ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তি হবে নাকি যুক্তরাষ্ট্র সামরিক পদক্ষেপ নেবে—তা আগামী ১০ দিনের মধ্যে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আজ বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে নিজের নবগঠিত বোর্ড অব পিসের উদ্বোধনী সভায় তিনি এই সময়সীমার কথা উল্লেখ করেন। ট্রাম্প বলেন, আগামী ১০ দিনের মধ্যেই বিশ্ব জানতে পারবে ইরানের সঙ্গে কোনো চুক্তি হচ্ছে নাকি যুক্তরাষ্ট্রকে ‘পরবর্তী ধাপে’ অর্থাৎ সামরিক পদক্ষেপ নিতে হচ্ছে।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটন ডিসির সাবেক ইউএস ইনস্টিটিউট অব পিস ভবনে (যা বর্তমানে ট্রাম্পের নামে নামকরণ করা হয়েছে) আয়োজিত এই সভায় ট্রাম্প বলেন, ‘ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে একটি অর্থবহ চুক্তিতে পৌঁছাতে আমাদের আরও কিছু কাজ বাকি আছে। তবে আমরা হয়তো পরিস্থিতিকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিতে বাধ্য হব।’
ট্রাম্প জানান, তাঁর বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জামাতা জ্যারেড কুশনার ইরানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ‘খুব ভালো’ ও ফলপ্রসূ বৈঠক করেছেন। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, ইরানের সঙ্গে অর্থবহ চুক্তি করা ঐতিহাসিকভাবেই সহজ নয়।
গত জুলাই মাসে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান হামলা চালিয়েছিল, যার ফলে তেহরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ক্ষমতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করা হয়। তবে পরে জানা যায়, এসব হামলায় ইরানের খুব একটা ক্ষতি হয়নি। পারমাণবিক কার্যক্রম কিছুদিন ব্যাহত হলেও পুনরায় তারা এটি শুরু করে।
কূটনৈতিক আলোচনার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক শক্তিও বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। ইতিমধ্যে ওই অঞ্চলে ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন এবং ইউএসএস জেরাল্ড ফোর্ড রণতরি মোতায়েন করা হয়েছে।
এদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মার্কিন বাহিনীর উদ্দেশে কড়া বার্তা দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, ‘মার্কিন রণতরির চেয়েও বিপজ্জনক হলো সেই অস্ত্র, যা ওই রণতরিকে সমুদ্রের তলদেশে পাঠিয়ে দিতে পারে।’ স্যাটেলাইট চিত্রেও দেখা গেছে, ইরান তাদের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কেন্দ্রগুলো আরও শক্তিশালী ও সুরক্ষিত করছে।
তবে ট্রাম্পের সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন মার্কিন কংগ্রেসের কিছু সদস্য। ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি রো খান্না ও রিপাবলিকান থমাস ম্যাসি ১৯৭৩ সালের ‘ওয়ার পাওয়ার অ্যাক্ট’ ব্যবহার করে আগামী সপ্তাহে কংগ্রেসে ভোটাভুটির চেষ্টা করবেন বলে জানিয়েছেন। রো খান্না বলেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ হবে বড় বিপর্যয়। ৯০ মিলিয়ন মানুষের দেশটিতে শক্তিশালী বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থা রয়েছে এবং ওই অঞ্চলে থাকা ৩০-৪০ হাজার মার্কিন সেনা ইরানের পাল্টা হামলার ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
গতকাল বুধবার হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট অবশ্য জানিয়েছেন, ট্রাম্প এখনো কূটনৈতিক সমাধানের আশায় আছেন, তবে ইরানের উচিত হবে বুদ্ধিমানের মতো চুক্তিতে আসা। তিনি জানান, কূটনীতি সব সময়ই ট্রাম্পের প্রথম পছন্দ, তবে সামরিক পদক্ষেপ এখনো বিকল্প হিসেবে রয়েছে।