এবার ভেনেজুয়েলা স্টাইলে ইরানের খারগ দ্বীপ ও তেল অবকাঠামো দখলের হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শান্তি আলোচনা স্থবির হয়ে পড়ার প্রেক্ষাপটে তিনি হুমকি দিয়ে বলেছেন, আজ বৃহস্পতিবার রাতেই (যুক্তরাষ্ট্রের সময়) মার্কিন বাহিনী ইরানের ওপর ‘অত্যন্ত কঠোর’ হামলা চালাবে। একই সঙ্গে অদূর ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের অর্থনীতির লাইফলাইন হিসেবে পরিচিত গুরুত্বপূর্ণ খারগ দ্বীপ ও তাদের তেল অবকাঠামোগুলো দখলে নেবে বলেও হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, আজ বৃহস্পতিবার সকালে (স্থানীয় সময়) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এই হুমকি দেন।
প্রসঙ্গত, পারস্য উপসাগরে অবস্থিত ক্ষুদ্র খারগ দ্বীপটি ইরানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ দেশটির উৎপাদিত অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের প্রায় ৯০ শতাংশই এই দ্বীপের বন্দর বা হাব দিয়ে বিদেশে রপ্তানি করা হয়।
ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, মার্কিন বাহিনীর চলমান আক্রমণে ইরানের সামরিক সক্ষমতা ধ্বংসের মুখে। তিনি লেখেন, ‘আজ রাতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর অত্যন্ত কঠোর আঘাত হানবে। ইরানের নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, রাডার, বিমান বিধ্বংসী ব্যবস্থা এবং অন্য সমস্ত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পাশাপাশি তাদের আক্রমণাত্মক ক্ষমতার বড় অংশই ইতিমধ্যেই শেষ হয়ে গেছে!’
তেল অবকাঠামো দখলের বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট তাঁর পোস্টে বলেন, ‘অদূর ভবিষ্যতে কোনো এক সময়ে আমরা ইরানের খারগ দ্বীপ এবং অন্যান্য তেল অবকাঠামোগুলো দখল করব। এর মাধ্যমে দেশটির তেল ও গ্যাস বাজারের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ আমরা আমাদের হাতে নিয়ে নেব, ঠিক যেভাবে আমরা ভেনেজুয়েলার ক্ষেত্রে করেছি। ভেনেজুয়েলার সেই মডেলটি তাদের নিজেদের এবং যুক্তরাষ্ট্র—উভয়ের জন্যই চমৎকারভাবে কাজ করছে।’
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে গত দুই দিন ধরে ওমান সাগর ও পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে দফায় দফায় হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটছে। এর আগে গত সোমবার ওমান উপকূলে মার্কিন সামরিক বাহিনীর একটি অ্যাপাচি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই নতুন সংঘাতের সূত্রপাত হয়। ওয়াশিংটনের দাবি ছিল, ইরানি বাহিনী হেলিকপ্টারটি লক্ষ্য করে গুলি ছুড়েছিল। এর জবাবেই মঙ্গল ও বুধবার রাতে ইরানি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁত বিমান হামলা চালায় মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)।