যুক্তরাষ্ট্রের মধ্য-পশ্চিমাঞ্চলের শহর কানসাস সিটি একসময় পরিচিত ছিল জ্যাজ সংগীত, বারবিকিউ আর আমেরিকান ফুটবলের জন্য। এখন সেই শহরই বিশ্বকাপ ফুটবলের বড় আকর্ষণে পরিণত হয়েছে। আগামী ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত অনুষ্ঠিতব্য ফিফা বিশ্বকাপকে সামনে রেখে কানসাস সিটি নতুনভাবে আলোচনায় এসেছে। আয়োজক ১১টি মার্কিন শহরের মধ্যে এটি সবচেয়ে ছোট শহরগুলোর একটি হলেও আর্জেন্টিনা, ইংল্যান্ড ও নেদারল্যান্ডসের মতো শক্তিশালী দল নিজেদের বেস ক্যাম্প হিসেবে এই শহরকেই বেছে নিয়েছে।
সোমবার (১১ মে) রয়টার্স জানিয়েছে, ১৯৯৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে সর্বশেষ বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হওয়ার সময় আয়োজক শহর হওয়ার দৌড়ে পিছিয়ে পড়েছিল কানসাস সিটি। তবে গত তিন দশকে এখানে ফুটবলের জনপ্রিয়তা ও অবকাঠামো ব্যাপকভাবে বেড়েছে। আধুনিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, উন্নত স্টেডিয়াম এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যাঞ্চলে অবস্থান—সব মিলিয়ে শহরটি দলগুলোর কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।
কানসাস সিটি মূলত মিজৌরি ও কানসাস—এই দুটি অঙ্গরাজ্য জুড়ে বিস্তৃত। শহরটির মিজৌরি অংশে অবস্থিত অ্যারোহেড স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের ছয়টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে, যার মধ্যে একটি কোয়ার্টার ফাইনালও রয়েছে। তবে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা এই শহরের কানসাস অংশে অনুশীলন করবে, আর ইংল্যান্ড দল থাকবে কাছের একটি হোটেলে। ধারণা করা হচ্ছে, এই বিশ্বকাপই হবে লিওনেল মেসির শেষ বিশ্বকাপ। আর্জেন্টিনা ১৬ জুন আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শিরোপা ধরে রাখার অভিযান শুরু করবে।
শহরটির কর্মকর্তারা মনে করছেন, নিউইয়র্কের চাকচিক্য বা মায়ামির সমুদ্রসৈকত না থাকলেও কানসাস সিটির সংস্কৃতি ও আতিথেয়তা দর্শকদের মুগ্ধ করবে। শহরটি বিশেষভাবে বিখ্যাত এর বারবিকিউ খাবারের জন্য। এই শহরের ‘আর্থার ব্রায়ান্টস’ ও “জো’স কানসাস সিটি বারবিকিউ”-এর মতো রেস্তোরাঁ বিশ্বজুড়ে খাদ্য রসিকদের কাছে পরিচিত। জো’স-এর বিশেষ ‘বার্ন্ট এন্ডস’ ও ধোঁয়ায় সেদ্ধ মাংসের স্বাদ নিতে বিশ্বকাপ দর্শকদের ভিড় জমতে পারে।
এ ছাড়া কানসাস সিটির অন্তর্ভুক্ত ‘এইটিনথ অ্যান্ড ভাইন’ জেলায় সংগীতপ্রেমীদের জন্য রয়েছে ঐতিহাসিক জ্যাজ সেশন। আবার চলচ্চিত্রপ্রেমীরা চাইলে কাছের ওয়ামেগো শহরে গিয়ে ‘অজ মিউজিয়াম’ও ঘুরে দেখতে পারবেন।
কানসাস সিটি দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের ‘আমেরিকান ফুটবলের রাজধানী’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করছে। এখানে পুরুষদের ‘স্পোর্টিং কানসাস সিটি’ এবং নারীদের ‘কেসি কারেন্ট’ নামে পেশাদার দলও রয়েছে। গত ১৫ বছরে এখানকার ফুটবল অবকাঠামো উন্নয়নে শত শত মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করা হয়েছে।
শহরটির জনপ্রিয়তা বাড়াতে ভূমিকা রেখেছেন পপ তারকা টেইলর সুইফটও। তাঁর বাগ্দত্তা ট্রাভিস কেলস কানসাস সিটি চিফসের তারকা খেলোয়াড়। স্থানীয় কর্মকর্তাদের আশা, সুইফট বিশ্বকাপের কিছু ম্যাচে উপস্থিত থাকলে তা আরও বড় আকর্ষণ তৈরি করবে।
বিশ্বকাপ চলাকালে এই শহরে প্রায় সাড়ে ছয় লাখ মানুষের আগমন ঘটবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। স্থানীয়রা তাই অতিথিদের জন্য একটি বিশেষ পরামর্শ দিয়ে রাখছেন—খেতে এলে প্রস্তুত হয়ে আসবেন। কারণ এখানকার খাবারের পরিমাণ ইউরোপীয়দের অভ্যাসের তুলনায় অনেক বেশি!