মার্ভেলের সুপার হিরো সিনেমায় অভিনয় করা ২০ জনের বেশি অভিনেতা আলোচিত ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী নেতা মারওয়ান বারঘৌতির মুক্তির দাবিতে একটি আন্তর্জাতিক প্রচারে যোগ দিয়েছেন। গত শুক্রবার ‘ফ্রিমারওয়াননাও’ নামের একটি গোষ্ঠী তাদের ইনস্টাগ্রাম পোস্টে এ তথ্য জানিয়েছে।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম জেরুসালেম পোস্টের খবরে বলা হয়েছে, ‘ফ্রিডম ফর মারওয়ান’ নামের এই প্রচারে যোগ দেওয়া অভিনেতাদের মধ্যে রয়েছেন ‘ডক্টর স্ট্রেঞ্জ’ চরিত্রের অভিনয় করা বেনেডিক্ট ক্যাম্বারব্যাচ, ‘হাল্ক’ চরিত্রে অভিনয় করা মার্ক রাফালো এবং ‘ম্যাগনিটো’ চরিত্রের অভিনেতা ইয়ান ম্যাককেলেন। এ ছাড়া কেট ব্ল্যানচেট, টিল্ডা সুইনটনসহ আরও অনেক অভিনেতা এই প্রচারণায় যুক্ত হয়েছেন।
এই প্রচারে আরও আছেন—‘শি হাল্ক’ চরিত্রের তাতিয়ানা মাসলানি, থর: র্যাগনারকের ‘হেলা’ কেট ব্ল্যানচেট, দ্য এনশিয়েন্ট ওয়ানের টিল্ড সুইনটন, ‘ওয়ার মেশিন’ খ্যাত ড্যান চিডল, ‘ক্যাপ্টেন আমেরিকা’য় জেমো চরিত্রের ড্যানিয়েল ব্রুহল, আয়রন ম্যানের মায়া হ্যানসেন রেবেকা হল, ‘দ্য মার্ভেলস’-এ ডার-বেন চরিত্রের জাওয়ে অ্যাশটন, ‘মুন নাইট’-এ লায়লা চরিত্রের মে কালামাওয়ে, ‘ডেডপুল অ্যান্ড উলভারিন’-এ ক্যাসান্দ্রা নোভা চরিত্রের এমা করিন, ‘সিক্রেট ইনভ্যাশন’-এ গ্র্যাভিক চরিত্রের কিংসলে বেন-আদির ও ‘ক্যাপ্টেন আমেরিকা’র রেড স্কাল হুগো উইভিং।
এ ছাড়া, ডেডপুল–২ এর পিটার চরিত্রের রব ডেলানি, লিজিয়নের ডেভিড হ্যালার চরিত্রের ড্যান স্টিভেন্স, ভেনমের ডক্টর পল স্ট্রিকল্যান্ড চরিত্রের রিজ আহমেদ, এক্স-মেনের উইলিয়াম স্ট্রাইকার খ্যাত ব্রায়ান কক্স, এক্স-মেন সিরিজের কিটি প্রাইড এলিয়ট পেজ এবং এক্স-মেনের আজাজিল জেসন ফ্লেমিং।
প্রচারের আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের শেষ দিকে মারওয়ান বারঘৌতির পরিবার যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে সমন্বয় করে এই উদ্যোগ শুরু করে। প্রচারের বিবৃতিতে বলা হয়, ‘মারওয়ান বারঘৌতির অব্যাহত কারাবাস, কারাগারে তার ওপর সহিংস আচরণ এবং আইনি অধিকার থেকে তাকে বঞ্চিত করার ঘটনায় আমরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি। আমরা জাতিসংঘ এবং বিশ্বের সরকারগুলোর প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, তারা যেন সক্রিয়ভাবে ইসরায়েলি কারাগার থেকে মারওয়ান বারঘৌতির মুক্তির জন্য উদ্যোগ নেয়।
আয়োজকদের দাবি, অভিনেতা, সংগীতশিল্পী, লেখক ও পরিচালকসহ ২০০ জনের বেশি সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এই প্রচারণায় স্বাক্ষর করে সমর্থন জানিয়েছেন।
মারওয়ান বারঘৌতি আল-আকসা মার্টায়ার্স ব্রিগেডের সাবেক নেতা। ইসরায়েলের দাবি, ২০০১ থেকে ২০০২ সালের মধ্যে বেশ কয়েকটি হামলার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের সঙ্গে বারঘৌতি জড়িত ছিলেন। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কোনো প্রমাণ ইসরায়েল হাজির করেনি। ২০০৪ সালে ইসরায়েল বারঘৌতিকে পাঁচটি হত্যার অভিযোগ এবং একটি হত্যাচেষ্টার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে। তাকে পরপর পাঁচটি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি আরও ৪০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
বারঘৌতির সমর্থকেরা তাঁকে ফিলিস্তিনের ডি–ফ্যাক্টো লিডার এবং প্রতিরোধের প্রতীক হিসেবে দেখেন। তাদের দাবি, তাঁকে অন্যায়ভাবে কারাগারে রাখা হয়েছে এবং কারাগারে তার ওপর সহিংস আচরণ করা হচ্ছে। গত মে মাসে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা বারঘৌতির মুক্তির দাবিতে একটি আন্তর্জাতিক আবেদনে স্বাক্ষর করেন। তিনি ছিলেন দায়িত্বে থাকা প্রথম কোনো রাষ্ট্রপ্রধান, যিনি বারঘৌতির মুক্তির দাবিতে ওই আন্তর্জাতিক আবেদনে স্বাক্ষর করেন।
সম্প্রতি প্রকাশিত একটি জনমত জরিপে দেখা গেছে, ফিলিস্তিনি নেতৃত্বের জন্য সবচেয়ে জনপ্রিয় প্রার্থী হিসেবে বারঘৌতিই এগিয়ে রয়েছেন। সম্ভাব্য ভোটারদের ৫৪ শতাংশ বলেছেন, কাল্পনিক কোনো প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেলে তারা বারঘৌতিকে ভোট দেবেন।