কিউবান ক্ষেপণাস্ত্র-সংকটের পর প্রথমবারের মতো পারমাণবিক ঝুঁকির সম্মুখীন বিশ্ব—এমন মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। বৃহস্পতিবার (৬ অক্টোবর) ডেমোক্রেটিক পার্টির একটি অনুষ্ঠানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘কিউবার মিসাইল সংকটের পর থেকে আমরা এ ধরনের পরমাণুযুদ্ধের সম্ভাবনার মুখোমুখি হইনি।’
বাইডেন বলেন, ‘পুতিন যখন কৌশলগত পারমাণবিক অস্ত্র বা জৈবিক কিংবা রাসায়নিক অস্ত্রের ব্যবহার সম্পর্কে কথা বলেন, তখন তিনি রসিকতা করছেন না। কারণ তাঁর সামরিক বাহিনী এখন উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল। পুতিন নিশ্চয়ই যুদ্ধে পরাজিত হয়ে ক্ষমতা হারাতে চাইবেন না।’
১৯৬২ সালে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন কিউবায় ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করেছিল। এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারমাণবিক যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। ওই ঘটনা মনে করিয়ে দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘কিউবার ক্ষেপণাস্ত্র-সংকটের পর আমাদের জন্য প্রথমবারের মতো পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের সরাসরি হুমকি রয়েছে।’
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পুতিন পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের যে হুমকি দিয়েছেন, তা ছোট পরিসরে এবং কৌশলগত হতে পারে। তবে বাইডেন বলছেন, এ ধরনের একটি কৌশলগত হামলাও বড় ধ্বংসযজ্ঞ সৃষ্টি করতে পারে।
ইউক্রেনে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে সামরিক অভিযান শুরু করে রাশিয়া। এরই মধ্যে ইউক্রেনের ভূখণ্ডের এক-পঞ্চমাংশ অঞ্চল দখলে নিয়েছে রুশ বাহিনী। তবে সম্প্রতি পাল্টা হামলায় উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় কিছু এলাকা রাশিয়ার কাছ থেকে পুনরুদ্ধার করেছে ইউক্রেন।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে অধিকৃত অঞ্চলগুলোর সুরক্ষায় ‘প্রয়োজনে’ পরমাণু অস্ত্র ব্যবহার করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়ে আসছে মস্কো।