হোম > বিশ্ব > যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা

ইতালি, স্পেন ও জার্মানি থেকে কেন সেনা সরিয়ে নিতে চান ট্রাম্প

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

ওভাল অফিসে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে ইতালির প্রেসিডেন্ট জর্জিয়া মেলোনি। ছবি: এএফপি

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ইউরোপীয় মিত্রদেশ ইতালি ও স্পেনের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, এই দেশগুলো থেকে মার্কিন সেনা সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি তিনি ‘সক্রিয়ভাবে’ বিবেচনা করছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই মন্তব্য করেন।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে যখন ইতালি ও স্পেন থেকে সেনা সরানোর বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়, তিনি সরাসরি উত্তর দেন, ‘হ্যাঁ, সম্ভবত আমি সেটা করব।’

কিন্তু কেন তিনি এটা করতে চান? প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর এমন কঠোর অবস্থানের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন, ‘কেন সরিয়ে নেব না? ইতালি আমাদের কোনো সাহায্য করেনি এবং স্পেনের ভূমিকা ছিল ভয়াবহ, অত্যন্ত ভয়াবহ।’

ট্রাম্প অভিযোগ করেন, ইরান যুদ্ধের সময় ন্যাটো মিত্ররা যুক্তরাষ্ট্রের পাশে দাঁড়ায়নি। তিনি বলেন, ‘আমরা ইউক্রেনের ক্ষেত্রে তাদের সাহায্য করেছি, কিন্তু যখন আমাদের প্রয়োজন ছিল, তখন তারা পাশে ছিল না। বিষয়টি আমাদের মনে রাখতে হবে।’

মার্কিন ডিফেন্স ম্যানপাওয়ার ডেটা সেন্টারের (ডিএমডিসি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ইতালিতে ১২ হাজার ৬৬২ জন এবং স্পেনে ৩ হাজার ৮১৪ মার্কিন সেনা সক্রিয়ভাবে মোতায়েন ছিল।

স্পেনের পক্ষ থেকে এই হুমকির বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া না গেলেও ইতালি এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী গুইদো ক্রোসেতো বলেন, ‘এই সিদ্ধান্তের কারণ আমার কাছে বোধগম্য নয়। এটা সবার কাছে পরিষ্কার যে আমরা হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করিনি; বরং আমরা সেখানে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের সুরক্ষায় একটি মিশন পরিচালনার প্রস্তাব দিয়েছিলাম, মার্কিন সামরিক বাহিনী এর প্রশংসাও করেছিল।’

অন্যদিকে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ শুরু থেকেই এই যুদ্ধের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন। তিনি ইরানে মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলাকে ‘অবৈধ’ আখ্যা দিয়ে স্পেনের যৌথ সামরিক ঘাঁটিগুলো ব্যবহারের অনুমতি দেননি এবং মার্কিন বিমানের জন্য আকাশসীমা বন্ধ করে দিয়েছেন। এসব কারণে ট্রাম্প শুরু থেকেই স্পেনের প্রতি অসন্তুষ্ট এবং মার্চ মাসের শুরুতে তিনি স্পেনের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক ছিন্ন করারও হুমকি দিয়েছিলেন।

ইতালি ও স্পেনের পাশাপাশি জার্মানির সঙ্গেও ট্রাম্পের সম্পর্কের অবনতি ঘটেছে। ইরানের নেতৃত্ব যুক্তরাষ্ট্রকে ‘অপদস্থ’ করেছে বলে মন্তব্য করায় জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রেডরিখ মের্ৎসের ওপর ক্ষিপ্ত ট্রাম্প সেখান থেকেও সেনা সরানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন।

পাশাপাশি পোপ লিও যখন ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধের ডাক দেন, তখন ট্রাম্প পোপকে ‘দুর্বল’ ও ‘পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে ভয়াবহ’ বলে মন্তব্য করেন। এর প্রতিবাদে ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি বলেন, ‘পোপ সম্পর্কে ট্রাম্পের এ ধরনের বক্তব্য অগ্রহণযোগ্য। পোপ ক্যাথলিক চার্চের প্রধান এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানানো তাঁর জন্য স্বাভাবিক ও সঠিক কাজ।’

এর জবাবে ট্রাম্প ইতালীয় সংবাদপত্র কোরিয়েরা ডেলা সেরাকে বলেন, ‘মেলোনি নিজেই অগ্রহণযোগ্য। কারণ, তাঁর কাছে ইরানের পারমাণবিক অস্ত্রের বিষয়টি কোনো গুরুত্বই রাখে না।’

উল্লেখ্য, ইতালি একটি ক্যাথলিক দেশ। যদিও রাষ্ট্রটি সাংবিধানিকভাবে ধর্মনিরপেক্ষ; তবু জনসংখ্যার প্রায় ৮০ শতাংশ নিজেদের ক্যাথলিক হিসেবে পরিচয় দেয়।

ইরানের নতুন প্রস্তাবে সন্তুষ্ট নন ট্রাম্প, নেতৃত্ব নিয়ে সংশয়

সান ফ্রান্সিসকোর রাস্তায় মাদকাসক্তদের ‘জম্বি দশা’ নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে তোলপাড়

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি শিক্ষার্থী বৃষ্টির মরদেহ চিহ্নিত, দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া শুরু

কংগ্রেসের অনুমতি ছাড়াই ইরান যুদ্ধ, প্রশ্নের মুখে ট্রাম্প প্রশাসন

নিউইয়র্কে শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে বাংলাদেশি ইমাম গ্রেপ্তার

কয়েক ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন মার্কিন যুদ্ধজাহাজ, বন্ধ হয়েছিল ইঞ্জিনও

এপস্টেইন দ্বীপের রহস্যময় ‘মসজিদ’: পবিত্র কাবার গিলাফ ও কিসওয়া চুরির তথ্য ফাঁস

জিডিপি ছাড়িয়ে গেল যুক্তরাষ্ট্রের ঋণ, ১ ডলার আয়ে খরচ ১.৩৩

ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ২৫০০ কোটি ডলার: পেন্টাগন

হরমুজ খুলতে আন্তর্জাতিক জোট গঠন করছে যুক্তরাষ্ট্র