হোম > বিশ্ব > পাকিস্তান

পাকিস্তানে কট্টরপন্থীদের বিরুদ্ধে খড়্গহস্ত আসিম মুনির, কমছে ধর্মকেন্দ্রিক সহিংসতা

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

পাকিস্তানে কট্টরপন্থী গোষ্ঠীগুলোর তরফ থেকে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে সৃষ্ট সহিংসতা কমছে। ছবি: এএফপি

পাকিস্তানের করাচিতে ধর্ম অবমাননার অভিযোগকে কেন্দ্র করে একটি খ্রিস্টান পরিবারের চার নারী ও এক শিশুকে ঘিরে শত শত মানুষ জড়ো হওয়ার পর বড় ধরনের সহিংসতা ঠেকাতে অভিযান চালায় পুলিশ। সরু এক সড়কে উত্তেজিত জনতার মুখোমুখি হয়ে পুলিশ কর্মকর্তা সাংহার আলী মালিক বুঝতে পেরেছিলেন, পরিবারটিকে বাঁচাতে তাদের হাতে হয়তো মাত্র কয়েক মিনিট সময় রয়েছে।

পাকিস্তানে ১৯৯০ সাল থেকে ধর্ম অবমাননার অভিযোগকে কেন্দ্র করে প্রায় ৯০টি গণপিটুনি ও হত্যার ঘটনা ঘটেছে। অতীতের বহু ঘটনার শুরু হয়েছিল একইভাবে—ধর্ম অবমাননার অভিযোগ, দ্রুত জনতার সমাবেশ এবং এরপর সহিংসতা। তবে করাচির সাম্প্রতিক ঘটনায় পরিস্থিতি ভিন্ন দিকে মোড় নেয়। জনতার মুখে তখনও ছিল ‘ধর্ম অবমাননাকারীদের মৃত্যু চাই!’ স্লোগান। কিন্তু অতীতে এ ধরনের সহিংসতা উসকে দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা পাকিস্তানের শক্তিশালী কট্টরপন্থী গোষ্ঠীগুলোর কোনো দৃশ্যমান উপস্থিতি ছিল না।

পুলিশ কর্মকর্তা মালিকের মতে, এটিই পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণে আনার সুযোগ তৈরি করে। তিনি উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে, ‘কোনো ধর্মই আপনাকে নিজের হাতে আইন তুলে নেওয়ার অনুমতি দেয় না।’ এ সময় মুসলমানদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ কোরআনের আয়াতও উদ্ধৃত করেন তিনি।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে মালিক বলেন, এমনকি তিনিও অবাক হয়েছিলেন যে মানুষ তার কথা শুনেছিল। পুলিশ ওই অভিযোগ তদন্ত করবে বলে আশ্বস্ত করার পর জনতা ধীরে ধীরে সরে যায়। শেষ পর্যন্ত পরিবারটির সদস্যদের নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে পরিচালিত প্রাথমিক তদন্তে তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা বলে প্রমাণিত হয়েছে বলে জানান মালিক।

কট্টরপন্থীদের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীর অভিযান

চারটি সরকারি ও নিরাপত্তা সূত্র এবং কয়েকজন বিশ্লেষকের মতে, পাকিস্তানের শক্তিশালী ইসলামপন্থী গোষ্ঠীগুলো দীর্ঘদিন ধরে দেশটির সামরিক বাহিনীর সমর্থন পেয়ে এসেছে। এসব গোষ্ঠীকে কখনো বেসামরিক সরকারকে নিয়ন্ত্রণে রাখার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে, আবার কখনো বৈরী দেশগুলোর সঙ্গে উত্তেজনা উসকে দিতেও তাদের ভূমিকা ছিল।

কিন্তু এখন এসব গোষ্ঠী অনেকটাই আড়ালে চলে গেছে। এর পেছনে রয়েছে সামরিক বাহিনীর নেতৃত্বে পরিচালিত একটি কঠোর দমন অভিযান, যার তত্ত্বাবধানে ছিলেন সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির বলে জানিয়েছে সূত্রগুলো। সূত্র ও বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানের পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নত করা এবং দেশটির অর্থনীতিকে পশ্চিমের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে একীভূত করার আকাঙ্ক্ষা থেকেই এই দমন অভিযান জোরদার করা হয়েছে। একই সঙ্গে মুনির মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্কও কাজে লাগাতে চাইছেন।

