ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দেওয়ার অনুমতি দেবে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। স্থানীয় সময় গতকাল বৃহস্পতিবার মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এ তথ্য জানিয়েছে। এমন সময়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ চলছে এবং সংঘাত অবসানের লক্ষ্যে দুই দেশের মধ্যে মাঝেমধ্যে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের আয়োজক দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের দায়িত্বের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ‘ইরানি শাসকগোষ্ঠীর একটি মূল প্রতিনিধি দলকে’ সাধারণ অধিবেশনে যোগ দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে। এই অধিবেশন আগামী সপ্তাহে শুরু হবে।
ট্রাম্প প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে অবগত একটি সূত্র জানিয়েছে, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিসহ দেশটির শীর্ষ কর্মকর্তাদের ভিসা দেওয়া হবে। যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে ট্রাম্প প্রশাসন ও ইরানের নেতাদের মধ্যে কয়েক দফা আলোচনা হয়েছে। তবে এসব আলোচনা কখনো হয়েছে, আবার কখনো বন্ধ থেকেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর পর এই যুদ্ধ শুরু হয়। এর জবাবে ইরান ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি দেশে হামলা চালায়, যেসব দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি রয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র আরও বলেন, প্রতিনিধি দলটি ভ্রমণসংক্রান্ত বিধিনিষেধের আওতায় থাকবে। মার্কিন নীতি অনুযায়ী তারা বিলাসবহুল ও অন্যান্য পণ্য কেনার ক্ষেত্রেও নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়বে। গত বছরের তুলনায় এবারের প্রতিনিধি দলের আকারও ছোট হবে।
এর আগে মার্কিন সরকার ইরানের প্রতিনিধিদলের সদস্যদের দোকানে যাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। তাদের চলাচলও সীমিত করে জাতিসংঘের সদর দপ্তর, নিউইয়র্কে ইরানের জাতিসংঘ মিশন, জাতিসংঘে ইরানের রাষ্ট্রদূতের বাসভবন এবং নিউইয়র্কের জন এফ. কেনেডি বিমানবন্দরের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে।
এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য রয়টার্স ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
১৯৪৭ সালের জাতিসংঘের ‘হেডকোয়ার্টার্স অ্যাগ্রিমেন্ট’ বা সদর দপ্তর চুক্তির অধীনে যুক্তরাষ্ট্র সাধারণত বিদেশি কূটনীতিকদের জাতিসংঘে প্রবেশের অনুমতি দিতে বাধ্য। তবে ওয়াশিংটনের দাবি, ‘নিরাপত্তা, সন্ত্রাসবাদ এবং পররাষ্ট্রনীতি’সংক্রান্ত কারণে তারা ভিসা প্রত্যাখ্যান করতে পারে।
এর এক দিন আগে, বুধবার, ট্রাম্প প্রশাসন জানিয়েছিল যে জাতিসংঘের বৈঠকে অংশ নিতে ফিলিস্তিনি কর্মকর্তাদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না। গত বছর থেকে কার্যকর থাকা এই নিষেধাজ্ঞা আরও বাড়ানো হয়েছে। মার্কিন প্রশাসনের ভাষ্য, ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতকে ‘আন্তর্জাতিকীকরণে’ ভূমিকা রেখেছেন। এর মধ্যে আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালগুলোতে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে মামলা চালানোর বিষয়টিও রয়েছে। ফিলিস্তিনি এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসকেও ভিসা দেওয়া হয়নি।