হোম > বিশ্ব > যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা

একসঙ্গে ২ লাখ আশ্রয়প্রার্থীর ভিসা বাতিলের পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

ছবি: এআই দিয়ে তৈরি

যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয়ের আবেদন করেছেন বা আশ্রয় চাওয়ার প্রক্রিয়ায় আছেন, এমন দুই লাখ পর্যন্ত বিদেশির ব্যবসা ও পর্যটন ভিসা বাতিলের প্রস্তুতি নিচ্ছে দেশটির সরকার। মার্কিন সংবাদ সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) গতকাল সোমবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

এপি জানিয়েছে, মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নথি এবং দুই মার্কিন কর্মকর্তার সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে তারা এই তথ্য পেয়েছে। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে এটি হবে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে একবারে সবচেয়ে বড় পরিসরে ভিসা বাতিলের ঘটনা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে ঘোষণা দিতে পারে। এ কাজে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের (ডিএইচএস) সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।

এই পদক্ষেপের আওতায় ২০১৬ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে দেওয়া বি১ (B1) ও (B2) ভিসা থাকতে পারে। এসব ভিসাধারীর মধ্যে যারা যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয়ের আবেদন করেছেন বা বর্তমানে আশ্রয় চাইছেন, তাদের ভিসা বাতিল করা হবে।

মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র টমি পিগট বলেন, ‘আমরা ডিএইচএসের সঙ্গে সমন্বয় করে এমন বিদেশিদের নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা শনাক্ত ও বাতিল করছি, যারা স্বল্পমেয়াদি দর্শনার্থী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছেন, কিন্তু পরে স্থায়ীভাবে থাকার জন্য আশ্রয়ের আবেদন করেছেন।’

তবে কর্মকর্তারা এপিকে জানিয়েছেন, ভিসা বাতিল হলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাউকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করা হবে না। বরং যাদের আশ্রয়ের আবেদন এখনো নিষ্পত্তি হয়নি, তাদের বেশির ভাগকে অন্য একটি অভিবাসন শ্রেণিতে স্থানান্তর করা হবে। অর্থাৎ, তাদের ব্যবসা বা পর্যটন ভিসার মর্যাদা থাকবে না, তবে আশ্রয়ের আবেদন নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তারা অন্য অভিবাসন অবস্থানে থেকে মামলার প্রক্রিয়া চালিয়ে যেতে পারবেন।

সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী ক্রিস্টোফার ল্যান্ডাউ এমন ব্যক্তিদের সমালোচনা করেন, যারা পর্যটন বা ব্যবসার ভিসা ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর আশ্রয়ের আবেদন করেন। তিনি লেখেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে এবং সারা বিশ্বে মানুষ ভুয়া আশ্রয়ের আবেদন নিয়ে বিরক্ত। অভিবাসন আইন এড়িয়ে যাওয়ার পথ হিসেবে আশ্রয়ব্যবস্থা ব্যবহারের কথা নয়।’

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে গত বছর ক্ষমতায় আসার পর তাঁর প্রশাসন ভিসা আবেদনকারীদের ওপর একের পর এক কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ইতিহাস সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য চাওয়া, ভিসা প্রক্রিয়ার জন্য ব্যয়বহুল বন্ড জমা দেওয়ার শর্ত আরোপ এবং নির্দিষ্ট কিছু দেশের নাগরিকদের জন্য ভিসা দেওয়া পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া।

এদিকে, গত ১৮ মাসে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রায় ১ লাখ ৭৫ হাজার ভিসা বাতিল করেছে। এসব ভিসা বাতিলের মধ্যে এমন ব্যক্তিরাও রয়েছেন, যারা মাতাল অবস্থায় গাড়ি চালানো, ধর্ষণ ও ডাকাতিসহ বিভিন্ন অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন বা এসব অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছেন। এ ছাড়া মার্কিন সরকারের নীতির প্রকাশ্য সমালোচনা করেছেন, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যসংক্রান্ত মার্কিন নীতির বিরোধিতা করেছেন, এমন কিছু ব্যক্তির ভিসাও বাতিল করা হয়েছে।