ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে চলমান আলোচনায় ‘প্রাথমিক সমঝোতা’ নিয়ে উভয় পক্ষের সম্মতির কথা জানিয়েছেন। বিষয়টিকে সম্ভাব্য অগ্রগতি হিসেবে দেখলেও বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে এমনটি নিশ্চিত করলে তবেই এটিকে প্রকৃত অগ্রগতি বলা যাবে।
এই বিষয়ে ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপ-এর ইরান প্রকল্পের পরিচালক আলি ভাইজ মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘অন্তত যদি উভয় পক্ষ আলোচনার টেবিলে কোন বিষয়গুলো থাকবে সেই বিষয়ে একমত হতে পারে, তবে সেটিই হবে ইতিবাচক পদক্ষেপ।’
তবে আলোচনার ‘পরিধি’ ঠিক করা যতটা সহজ, মূল ‘বিষয়বস্তু’ নিয়ে সমঝোতায় পৌঁছানো ততটাই সময়সাপেক্ষ হবে বলে মনে করেন তিনি। ২০১৫ সালের ইরান পরমাণু চুক্তির প্রসঙ্গ টেনে ভাইজ জানান, সেই চুক্তির মূল বিষয়গুলো নিয়ে সমঝোতায় পৌঁছাতে আড়াই বছর সময় লেগেছিল। তাঁর মতে, এবারের আলোচনায় ইরানের অবস্থান তুলনামূলক দুর্বল। কারণ গত জুন মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় দেশটির পরমাণু কর্মসূচি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভাইজ বলেন, ‘ইরানের পরমাণু কর্মসূচি এখন প্রায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত। ফলে ২০১৫ সালে যা সম্ভব ছিল না—যেমন সম্পূর্ণভাবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থগিত করা—এখন তা বাস্তবতা হয়ে দাঁড়িয়েছে।’
তিনি জানান, গত সাত–আট মাসে ইরান একটি সেন্ট্রিফিউজও চালু করেনি এবং এক গ্রাম ইউরেনিয়ামও সমৃদ্ধ করেনি। এ অবস্থায় কিছু ছাড় দেওয়া তেহরানের জন্য তুলনামূলক সহজ হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তবে শেষ পর্যন্ত আলোচনার সাফল্য নির্ভর করবে উভয় পক্ষ নিজেদের দাবিতে কতটা সংযম দেখাতে পারে তার ওপর। ভাইজের ভাষায়, ‘যদি দুই পক্ষ সীমিত ও অর্জনযোগ্য কোনো চুক্তি চায়, তাহলে সমঝোতা সম্ভব। কিন্তু অতিরিক্ত উচ্চাকাঙ্ক্ষা দেখালে সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি হবে।’
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই কূটনৈতিক যোগাযোগ মধ্যপ্রাচ্যে নতুন উত্তেজনা কমানোর সুযোগ তৈরি করতে পারে। তবে চূড়ান্ত ফলাফল নির্ভর করছে আলোচনার বাস্তব অগ্রগতি ও পারস্পরিক আস্থার ওপর।