হোম > বিশ্ব > যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা

ইরানে পাঠাতে সেনাদের ধর্মযুদ্ধের দোহাই দিচ্ছেন মার্কিন কমান্ডাররা

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

ফাইল ছবি

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কমান্ডাররা ইরান যুদ্ধে অংশগ্রহণের ন্যায্যতা দেখানোর জন্য তথাকথিত ‘শেষ যুগ’ সম্পর্কিত উগ্র খ্রিষ্টধর্মীয় বক্তব্য ব্যবহার করছেন। সোজা কথায় একটি ধর্মযুদ্ধের আবহ তৈরির চেষ্টা করছেন মার্কিন কর্তারা। একটি ওয়াচডগ গ্রুপের কাছে এমনই অভিযোগ করা হয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

মিলিটারি রিলিজিয়াস ফ্রিডম ফাউন্ডেশন (এমআরএফএফ) জানিয়েছে, সশস্ত্র বাহিনীর সব শাখার সার্ভিস সদস্যদের কাছ থেকে—মেরিনস, এয়ার ফোর্স এবং স্পেস ফোর্সসহ—২০০ টিরও বেশি অভিযোগ তারা পেয়েছে। একটি ইউনিটের নন–কমিশন্ড অফিসার অভিযোগ করেছেন, তাঁকে ‘যেকোনো মুহূর্তে ইরানের বিরুদ্ধে অপারেশনে যোগ দিতে’ পাঠানো হতে পারে।

এমআরএফএফ–এর কাছে দেওয়া এক অভিযোগের নথি দ্য গার্ডিয়ান দেখেছে। সেই অভিযোগ সেই সদস্য অভিযোগ করেন, তাদের কমান্ডার তাদের সৈন্যদের বলেছেন, এটি ‘সবই ঐশ্বরিক পরিকল্পনার অংশ’ এবং তিনি বিশেষভাবে রেভিলেশন বই থেকে আর্মাগেডন বা কেয়ামত এবং যিশুখ্রিষ্টের নিকটবর্তী প্রত্যাবর্তনের উল্লেখ করেছেন।

এই সদস্য আরও যোগ করেছেন, ‘তিনি (কমান্ডার) বলেছিলেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে যিশু নির্দেশ দিয়েছেন ইরানে সিগন্যাল ফায়ার জ্বালাতে, যাতে আর্মাগেডন ঘটানো যায় এবং তাঁর পৃথিবীতে প্রত্যাবর্তনের চিহ্ন তৈরি হয়”।’

এই অভিযোগটি ১৫ জন সেনার পক্ষ থেকে দায়ের করা হয়েছে, যার মধ্যে ১১ জন খ্রিষ্টান, একজন মুসলিম এবং একজন ইহুদি। অভিযোগটি প্রথমে এমআরএফএফ জোনাথন লারসেন নামে এক স্বাধীন সাংবাদিকের সঙ্গে শেয়ার করে। পরে তিনি তা সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেন বিষয়টি।

