ইরানের পুরস্কারপ্রাপ্ত মানবাধিকার আইনজীবী নাসরিন সোতুদেহকে তেহরানে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে তাঁর পরিবার। তবে গ্রেপ্তারের পর থেকে তাঁর অবস্থান এখনো অজানা। এই ঘটনায় দেশটির নাগরিক সমাজের ওপর সরকারের দমন-পীড়ন নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মানবাধিকারকর্মীরা।
সোতুদেহর মেয়ে মেহরাভে খানদান জানান, বুধবার গভীর রাতে তেহরানে তাঁদের বাসা থেকে তাঁর মাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। তিনি ধারণা করছেন, সাম্প্রতিক সময়ে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা নিয়ে দেওয়া কিছু সাক্ষাৎকারে সরকারের সমালোচনা করার কারণেই এই গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
খানদান বলেন, ‘আমরা জানি না কোন সংস্থা এই গ্রেপ্তার করেছে বা কারা এর পেছনে রয়েছে। তখন তিনি বাসায় একা ছিলেন, আর আমরা বিষয়টি জানতে পেরেছি পরদিন।’
তিনি জানান, গ্রেপ্তারের আগে তাঁর মা-কে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয়নি কিংবা কোনো ধরনের হুমকিও দেওয়া হয়নি। তবে তাঁর ফোন, ল্যাপটপসহ সব ইলেকট্রনিক ডিভাইস নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) যুক্তরাজ্যের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান জানিয়েছে, বর্তমানে ইরানে যোগাযোগ ব্যবস্থা আংশিকভাবে বিচ্ছিন্ন রয়েছে। ইন্টারনেট সীমিত করা হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক কলেও বাধা দেওয়া হচ্ছে। ফলে পরিস্থিতি সম্পর্কে সঠিক তথ্য পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
মানবাধিকার সংস্থা ‘ইরান হিউম্যান রাইটস’ জানিয়েছে, চলতি বছর ইরানে ইতিমধ্যেই অন্তত ১৪৫ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে। এ ছাড়া আরও চার শতাধিক মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর পাওয়া গেলেও তা এখনো যাচাই করা সম্ভব হয়নি। চলমান সংঘাতের আড়ালে এসব ঘটনা আড়াল হয়ে যাচ্ছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সোতুদেহ দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক বন্দী, বিরোধী কর্মী এবং বাধ্যতামূলক হিজাব আইনের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া নারীদের পক্ষে আইনি লড়াই করে আসছেন। তাঁর কাজের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি ২০১২ সালে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের ‘সাখারভ’ পুরস্কার এবং ২০২০ সালে ‘রাইট লাইভলিহুড’ পুরস্কার অর্জন করেন।
গত দুই দশকে তিনি একাধিকবার গ্রেপ্তার ও কারাবরণ করেছেন। ২০২১ সালে শারীরিক অসুস্থতার কারণে তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল। তাঁর মেয়ে জানিয়েছেন, কারাগারে অনশন করার পর চিকিৎসকেরা তাঁর হৃদ্রোগ শনাক্ত করেন, যা মানসিক চাপ বাড়লে গুরুতর আকার ধারণ করতে পারে।
এদিকে, খানদানের স্বামী রেজা খানদানও ২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে কারাবন্দী রয়েছেন।