হোম > বিশ্ব > যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা

ইরান যুদ্ধে জুয়াড়িদের লাভ ১০০ কোটি ডলার, ট্রাম্প প্রশাসনের লোকেরাই কি জড়িত

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

ছবি: এআই দিয়ে তৈরি

ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের গতিপ্রকৃতি নিয়ে আগাম বাজি ধরে ১০০ কোটি (১ বিলিয়ন) ডলারেরও বেশি মুনাফা করেছেন একদল জুয়াড়ি। হামলার সময় থেকে শুরু করে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা—সব ক্ষেত্রেই এসব জুয়াড়ির বাজি ছিল অবিশ্বাস্য রকমের নির্ভুল। এই ‘অলৌকিক’ সাফল্যের নেপথ্যে গোপন তথ্য পাচার বা ইনসাইডার ট্রেডিং জড়িত কি না, তা নিয়ে এখন তোলপাড় শুরু হয়েছে মার্কিন আইনসভা ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোতে।

গত ২৭ ফেব্রুয়ারি ইরান ও ইসরায়েলের ওপর মার্কিন হামলার ঠিক আগে ১৬টি অ্যাকাউন্ট থেকে ১ লাখ ডলার করে বাজি ধরা হয় যে, পরদিনই হামলা হবে। পরে দেখা যায়, তাদের অনুমান ছিল শতভাগ সঠিক। এরপর ৭ এপ্রিল ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে তেলের দাম কমবে বলে ৯৫০ মিলিয়ন ডলারের বাজি ধরা হয়। ট্রাম্পের ঘোষণার পরপরই তেলের দাম পড়ে গেলে বিপুল মুনাফা করেন ওই জুয়াড়িরা।

সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির হত্যাকাণ্ড নিয়ে। ইসরায়েলি হামলায় তিনি নিহত হওয়ার কিছু আগে ‘Magamyman’ নামের একটি অ্যাকাউন্ট থেকে ৫ লাখ ৫০ হাজার ডলার বাজি ধরা হয় যে, খামেনি ক্ষমতাচ্যুত হবেন। এ ছাড়া আরও ছয়টি সন্দেহভাজন অ্যাকাউন্ট থেকে খামেনির মৃত্যুর খবরে ১ দশমিক ২ মিলিয়ন ডলার আয় করার তথ্য মিলেছে।

বেটিং বাজার: যেন এক ‘ওয়াইল্ড ওয়েস্ট’

একসময় বাজি কেবল খেলাধুলার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও এখন তা পলিমাৰ্কেট বা কালশির (Kalshi) মতো প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বিশ্ব রাজনীতি ও যুদ্ধের সংবাদের ওপরও ছড়িয়ে পড়েছে। ‘পাবলিক সিটিজেন’ নামক একটি ভোক্তা অধিকার সংস্থার লবিস্ট ক্রেইগ হোলম্যান এই পরিস্থিতিকে ‘ওয়াইল্ড ওয়েস্ট’ বা লাগামহীন অরাজকতার সঙ্গে তুলনা করেছেন। তিনি বলেন, বাজির সময় এবং অর্থের পরিমাণ দেখে স্পষ্ট বোঝা যায় যে, কারোর কাছে ‘গোপন তথ্য’ ছিল।

মার্কিন কমোডিটি ফিউচার ট্রেডিং কমিশন (সিএফটিসি) বিষয়টির তদন্ত শুরু করেছে বলে রয়টার্স ও ব্লুমবার্গের সূত্রে জানা গেছে। তবে বর্তমান ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে সিএফটিসির কাঠামো নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। বর্তমানে এই কমিশনে মাইকেল সেলিগ নামে একজন কমিশনার রয়েছেন, যিনি গত বছরের শেষে ট্রাম্পের মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত হন। তিনি আবার এই প্রেডিকশন মার্কেটের প্রতি সহানুভূতিশীল হিসেবে পরিচিত।

কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটির আইনের অধ্যাপক জোশুয়া মিটস গার্ডিয়ানকে বলেন, ‘এসব লেনদেন ব্লকচেইন বা পরিচয় গোপন রেখে করা হয়, তাই অপরাধীদের শনাক্ত করা কঠিন।’

এদিকে, গত মার্চে ইরান যুদ্ধের স্পর্শকাতর ও অপ্রকাশিত তথ্য ব্যবহার করে শেয়ারবাজার এবং প্রেডিকশন মার্কেটে অনৈতিক মুনাফা লাভের অভিযোগে নিজ কর্মীদের সতর্ক করে হোয়াইট হাউস। ফলে প্রশ্ন উঠেছে এই ধরনের তথ্য পাচারে কি ট্রাম্প প্রশাসনের লোকেরাই জড়িত?

এসব বিষয় আলোচনায় আসার পর হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ডেভিস ইঙ্গল এক বিবৃতিতে বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি সবার জন্য একটি শক্তিশালী ও লাভজনক পুঁজিবাজার চান। তবে পার্লামেন্ট মেম্বার বা সরকারি কর্মকর্তাদের অপ্রকাশিত তথ্য ব্যবহার করে আর্থিক সুবিধা নেওয়া নিষিদ্ধ হওয়া উচিত। কোনো বিশেষ গোষ্ঠী নয়, কেবল মার্কিন জনগণের স্বার্থেই প্রেসিডেন্ট এ ধরনের নির্দেশনা দিয়েছেন।

ডেভিস ইঙ্গল আরও বলেন, কিন্তু প্রমাণ ছাড়া প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ ভিত্তিহীন ও দায়িত্বজ্ঞানহীন সাংবাদিকতা। তবে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ ও এনপিআরের প্রতিবেদনে কিছু সুনির্দিষ্ট ঘটনার উল্লেখ করা হয়েছে, যা এই সন্দেহকে আরও ঘনীভূত করেছে।

চুক্তি করার এটাই শেষ সুযোগ, না হলে পুরো ইরান উড়িয়ে দেব—ফক্স নিউজকে ট্রাম্প

চুক্তি না হলে ইরানের প্রতিটি বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতু গুঁড়িয়ে দেওয়ার হুমকি ট্রাম্পের

ইরান ইস্যুতে আলোচনার জন্য সোমবার পাকিস্তান যাচ্ছে মার্কিন প্রতিনিধিদল: ট্রাম্প

এবার উন্মুক্ত বাইবেল পাঠের আসরে অংশ নেবেন ট্রাম্প

বিশ্বজুড়ে ইরান-সংশ্লিষ্ট জাহাজ জব্দের প্রস্তুতি নিচ্ছে মার্কিন বাহিনী

হরমুজ বন্ধের ভয় দেখিয়ে ইরান ব্ল্যাকমেল করতে পারবে না: ট্রাম্প

ইরান-হরমুজ নিয়ে এক ঘণ্টায় ট্রাম্পের ৭ দাবি, সব কটিই মিথ্যা

আমার কাছে ইরান প্রসঙ্গে ‘বেশ কিছু ভালো খবর’ আছে: ট্রাম্প

হরমুজ প্রণালি খোলার কথা শুনে সি খুব খুশি হয়েছেন: ট্রাম্প

বিয়ে করতে কেন দেশ ছাড়ছেন পশ্চিমা পুরুষেরা