সংস্থাটির প্রেসিডেন্ট মিকি ওয়াইনস্টাইন—যিনি নিজেও একসময় মার্কিন এয়ার ফোর্সে কাজ করেছেন—গার্ডিয়ানকে বলেন, ‘যখনই ইসরায়েল বা যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে কোনো সংঘাতে যুক্ত হয়, আমরা তখনই এই ধরনের কিছু পাই। খ্রিষ্টান কট্টর জাতীয়তাবাদীরা আমাদের সরকার দখল করেছে এবং অবশ্যই আমাদের মার্কিন সামরিক বাহিনীর ওপরও তাদের দখল আছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সামরিক সদস্যরা সত্যিই নিজের স্বার্থের জন্য দাঁড়াতে পারে না বা কথা বলতে পারে না। কারণ, সামরিক ঊর্ধ্বতন ব্যক্তিটি স্টারবাক্সের শিফট ম্যানেজারের মতো নয়।’ এক বিবৃতিতে ওয়াইনস্টাইন বলেন, এই রিপোর্টগুলো সামরিক বাহিনীতে খ্রিষ্টান উগ্রবাদ বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়। তিনি উল্লেখ করেছেন—অভিযোগকারীরা ‘তাদের কমান্ডারদের সীমাহীন উচ্ছ্বাসের কথা জানাচ্ছেন যারা একটি ‘বাইবেল-অনুমোদিত’ যুদ্ধকে দেখছেন, যা স্পষ্টতই মৌলবাদী খ্রিষ্টান ‘অন্তিম যুগের’ ত্বরান্বিত আগমনের অস্বীকারযোগ্য চিহ্ন।’ তিনি বলেন, এই অভিযোগগুলো স্পষ্টভাবে চার্চ ও রাষ্ট্রের বিচ্ছেদের লঙ্ঘন তুলে ধরছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ নিজেও খ্রিষ্টান জাতীয়তাবাদী বলে পরিচিত। তিনি পূর্বে ‘স্ফিয়ার সার্ভেইনটি’ মতবাদকে সমর্থন করেছেন, যা খ্রিষ্টান রিকনস্ট্রাকশনিজমের উগ্র বিশ্বাস থেকে উদ্ভূত। এই দর্শন অনুযায়ী সমকামীদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া এবং কঠোরভাবে পিতৃতান্ত্রিক পরিবার ও চার্চ থাকা উচিত।

গত বছরের আগস্টে এক্সে সিএনএন–এর একটি ভিডিও খণ্ডাংশ পুনঃপ্রকাশ করেন। সেই ভিডিওতে ইডাহোভিত্তিক কমিউনিয়নের কো-ফাউন্ডার পাস্টর ডগ উইলসন দেখানো হয়। তিনিও খ্রিষ্টান ন্যাশনালিস্ট। সেই সেগমেন্টে উইলসন বলেন, তিনি বিশ্বাস করেন না যে—নারীরা সামরিক বাহিনীতে নেতৃত্বের পদে থাকতে পারে বা হাই–প্রোফাইল যুদ্ধদলীয় ভূমিকায় থাকতে পারবে। উইলসন বলেন, ‘আমি চাই এই দেশটি খ্রিষ্টান দেশ হোক, এবং আমি চাই এই পৃথিবীটি খ্রিষ্টান পৃথিবী হোক।’

অভিযোগ সম্পর্কে মন্তব্যের জন্য পেন্টাগন কোনো উত্তর দেয়নি, বরং হেগসেথের ইরান অভিযানের ওপর আলোচনা করা পাবলিক ক্লিপ শেয়ার করেছে।

ট্রাম্পের যুদ্ধ ক্ষমতায় লাগাম পরাতে ব্যর্থ মার্কিন কংগ্রেস

ইরান যুদ্ধে চীন-রাশিয়া কোনো ফ্যাক্টর নয়: মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী

ভারত মহাসাগরে ইরানি যুদ্ধজাহাজ ডুবিয়েছে মার্কিন ডুবোজাহাজ: হেগসেথ

ফুল, গান আর সোনালি কফিনে শায়িত হলেন মাদকসম্রাট ‘এল মেনচো’

এপস্টেইনের অপরাধ নিয়ে ‘জানতেন না’ বিল ক্লিনটন

ইরানে আগ্রাসন: কোন চাওয়া পূরণ হলে যুদ্ধ থামাবেন ট্রাম্প

ইরানের মসনদে মোজাহেদিন-ই-খালককে বসাতে ছক কষছে ওয়াশিংটন

ইরানে হামলা চালাতে জেনারেলকে ৯ শব্দের নির্দেশ, কী বলেছিলেন ট্রাম্প

ইরানে প্রথম দিনের হামলাতেই যুক্তরাষ্ট্রের খরচ ৭৭৯ মিলিয়ন ডলার

ইসরায়েলের চাপেই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে তোলপাড়