যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবন হোয়াইট হাউসের বাইরে শনিবার (২৩ মে) সন্ধ্যায় ভয়াবহ গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। সেখানে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সিক্রেট সার্ভিস এজেন্টদের গুলিতে নাসিরে বেস্ট (২১) নামের এক বন্দুকধারী নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় এক সাধারণ পথচারী গুলিবিদ্ধ হয়ে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ঘটনার সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসের ভেতরে অবস্থান করছিলেন। তবে তিনি সম্পূর্ণ নিরাপদ ও অক্ষত আছেন বলে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সিক্রেট সার্ভিসের প্রাথমিক তদন্ত সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় সময় শনিবার বিকেল পৌনে ৬টার দিকে হোয়াইট হাউস চত্বরের ঠিক বাইরের একটি নিরাপত্তা চেকপয়েন্টের দিকে এগিয়ে যান নাসিরে বেস্ট। সেখানে পৌঁছানোর পরপরই তিনি সিক্রেট সার্ভিস কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়তে শুরু করেন।
নিরাপত্তা বাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে পাল্টা জবাব দেয়। উভয় পক্ষের গোলাগুলির মধ্যে পড়ে এক পথচারী গুরুতর আহত হন। সিক্রেট সার্ভিসের পাল্টা গুলিতে সন্দেহভাজন নাসিরে বেস্ট গুরুতর আহত হলে তাঁকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
গোলাগুলির শব্দ শোনার পরপরই হোয়াইট হাউসে অবস্থানরত সাংবাদিক ও কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সিক্রেট সার্ভিস দ্রুত পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে এবং সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউসের প্রেস ব্রিফিং রুমে আশ্রয় নিতে বলা হয়। প্রায় ৪০ মিনিট পুরো হোয়াইট হাউস অবরুদ্ধ (লকডাউন) অবস্থায় রাখা হয়েছিল।
হামলাকারীর চাঞ্চল্যকর অতীত
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্তে জানা গেছে, নিহত নাসিরে বেস্টের মানসিক অবস্থা বেশ কিছুদিন ধরে অস্থিতিশীল ছিল। সিক্রেট সার্ভিসের রেকর্ডে তিনি আগে থেকেই ‘পরিচিত মুখ’ ছিলেন।
আদালতের নথি অনুযায়ী, গত বছরের জুন ও জুলাই মাসেও তিনি হোয়াইট হাউসের নিরাপত্তা বলয় ভাঙার চেষ্টা করেছিলেন:
জুন ২০২৫: হোয়াইট হাউসের প্রবেশদ্বারে গাড়ি চলাচলে বাধা দেওয়ায় তাঁকে আটক করা হয়। সে সময় নিজেকে ‘ঈশ্বর’ দাবি করায় তাঁকে মানসিক পরীক্ষার জন্য ওয়াশিংটনের একটি সাইকিয়াট্রিক ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়েছিল।
জুলাই ২০২৫: পুনরায় তিনি হোয়াইট হাউসের একটি সংরক্ষিত ড্রাইভওয়েতে প্রবেশের চেষ্টা করলে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে এবং আদালত তাঁকে হোয়াইট হাউস চত্বর থেকে দূরে থাকার নির্দেশ দেন। গ্রেপ্তারের সময় তিনি নিজেকে ‘যিশুখ্রিষ্ট’ দাবি করে বলেন, তিনি স্বেচ্ছায় গ্রেপ্তার হতে চান।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নাসিরে বেস্টের অস্বাভাবিক ও উসকানিমূলক পোস্টের সন্ধান পেয়েছে পুলিশ। একটি পোস্টে তিনি নিজেকে ওসামা বিন লাদেনের ‘আসল রূপ’ এবং অন্য একটিতে নিজেকে ‘ঈশ্বরের পুত্র’ বলে দাবি করেন। এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ওপর হামলা চালানোর পরোক্ষ হুমকিও দিয়েছিলেন তিনি। তবে এর আগে তাঁর কাছে কখনো কোনো অস্ত্র পাওয়া যায়নি বা তিনি সহিংস আচরণ করেননি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গোলাগুলির সময় ট্রাম্পের উইকএন্ডে নিউ জার্সির গলফ ক্লাবে যাওয়ার পূর্বনির্ধারিত সফরটি বাতিল করে ওয়াশিংটনেই অবস্থান করছিলেন। ঘটনার সময় তার সঙ্গে হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ সুসি ওয়াইলস, অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের মতো শীর্ষ কর্মকর্তারাও ছিলেন, তবে তাঁরা নিরাপদে আছেন।
এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানিয়েছেন, এফবিআই ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে সিক্রেট সার্ভিসকে সব ধরনের তদন্তে সহায়তা করছে।
উল্লেখ্য, মাত্র এক মাস আগে হোয়াইট হাউস করেসপনডেন্ট ডিনারের সময়ও কোল টমাস অ্যালেন নামে এক তরুণ শটগান নিয়ে নিরাপত্তাচৌকি পার হয়ে ট্রাম্পকে হত্যার চেষ্টা চালিয়েছিলেন। সাম্প্রতিক এই দ্বিতীয় হামলার ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তা বলয়কে নতুন করে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।