গুরুত্বপূর্ণ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও মোতায়েন করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এই সামরিক শক্তির উপস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে এবারের আক্রমণ গত জুনের অপারেশন মিডনাইট হ্যামারের মতো সীমিত হবে না। এবার কয়েক সপ্তাহব্যাপী পূর্ণাঙ্গ আকাশ যুদ্ধ চলতে পারে।

এদিকে গত মঙ্গলবারই জেনেভায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ নিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের মধ্যে বৈঠক হয়েছে। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট জানিয়েছেন, আলোচনায় ‘সামান্য অগ্রগতি’ হলেও কিছু গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে দুই পক্ষের মধ্যে এখনো অনেক বড় দূরত্ব রয়ে গেছে। তিনি আরও জানান, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ইরান একটি বিস্তারিত প্রস্তাব দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এদিকে আলোচনার মধ্যেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে তাঁর সামরিক বিকল্পগুলো সম্পর্কে বেশ কয়েকবার ব্রিফ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—ইরানের শীর্ষ রাজনৈতিক ও সামরিক নেতাদের হত্যার মাধ্যমে বর্তমান শাসনের পতন ঘটানো। কেবল পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থাকে লক্ষ্যবস্তু করা।

এই উভয় পরিকল্পনা কার্যকর করতে হলে অন্তত কয়েক সপ্তাহব্যাপী অভিযানের প্রয়োজন হতে পারে।

ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, তিনি একটি কূটনৈতিক সমাধানকে প্রাধান্য দিচ্ছেন। তবে তাঁর শর্ত হলো—ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ করা, আঞ্চলিক প্রক্সি বাহিনীকে বিলুপ্ত করা এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা ধ্বংস করা। শেষের পয়েন্টে ইরানের রাজি হওয়ার সম্ভাবনা কম, কারণ তাদের কাছে আধুনিক বিমানবাহিনী না থাকায় ক্ষেপণাস্ত্রই তাদের প্রধান প্রতিরক্ষা হাতিয়ার।

এদিকে, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মতো বিদেশি নেতারা ট্রাম্পকে পরামর্শ দিচ্ছেন যেন তিনি এই সামরিক চাপের মাধ্যমে তেহরানের কাছ থেকে আরও ছাড় আদায় করেন। বিশেষ করে ইসরায়েল চায় ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন চিরতরে বন্ধ হোক।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলার জন্য প্রয়োজনীয় সব অস্ত্র কেবল মধ্যপ্রাচ্যে থাকতে হবে এমন নয়। বি-২ স্টিলথ বোমারু বিমান সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র বা ভারত মহাসাগরের দিয়েগো গার্সিয়া ঘাঁটি থেকেও অভিযান চালাতে সক্ষম। গতকাল বুধবার ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ইরান চুক্তিতে না এলে দিয়েগো গার্সিয়া এবং যুক্তরাজ্যের ফেয়ারফোর্ড বিমান ঘাঁটি ব্যবহারের প্রয়োজন হতে পারে।

মার্কিন বিমানবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল ডেভিড ডেপ্টুলা মনে করেন, এই বিপুল সেনা সমাবেশ ইরানকে একটি চুক্তিতে আসতে বাধ্য করতে পারে। তবে কর্মকর্তারা ক্রমশ হতাশ হয়ে পড়ছেন এই ভেবে যে, ইরান হয়তো কেবল ট্রাম্পের মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত সময়ক্ষেপণের জন্য সাময়িক বিরতির প্রস্তাব দেবে।

আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে—ভাই অ্যান্ড্রুর গ্রেপ্তার প্রসঙ্গে ব্রিটিশ রাজা

সপ্তাহান্তেই ইরানে হামলা চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র

ট্রাম্পের বোর্ড অব পিসের প্রথম বৈঠক আজ, কারা যাচ্ছেন আর কারা যাচ্ছেন না

খাদ্য নেই, জ্বালানি নেই—মার্কিন চাপে থমকে গেছে কিউবা

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচনায় অগ্রগতির বার্তা

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় ‘পরোক্ষভাবে’ যুক্ত থাকবেন ট্রাম্প

ভিনগ্রহের প্রাণী আছে—মন্তব্যের ব্যাখ্যা দিলেন ওবামা

ভালোবাসা দিবসে যুক্তরাষ্ট্রে প্রেমিকসহ ইউক্রেনীয় তরুণীকে হত্যা, গ্রেপ্তার সাবেক প্রেমিক

পুতিন মডেলের ক্ষমতা চান ট্রাম্প, পশ্চিমের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন তিনি: হিলারি

চীনে ইরানি তেল বিক্রি বন্ধে একমত ট্রাম্প–নেতানিয়াহু, আপাতত হামলা হচ্ছে না