ইসলামপন্থী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক এই অভিযানের কারণগুলো এর আগে এত বিস্তারিতভাবে প্রকাশিত হয়নি। মুনিরের ঘনিষ্ঠ মহলের একজন সূত্র বলেন, সামরিক বাহিনীর প্রধান ‘এ বিষয়ে পরিষ্কার যে, এই ইসলামপন্থী গোষ্ঠীগুলো এবং একটি অগ্রসরমান পাকিস্তান একসঙ্গে চলতে পারে না।’ সূত্রটি আরও বলেন, পারমাণবিক অস্ত্রধারী পাকিস্তানের একটি ইতিবাচক আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি তুলে ধরতে কট্টরপন্থী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে ‘শূন্য সহনশীলতা’ নিশ্চিত করার বিষয়টি মুনির নিজেই তদারক করছেন।

পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী তালাল চৌধুরী বলেন, ‘রাষ্ট্র অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়েছে।’ অভিযানের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সরকার ও সেনাবাহিনী একই অবস্থানে রয়েছে...এর আগে কখনো এতটা স্পষ্টতা ছিল না। যে কোনো গোষ্ঠী জনগণকে বা এই দেশকে নিজেদের নির্দেশের কাছে জিম্মি করার চেষ্টা করলে তাদের চূর্ণ করে দেওয়াই লক্ষ্য।’

দুই-তৃতীয়াংশ কমেছে ব্লাসফেমি মামলা

এই দমন অভিযানের সবচেয়ে দৃশ্যমান প্রভাবগুলোর একটি হলো ধর্ম অবমাননার অভিযোগে নিবন্ধিত মামলার সংখ্যা কমে যাওয়া। স্বাধীন প্রতিষ্ঠান হিউম্যান রাইটস কমিশন অব পাকিস্তানের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ধর্ম অবমাননার অভিযোগে ১৩টি মামলা নিবন্ধিত হয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোর একই সময়ের তুলনায় এ সংখ্যা প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ কম।

সংঘাত পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান আর্মড কনফ্লিক্ট লোকেশন অ্যান্ড ইভেন্ট ডেটার তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানে প্রতি বছর গড়ে সাতটির বেশি ধর্ম অবমাননাকে কেন্দ্র করে দাঙ্গা বা হামলার ঘটনা ঘটেছে। অথচ গত ১২ মাসে এমন ঘটনা ঘটেছে মাত্র একটি।

মুনিরের সামনে অর্থনীতি ও বিদ্রোহের চ্যালেঞ্জ

পাকিস্তানের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তারকারী সেনাপ্রধানদের ধারাবাহিকতায় মুনির এখন দেশের ভাবমূর্তি নতুন করে গড়ে তুলতে সক্রিয়। তিনি যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও সৌদি আরবের সঙ্গে সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ করার চেষ্টা করছেন।

তবে দেশের অভ্যন্তরে তাঁর সামনে রয়েছে একাধিক কঠিন চ্যালেঞ্জ। এর মধ্যে রয়েছে ভয়াবহ বিদ্রোহী তৎপরতা এবং বিপর্যস্ত অর্থনীতি। মুনির একজন ইমামের ছেলে এবং নিজেও গভীরভাবে রক্ষণশীল মুসলিম। পাকিস্তানের রাষ্ট্রযন্ত্রের গভীরে ধর্মতত্ত্বের প্রভাব এখনো শক্তিশালী। তবু আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও সমর্থন পাওয়ার লক্ষ্যে তিনি ক্রিপ্টোকারেন্সি চুক্তি, বিদেশি তহবিল সংগ্রহ, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতে মধ্যস্থতা এবং সৌদি আরবের সঙ্গে পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরের মতো উদ্যোগ নিয়েছেন।

