সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান একটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এই চুক্তি অনুযায়ী, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর হামলাকে অন্য দুই দেশের ওপরও হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মক্কায় সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের বৈঠকে এই চুক্তির ঘোষণা দেওয়া হয়।
‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ নামে পরিচিত এই সমঝোতায় তিনটি সুন্নি মুসলিম রাষ্ট্র পারস্পরিক নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদারের অঙ্গীকার করেছে। তবে কোন দেশ কী ধরনের সামরিক সহায়তা দেবে, সে বিষয়ে চুক্তিতে নির্দিষ্ট করে কিছু বলা হয়নি। তুরস্কের এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, এটি সম্পূর্ণরূপে প্রতিরক্ষামূলক চুক্তি।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাত তীব্র হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। এর প্রভাব পড়ে হরমুজ প্রণালি ও লোহিতসাগরের নৌপথে, যেখানে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে তিন দেশ নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেয়।
গত বছর সৌদি আরব ও পাকিস্তান দ্বিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তি করেছিল। এদিকে ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা ইয়েমেনে সৌদি-সমর্থিত বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি তারা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে ‘সামুদ্রিক অবরোধ’ ঘোষণা করে এবং লোহিতসাগরে সৌদি বিমানবন্দর, তেল স্থাপনা ও তেলবাহী জাহাজে হামলা চালায়। এর জবাবে সৌদি আরব হুতি অবস্থানে বিমান হামলা চালানোর পাশাপাশি লোহিতসাগর ও এডেন উপসাগরে জাহাজ চলাচল সুরক্ষিত রাখতে নতুন নৌজোট গঠন করেছে।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর হামলাকে তিন দেশের সবার বিরুদ্ধে হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই জোটে সৌদি আরবের রয়েছে শক্তিশালী অর্থনৈতিক সক্ষমতা ও বৃহৎ অস্ত্র ক্রয়ক্ষমতা, তুরস্ক ন্যাটোর দ্বিতীয় বৃহত্তম সামরিক শক্তি এবং উন্নত প্রতিরক্ষাশিল্পের অধিকারী আর পাকিস্তান একটি পারমাণবিক অস্ত্রধারী রাষ্ট্র। ফলে নতুন এই প্রতিরক্ষা জোট মধ্যপ্রাচ্য ও বৃহত্তর অঞ্চলের নিরাপত্তা ভারসাম্যে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।