ব্রিকসের পূর্ণ সদস্যপদ পাওয়ার জন্য ২০২৩ সালে আনুষ্ঠানিক আবেদন করলেও এখনো এই জোটের সদস্য হতে পারেনি পাকিস্তান। গত বছর জোটটিতে মিসর, ইথিওপিয়া, ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত যুক্ত হয়ে ‘ব্রিকস প্লাস’-এ রূপ নিলেও ভারতের অভ্যন্তরীণ ভেটোর কারণে ইসলামাবাদের আবেদন আটকে রয়েছে।
বর্তমানে ব্রিকসে ১১টি পূর্ণ সদস্য দেশ রয়েছে—ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন, দক্ষিণ আফ্রিকা, মিসর, ইথিওপিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। ২০২৪ সালে মিসর, ইথিওপিয়া, ইরান ও আমিরাত সদস্য হওয়ার পর জোটটির পরিসর বাড়ে।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ২০২৩ সালের নভেম্বরে জানায়, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও বহুপক্ষীয় ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যেই তারা ব্রিকসে যোগ দিতে চায়। সে সময় দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মুমতাজ জাহরা বালুচ ব্রিকসকে উন্নয়নশীল দেশগুলোর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বর্ণনা করেন।
রাশিয়ায় নিযুক্ত পাকিস্তানি রাষ্ট্রদূত মুহাম্মদ খালিদ জামালিও জানিয়েছিলেন, জোটে অন্তর্ভুক্তির সমর্থনে তারা সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছেন। বিশেষ করে রাশিয়ার সমর্থন চেয়েছে ইসলামাবাদ।
সাধারণত ব্রিকসে সদস্যপদ পেতে হলে বিদ্যমান সব সদস্য দেশের সম্মতি প্রয়োজন। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্যমতে, চীন ও রাশিয়ার সমর্থন থাকলেও ভারতের আপত্তিই পাকিস্তানের সদস্যপদ আটকে থাকার অন্যতম কারণ। তবে এ বিষয়ে ব্রিকসের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
অর্থনৈতিক দিক থেকেও ব্রিকসে যোগ দিতে আগ্রহী পাকিস্তান। নিক্কেই এশিয়ার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্রিকস-সমর্থিত নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকে প্রায় ৫৮০ মিলিয়ন ডলারের অংশীদারত্ব কিনেছে দেশটি, যাতে বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের ওপর নির্ভরতা কমানো যায়।
উল্লেখ্য, নতুন সদস্যদের অন্তর্ভুক্তির পর সম্প্রসারিত এই ব্রিকস জোট এখন বিশ্বের প্রায় ৪৯ শতাংশ জনসংখ্যা এবং ক্রয়ক্ষমতার সমতার (পিপিপি) ভিত্তিতে বৈশ্বিক জিডিপির প্রায় ৪০ শতাংশের প্রতিনিধিত্ব করছে। জোটের অভ্যন্তরীণ বাণিজ্যে ভারতের উপস্থিতিও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। এনডিটিভির তথ্যমতে, জোটভুক্ত দেশগুলোতে ভারতের রপ্তানি ৪৮ দশমিক ৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৬৪ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার থেকে ৯৫ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।