২০২৫ সালের গ্রীষ্মে পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের উদ্বেগ বাড়তে থাকে যে, কট্টরপন্থীদের ফ্রান্স ও অন্যান্য ইউরোপীয় দেশের বিরুদ্ধে শত্রুতামূলক অবস্থান পাকিস্তানি পণ্যের জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের শুল্ক সুবিধা হুমকির মুখে ফেলতে পারে। দুই পাকিস্তানি সরকারি সূত্রের মতে, পাকিস্তানের মোট রপ্তানির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ইউরোপীয় ইউনিয়নে যায়। ফলে এই বাজারে হঠাৎ রপ্তানি কমে গেলে পাকিস্তানের অর্থনীতি বড় ধরনের সংকটে পড়তে পারত।

ইউরোপীয় কমিশন ও পাকিস্তানের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধের জবাব দেয়নি।

খ্রিস্টান নিপীড়ন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ

ট্রাম্প প্রশাসনও পাকিস্তানে খ্রিস্টানদের কথিত নিপীড়নের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলেছে। মার্কিন সরকারের ধর্মীয় স্বাধীনতা পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ইউএস কমিশন অন ইন্টারন্যাশনাল রিলিজিয়াস ফ্রিডম গত বছর সুপারিশ করেছিল, পাকিস্তানকে ধর্ম অবমাননা-সংক্রান্ত আইনের কারণে আবারও ‘বিশেষ উদ্বেগের দেশ’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হোক। পাকিস্তান অবশ্য এই তালিকাভুক্তি প্রত্যাখ্যান করেছে।

সিঙ্গাপুরের এস. রাজরত্নম স্কুল অব ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের বিশ্লেষক আবদুল বাসিত বলেন, পাকিস্তানের দুই সবচেয়ে খনিজসমৃদ্ধ অঞ্চল বেলুচিস্তান ও খাইবার পাখতুনখোয়ায় ক্রমবর্ধমান বিদ্রোহ মুনিরের মধ্যে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ তৈরি করে থাকতে পারে।

গত বছর মুনির যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কাছে পাকিস্তানের খনিজ খাতে বিনিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। বাসিত বলেন, ‘ধর্মীয় গোষ্ঠীগুলো এখন আর আগের মতো পছন্দের নয়।’ তিনি বলেন, এসব বিদ্রোহের পেছনে থাকা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো সদ্য নিষিদ্ধ ইসলামপন্থী সংগঠনগুলোর সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নয়। তবে ঐতিহাসিকভাবে তারা একই ধরনের তরুণ ও উগ্রপন্থায় দীক্ষিত মানুষের ওপর নির্ভর করেছে।

স্টিমসন সেন্টারের দক্ষিণ এশিয়া কর্মসূচির পরিচালক এলিজাবেথ থ্রেলকেল্ড বলেন, ‘প্রশ্ন হলো, পাকিস্তান এই মনোযোগ ধরে রাখতে সক্ষম ও ইচ্ছুক কি না।’

টিএলপিকে ‘পাকিস্তানের জন্য গুরুতর হুমকি’ ঘোষণা

পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় কট্টরপন্থী সংগঠন তেহরিক-ই-লাব্বাইক পাকিস্তান বা টিএলপি দীর্ঘদিন ধরে ‘ধর্ম অবমাননাকারীদের মৃত্যু চাই!’ স্লোগানকে নিজেদের আন্দোলনের প্রধান আহ্বান হিসেবে ব্যবহার করে আসছিল। গত বছরের শেষ দিকে সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ করা হয়। তাদের বহু নেতাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে, সংগঠনটির মসজিদগুলো সিলগালা করা হয়েছে এবং ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়েছে।

টিএলপিকে নিষিদ্ধ করার পথ তৈরি করা একটি সরকারি নথি, যা আগে প্রকাশিত হয়নি, সেখানে বলা হয়েছিল যে সংগঠনটি ‘পাকিস্তানের জন্য গুরুতর হুমকিতে’ পরিণত হয়েছে। নথিতে বলা হয়, সংগঠনটি শুধু ‘অভ্যন্তরীণ শান্তি’ ক্ষতিগ্রস্ত করছে না, ‘আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশের ভাবমূর্তির’ও ক্ষতি করছে।

