যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের গ্র্যান্ড ক্যানিয়নে স্থানীয় সময় গত শনিবার আকস্মিক বন্যার পর ২০ জনের বেশি মানুষের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। তাদের সন্ধানে তল্লাশি চালাচ্ছেন পার্কের রেঞ্জাররা। রোববার ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিস জানায়, ২০ জনের বেশি ব্যক্তি নিখোঁজ বা তাদের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না। তাদের বিষয়ে তথ্য দিতে সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।
তুরস্কের রাষ্ট্র পরিচালিত সংবাদ সংস্থা আনাদোলুর খবরে বলা হয়েছে, শনিবার বিকেলে গ্র্যান্ড ক্যানিয়নের দুর্গম অভ্যন্তরীণ এলাকায়, কলোরাডো নদীর তীরে অবস্থিত ব্রাইট অ্যাঞ্জেল ক্যানিয়ন ও ফ্যান্টম র্যাঞ্চ এলাকায় আকস্মিক বন্যা আঘাত হানে। এলাকাটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন আকর্ষণ হলেও পার্কের ভেতরের এই অংশ অত্যন্ত দুর্গম।
পার্ক সার্ভিস জানিয়েছে, শনিবার যারা ওই এলাকায় ছিলেন, বিশেষ করে যেসব হাইকারের ক্যাম্পগ্রাউন্ডে থাকার রিজার্ভেশন ছিল অথবা যারা ব্রাইট অ্যাঞ্জেল ক্রিক করিডোর দিয়ে চলাচল করছিলেন, তাদের সম্পর্কে তথ্য জানা থাকলে সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করতে। দক্ষিণ-পূর্ব যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থিত গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন ন্যাশনাল পার্কের কর্মীরা বর্তমানে অ্যারিজোনা ডিপার্টমেন্ট অব পাবলিক সেফটির সঙ্গে সমন্বয় করে উদ্ধার ও সরিয়ে নেওয়ার কাজ এবং সম্ভাব্য ক্ষতিগ্রস্তদের সন্ধান করছেন।
রোববার সকালে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ফ্যান্টম র্যাঞ্চ এবং লোয়ার নর্থ কাইবাব ট্রেইল থেকে ৬২ জনকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী এখন পর্যন্ত কোনো আহত ব্যক্তির সন্ধান পাওয়া যায়নি।
পানির প্রবল স্রোতে পার্কের ট্রেইল অবকাঠামোর ব্যাপক ও ভয়াবহ ক্ষতি হয়েছে। কলোরাডো নদীর একটি গুরুত্বপূর্ণ উপনদী ব্রাইট অ্যাঞ্জেল ক্রিকের ওপর থাকা প্রায় সব পায়ে হাঁটার সেতু ধ্বংস হয়ে গেছে। ফলে জলধারাটি পার হয়ে হাইকারদের চলাচলের সুযোগ কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে পার্ক সার্ভিস ফ্যান্টম র্যাঞ্চ, ব্রাইট অ্যাঞ্জেল ক্যাম্পগ্রাউন্ড এবং পুরো নর্থ কাইবাব ট্রেইল পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করেছে।
কলোরাডো নদীর ওপর থাকা ব্ল্যাক ব্রিজ ও সিলভার ব্রিজও অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে। এ ছাড়া কলোরাডো নদীতে সব ধরনের নৌযান ও চলাচলও বন্ধ করা হয়েছে। বন্যার পানিতে ধাতব কাঠামো ও বিভিন্ন ধরনের ধ্বংসাবশেষ ভেসে এসে নদীতে পড়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পার্ক কর্তৃপক্ষ সতর্ক করে জানিয়েছে, সোমবার পর্যন্ত আরও বজ্রঝড় ও ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এর ফলে নতুন করে ধ্বংসাবশেষের স্রোত এবং পাহাড়ি পাথর ধসে পড়ার ঘটনা ঘটতে পারে।
এর আগে, গত সপ্তাহের মাঝামাঝি নেপালের পাহাড়ি এলাকায় আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের কারণে এখন পর্যন্ত ৭৫০ জনের বেশি মানুষ মারা গেছেন। এ ছাড়া, এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ৩ হাজারের বেশি মানুষ।