যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান ইরানের পক্ষে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার অন্যতম সম্ভাব্য নেতা ছিলেন। তবে তাঁর অনুরোধে এরদোয়ান সংঘাতে জড়াননি। একই সঙ্গে ট্রাম্প দাবি করেছেন, চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও তাঁর আহ্বানে সংঘাতে জড়াননি।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ওয়াইনেট নিউজের খবরে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় হোয়াইট হাউসে ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটের সঙ্গে বৈঠকের সময় এসব মন্তব্য করেন ট্রাম্প। এক তুর্কি সাংবাদিক তাঁর সম্ভাব্য আঙ্কারা সফর এবং তাঁর ভাষায় ‘ভালো বন্ধু’ এরদোয়ান ও তুরস্কের জনগণের উদ্দেশে বার্তা জানতে চাইলে জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
ট্রাম্প বলেন, ‘আমি তাঁকে পছন্দ করি, তিনি আমার বন্ধু এবং তিনি ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের সময় তাতে জড়াননি। তিনি ইরানের পক্ষে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার অন্যতম সম্ভাব্য প্রার্থী ছিলেন—এমনকি হয়তো ইরানের পক্ষেও যেতে পারতেন। কারণ, তিনি ইসরায়েলের খুব বড় ভক্ত নন। আমি তাঁকে এতে না জড়াতে বলেছিলাম এবং তিনি বাইরে ছিলেন।’
নিজের বক্তব্যে ট্রাম্প কূটনৈতিক যোগাযোগকে বড় আঞ্চলিক সংঘাত ঠেকানোর কার্যকর উপায় হিসেবে তুলে ধরেন। তিনি ইঙ্গিত দেন, উত্তেজনা কমানোর ক্ষেত্রে তাঁর ব্যক্তিগত ভূমিকাও ছিল গুরুত্বপূর্ণ। এ মাসের শুরুতে ট্রাম্প বলেছিলেন, তিনি যত দিন প্রেসিডেন্ট থাকবেন তত দিন ইসরায়েল ও তুরস্কের মধ্যে কোনো সংঘাত হবে না। এবারও সেই অবস্থানের পুনরাবৃত্তি করে তিনি জানান, এরদোয়ানকে তিনি সরাসরি সংঘাত থেকে দূরে থাকতে বলেছিলেন এবং তাঁর দাবি অনুযায়ী, তুর্কি প্রেসিডেন্ট তা মেনে চলেছেন।
এরদোয়ান প্রসঙ্গে ট্রাম্প আরও বলেন, ‘তিনি বাইরে ছিলেন। এরদোয়ান একজন দুর্দান্ত নেতা, খুব শক্তিশালী মানুষ এবং তাঁর একটি খুব ভালো সামরিক বাহিনী আছে। আমি তাঁকে এতে না জড়াতে বলেছিলাম এবং তিনি সেটিই করেছেন।’
তবে শুধু তুরস্ক নয়, আরও কয়েকটি বড় শক্তিকেও তিনি সংঘাতের বাইরে রাখতে ভূমিকা রেখেছেন বলে দাবি করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘আর জানেন কে অসাধারণ ছিলেন? চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং। তিনিও এতে জড়াতে পারতেন। ওই অঞ্চল থেকে তিনি তাঁর তেলের অর্ধেক পান। বুঝতেই পারছেন কেন তিনি এতে জড়াতে চাইতে পারেন। আমি তাঁকে অনুরোধ করেছিলাম, দয়া করে এতে জড়াবেন না। আর তিনি জড়াননি। আমরা ভালো কাজ করেছি।’
পরে ট্রাম্প রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের কথাও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘এবং সি চিন পিংও তা-ই করেছেন। সত্যি বলতে, যদি ভালো করে দেখেন, পুতিনও তা-ই করেছেন। যদিও বলা যায়, ভ্লাদিমিরের মনোযোগ দেওয়ার মতো অন্য বিষয়ও আছে। কিন্তু তাঁরা সবাই বাইরে ছিলেন। বিষয়টা বেশ বিস্ময়কর ছিল। মানুষ অবাক হয়েছিল।’
তবে তুরস্ক ইরানের পক্ষে যুদ্ধে যোগ দিতে পারত বলে ট্রাম্প যে দাবি করেছেন, তার ভিত্তি কী, তা স্পষ্ট নয়। সংঘাত চলাকালে ইরান থেকে তুরস্কের দিকে কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, প্রায় দুই সপ্তাহ আগে এরদোয়ান আবারও ইসরায়েলের সমালোচনা করার পর ট্রাম্পকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, জেরুজালেম ও আঙ্কারার মধ্যে সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা আছে কি না। সে সময়ও ট্রাম্প তুর্কি প্রেসিডেন্টের প্রশংসা করে বলেছিলেন, ‘দেখুন, তিনি আমার খুব ভালো বন্ধু। আমরা একসঙ্গে খুব ভালোভাবে কাজ করেছি। আমি তাঁকে খুব পছন্দ করি। আমার হয়তো এটা বলা উচিত নয়। কারণ, মিডিয়া সঙ্গে সঙ্গে বলবে, “ওহ, তিনি এরদোয়ানকে ভালোবাসেন।’ কিন্তু তিনি একজন দুর্দান্ত নেতা। খুব শক্তিশালী নেতা। খুব শক্তিশালী মানুষ।”’
তিনি আরও বলেন, ‘আপনি যা বলছেন, সে ধরনের কিছু আমি একেবারেই শুনিনি। যদি শুনতাম, আমি তাঁকে ফোন করতাম। আর আমি মনে করি, সবকিছু ঠিকঠাক করে ফেলতাম। আমি মনে করি না, তুরস্কের সঙ্গে এমন কিছু ঘটবে। অন্তত আমি প্রেসিডেন্ট থাকা পর্যন্ত নয়। কারণ, তিনি আমাকে সম্মান করেন এবং আমিও তাঁকে সম্মান করি। এর বাইরে আমাদের মধ্যে ভালো বন্ধুত্বও আছে। তাই দেখা যাক।’