টিএলপির এক মুখপাত্র গত বছর সংগঠনটির প্রকাশিত একটি বিবৃতির প্রতি রয়টার্সের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। ওই বিবৃতিতে নিষেধাজ্ঞাকে অবৈধ ও অসাংবিধানিক বলা হয়েছিল। এর আগে ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্স বা এফএটিএফ-এর চাপের মুখে পাকিস্তান লস্কর-ই-তৈয়বা ও জইশ-ই-মোহাম্মদের মতো অন্যান্য ইসলামপন্থী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধেও অভিযান চালিয়েছিল। এফএটিএফ হলো সন্ত্রাসী অর্থায়নবিরোধী একটি বৈশ্বিক পর্যবেক্ষক সংস্থা।

আফগান তালেবানকে ঘিরেও অবস্থান পরিবর্তন

বিশ্লেষক বাসিতের মতে, সর্বশেষ দমন অভিযানের পেছনে আফগান তালেবানকে দীর্ঘদিন সমর্থন করার বিষয়ে পাকিস্তানের অভ্যন্তরে নতুন করে আত্মসমালোচনার ভূমিকা রয়েছে। ইসলামাবাদ এখন অভিযোগ করছে, প্রতিবেশী আফগানিস্তানে ক্ষমতায় থাকা তালেবান পাকিস্তানি রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমান ইসলামপন্থী বিদ্রোহকে উসকে দিচ্ছে।

আফগান তালেবান এই অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে অভিহিত করেছে। তালেবানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র টিএলপির বিরুদ্ধে পাকিস্তানের দমন অভিযান নিয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বিষয়টিকে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার বলে উল্লেখ করেন।

সংখ্যালঘুদের কাছে পরিবর্তন ‘অবিশ্বাস্য’

পাকিস্তানের খ্রিস্টান, শিয়া ও আহমদি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের কাছে এই পরিবর্তন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এবং একই সঙ্গে বিস্ময়কর। অতীতে ধর্ম অবমাননাকে কেন্দ্র করে হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের, এমনকি পুলিশ কর্মকর্তাদেরও, কখনো কখনো গোলাপের পাপড়ি ছিটিয়ে অভ্যর্থনা জানানো হয়েছে কিংবা লাল গালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে।

খ্রিস্টানদের গির্জা কিংবা সংখ্যালঘু মুসলিমদের মসজিদে আগুন দেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত বহু মানুষকেও প্রকাশ্যে প্রশংসা করা হয়েছে। পাকিস্তানের আইনে ধর্ম অবমাননার শাস্তি এখনো মৃত্যুদণ্ড। বিষয়টি এতটাই স্পর্শকাতর যে, শুধু সন্দেহের ভিত্তিতেও দাঙ্গা ও গণপিটুনির ঘটনা ঘটতে পারে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে, এসব ঘটনার শিকার ব্যক্তিদের পরিবার খুব কম ক্ষেত্রেই ন্যায়বিচার পেয়েছে। কারণ বিচারক ও আইনজীবীরা এসব মামলা হাতে নিতে ভয় পেতেন।

করাচিতে গত মাসে জনতার মুখোমুখি হওয়া পুলিশ কর্মকর্তা মালিক বলেন, তিনি এবং জনতার সামনে দাঁড়ানো অন্য সব পুলিশ সদস্যই ‘মনের মধ্যে ভয়’ অনুভব করছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত ওই খ্রিস্টান পরিবারকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়।

সামরিক বাহিনীর সঙ্গে টিএলপির পুরোনো সম্পর্কের অভিযোগ

টিএলপি প্রতিষ্ঠিত হয় ২০১৫ সালে। সংগঠনটির উত্থানের সঙ্গে জড়িয়ে ছিল এমন এক পুলিশ দেহরক্ষীর কারাবন্দিত্ব, যিনি ২০১১ সালে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে অভিযুক্ত এক খ্রিস্টান নারীকে সমর্থন করার কারণে পাকিস্তানের এক গভর্নরকে গুলি করে হত্যা করেছিলেন।

