পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে ইসলামাবাদের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তাঁর দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) আজ এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
আজ ভোরে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্যে ইমরান খানকে ইসলামাবাদের হাসপাতালে নেওয়ার কথা জানিয়েছে পিটিআই। এক বিবৃতিতে তাঁর দল বলেছে, ‘সুপ্রিম কোর্টের আদেশের পর সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে আদিয়ালা জেল থেকে ইসলামাবাদের শিফা আন্তর্জাতিক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।’ তবে তিনি কত দিন সেখানে থাকবেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
পিটিআই ইমরান খানের শারীরিক অবস্থার অবনতির কথা উল্লেখ করে হাসপাতালে ভর্তির আবেদন জানিয়ে একটি পিটিশন দাখিল করেছিল। আদালত একটি বহুমুখী চিকিৎসা বোর্ডের মাধ্যমে তাঁর পরীক্ষা ও চিকিৎসার নির্দেশ দিয়েছেন। মঙ্গলবার বিচারপতি শহীদ ওয়াহিদের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ সরকারকে তাঁর স্বাস্থ্যগত পরীক্ষা ও চিকিৎসা নিশ্চিত করতে শিফা আন্তর্জাতিক হাসপাতালে স্থানান্তরের কথা বলার পর আজই সেখানে নেওয়া হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চের আদেশ পুনর্বিবেচনার আবেদন করেছিল পাকিস্তান সরকার। কিন্তু অসম্পূর্ণ কাগজপত্রের কারণ দেখিয়ে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার কার্যালয় সেই আবেদন ফেরত দেয়। ইমরানকে তাঁর পছন্দের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হলে তা বৈষম্যমূলক হবে বলে দাবি সরকারের। পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডন জানিয়েছে, সরকার কিছু সংশোধনীসহ নতুন পিটিশন এবং রেজিস্ট্রারের আপত্তির বিরুদ্ধে আবেদন করতে পারে।
এ বছরের ফেব্রুয়ারি থেকেই ইমরানের দল পিটিআই ও আইনজীবীরা তাঁর স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে আসছেন। একপর্যায়ে তাঁর দল দাবি করেছিল, যথাসময়ে চিকিৎসা না পাওয়ায় তাঁর ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি মাত্র ১৫ শতাংশে নেমে এসেছে। পরে তাঁকে ইসলামাবাদের সরকারি পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেস (পিআইএমএস) হাসপাতালে বেশ কয়েকবার অল্প সময়ের জন্য নেওয়া হয়েছিল।
চলতি বছরের শুরুতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের কাছে ১৪ সাবেক আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অধিনায়ক একটি খোলাচিঠি লিখেছিলেন। তাঁরা ১৯৯২ ওয়ানডে বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়কের স্বাস্থ্য নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে সঠিক চিকিৎসা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। সেই অধিনায়কের মধ্যে ছিলেন গ্রেগ চ্যাপেল, সুনীল গাভাস্কার, কপিল দেবের মতো কিংবদন্তিরা।
২০২৩ সালের আগস্ট থেকে ইমরান রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা জেলে বন্দী রয়েছেন। দুর্নীতির অভিযোগে তাঁকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তবে তিনি ও তাঁর দল এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।