পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের একটি হাসপাতালে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সময় নিজের জীবন ঝুঁকিতে ফেলে এক নবজাতককে উদ্ধার করা নার্স রাজিয়া নুরিনকে দেশটির অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ বেসামরিক পুরস্কারে ভূষিত করা হচ্ছে। ওই অগ্নিকাণ্ডে হাসপাতালটির নবজাতক ওয়ার্ডে থাকা ১৫ শিশুর মধ্যে ১৪ জনই মারা যায়।
গত বুধবার (২৬ আগস্ট) পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেসের (পিআইএমএস) তৃতীয় তলার নার্সারিতে আগুন লাগে। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ৫১ সেকেন্ডের একটি সিসিটিভি ভিডিওতে দেখা যায়, আগুনে জ্বলতে থাকা কক্ষে ছুটে যান রাজিয়া। মাত্র কয়েক সেকেন্ড পরই এক নবজাতককে নিয়ে বেরিয়ে আসেন তিনি। এই অবস্থায় তিনি আবারও ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করলেও আগুনের তীব্রতা ও ঘন ধোঁয়ার কারণে আর সম্ভব হয়নি।
গতকাল রোববার (৩০ আগস্ট) পাকিস্তানের বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল সামা টিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কান্নাজড়িত কণ্ঠে রাজিয়া নুরিন জানান, তিনি কোনো পুরস্কারের আশায় শিশুটিকে উদ্ধার করেননি। এটি তাঁর দায়িত্ব ছিল।
রাজিয়া নুরিন বলেন, ‘আমি পুরস্কারের জন্য এটি করিনি। আমি শিশুদের ভালোবাসি এবং তাদের যত্ন নেওয়া আমার ভালোবাসার কাজ।’ অন্য শিশুদেরও বাঁচাতে চেয়েছিলেন তিনি, কিন্তু মাত্র দুই মিনিটের মধ্যে পুরো নার্সারিতে আগুন ছড়িয়ে পড়ে।
অন্য শিশুদের বাঁচাতে না পারার কষ্ট এখনো রাজিয়াকে তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আমি ঘুমাতে পারি না। ওই শিশুরা আমাকে ঘুমাতে দেয় না।’
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের নির্দেশে করা তদন্তে বলা হয়েছে, রাজিয়া আগুনের মধ্যে ঢোকার মাত্র আট সেকেন্ড পর নবজাতককে কোলে নিয়ে বেরিয়ে আসেন। আগুন লাগার পর প্রায় দুই মিনিটের মধ্যেই নার্সারির পরিস্থিতির ভয়াবহ অবনতি ঘটে।
রাজিয়াকে ‘সিতারা-ই-খিদমত’ বা ‘তারকা সেবক’ পুরস্কার দেওয়া হবে। অসাধারণ জনসেবা ও দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এই পুরস্কার দেওয়া হয়। এর সঙ্গে যে পরিমাণ অর্থ দেওয়া হবে, বাংলাদেশি মুদ্রায় তা ৪৪ লাখ টাকার বেশি।
প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ রাজিয়ার সাহস ও কর্তব্যনিষ্ঠার প্রশংসা করেছেন। তদন্তের পর আট কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে এবং তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দায়ীদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলারও নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তবে আগুনের সূত্রপাতের কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।