ওই দেহরক্ষীকে দোষী সাব্যস্ত করে ফাঁসি দেওয়া হয়। টিএলপি প্রতিষ্ঠার কয়েক মাস পর তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়। বিশ্লেষকদের মতে, সংগঠনটি প্রতিষ্ঠার পরপরই সন্দেহ দেখা দেয় যে, বেসামরিক সরকার ও প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলগুলোকে নিয়ন্ত্রণে রাখার উদ্দেশ্যে পাকিস্তানের সামরিক কাঠামো, যার মধ্যে দেশটির গোয়েন্দা সংস্থাগুলোও রয়েছে, অন্তত আংশিকভাবে টিএলপির প্রতিষ্ঠা তদারক করেছিল।

২০১৭ সালে টিএলপির নেতৃত্বে সহিংস দাঙ্গার পর তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল কামার জাভেদ বাজওয়া সংগঠনটির বিক্ষোভকারীদের ‘আমাদেরই মানুষ’ বলে অভিহিত করেছিলেন। পরে পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট গোয়েন্দা সংস্থা ও সামরিক বাহিনীকে রাজনীতি থেকে দূরে থাকার নির্দেশ দেয়। তবে সামরিক বাহিনী বা গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে টিএলপির সরাসরি সম্পর্কের বিষয়টি আদালত চূড়ান্তভাবে প্রতিষ্ঠা করেনি।

তবু বিশ্লেষক ও সাবেক কর্মকর্তারা সতর্ক করে দিয়েছেন, নিষেধাজ্ঞা জারি হলেও পাকিস্তানি সমাজে টিএলপির প্রভাব রাতারাতি অদৃশ্য হবে না। দমন অভিযানের পর সংগঠনটির সমর্থকদের মধ্যে যে প্রাথমিক ধাক্কা তৈরি হয়েছে, তা ভবিষ্যতে পাল্টা প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিতে পারে।

২০১৭ সালের প্রাণঘাতী টিএলপি দাঙ্গার সময় পাকিস্তান সরকারের সন্ত্রাসবিরোধী বিভাগের প্রধান ছিলেন ইহসান ঘানি। তার আশঙ্কা, রাজনৈতিকভাবে টিএলপির ব্যবহারযোগ্যতা যদি আবার পরিবর্তিত হয়, তাহলে সংগঠনটি পূর্ণ শক্তিতে ফিরে আসতে পারে। তিনি রয়টার্সকে বলেন, ‘রাষ্ট্রের নীতি হিসেবে যে মাত্রার একটি বিষয়কে আপনি বছরের পর বছর ধরে লালন করেছেন, সেটিকে এভাবে সুইচ অন, সুইচ অফ করা যায় না।’

পাকিস্তানের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়গুলোর কাছে সাম্প্রতিক এই পরিবর্তন এখনো যেন ‘সত্যি হওয়ার মতো অতিরিক্ত ভালো’। করাচিতে উদ্ধার করা খ্রিস্টান নারীদের একজন রয়টার্সকে বলেন, শারীরিকভাবে ‘আমরা নিরাপদ।’ তবে তিনি বলেন, ‘ভয় এখনো পুরোপুরি দূর হয়নি।’

ইসলামপন্থী উগ্র দলগুলোর ওপর কড়াকড়ির পর পাকিস্তানে ধর্ম অবমাননাও কমে গেছে

ভারতীয় সংযোগ অস্বীকার পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের আন্দোলনকারীদের

বিদেশি সংবাদমাধ্যমের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করল পাকিস্তান

পাকিস্তানে আত্মঘাতী বোমা হামলা—নিহত ৭, আহত বহু

পাকিস্তানে বিশ্বখ্যাত পর্বতারোহী নির্মল পুরজার মৃত্যু, মরদেহ উদ্ধার

পাকিস্তানে পর্বতারোহণে গিয়ে নিখোঁজ কে এই নির্মল পুরজা

বেলুচিস্তানে কয়লাখনিতে বিস্ফোরণ, নিহত অন্তত ৩৪

বাংলাদেশে গাড়ি রপ্তানি করবে পাকিস্তান, চুক্তি স্বাক্ষর

ইমরান খানের বন্দিত্ব ম্যান্ডেলা রুলসের স্পষ্ট লঙ্ঘন—জাতিসংঘ বিশেষজ্ঞ

পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে আত্মঘাতী হামলা, ১২ সেনাসহ নিহত ১৫