ইরানের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ খারগ দ্বীপে বড় ধরনের সামরিক হামলা চালানো হয়েছে। ইরানের আধা সরকারি সংবাদ সংস্থা ফার্স নিউজ এই হামলার খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছে। তারা জানিয়েছে, এই হামলায় দ্বীপটিতে সেনাবাহিনীর একটি প্রতিরক্ষা স্থাপনা, একটি নৌঘাঁটি, হেলিকপ্টার নিয়ন্ত্রণ টাওয়ার এবং একটি হেলিকপ্টার ক্যারিয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সরকারের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এই সংবাদ সংস্থার সূত্র মতে, খারগ দ্বীপের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক লক্ষ্যবস্তুগুলোতে সরাসরি আঘাত হানা হয়েছে।
এই হামলার প্রেক্ষাপটে ইরানের সেনাবাহিনী সদর দপ্তর থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে। এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যদি খারগ দ্বীপের তেল স্থাপনাগুলোতে কোনো ধরনের হামলা চালানো হয়, তবে ইরান কঠোর প্রতিশোধ নেবে। তারা স্পষ্ট করে দিয়েছে, এই অঞ্চলের যেকোনো তেল স্থাপনা বা পরিকাঠামো যদি কোনোভাবে আমেরিকার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকে, তবে সেগুলোকে হামলার লক্ষ্যবস্তু করা হবে।
সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে ট্রাম্প বলেছেন, মার্কিন সেনাবাহিনী দ্বীপের প্রতিটি সামরিক লক্ষ্যবস্তু সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করেছে। এই দ্বীপকেই বলা হয় ইরানের ‘রাজমুকুট রত্ন’। তবে তেল অবকাঠামো অক্ষত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ট্রাম্প। দ্বীপটি ইরানের ৯০ শতাংশ তেল পরিবহনের রপ্তানি টার্মিনাল হিসেবে কাজ করে এবং হরমুজ প্রণালি থেকে প্রায় ৩০০ মাইল উত্তর-পশ্চিমে এর অবস্থান।
ট্রাম্প প্রশাসনের ধারণা, ইরান খারগ দ্বীপ থেকেই হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণ করছে। এই কারণে সেখানে গতকাল রাতে ভারী বোমাবর্ষণ করা হয়েছে। কিন্তু খারগ দ্বীপে হামলা করেই যদি হরমুজ প্রণালি মুক্ত করা যায়, তাহলে এত দিন পরে কেন ট্রাম্প সেখানে হামলার নির্দেশ দিলেন, সেটি বোধগম্য নয়।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, কয়েক দিন ধরেই সৌদি আরব ও কাতারের মতো দেশগুলোর কিছু স্থাপনায় বিক্ষিপ্ত হামলার খবর পাওয়া গেছে। তবে ইরান এখন যে ধরনের বড় অভিযানের হুমকি দিচ্ছে, তা বাস্তবায়িত হলে পুরো মধ্যপ্রাচ্য এবং আন্তর্জাতিক তেল ও গ্যাস শিল্পের জন্য বিপর্যয়কর পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।
তেহরান এখন পর্যন্ত চরম ধৈর্য প্রদর্শনের কথা বলে এলেও তাদের তেল স্থাপনা আক্রান্ত হলে সেই ধৈর্য শেষ হয়ে যাবে বলে জানানো হয়েছে। মূলত আমেরিকা ইরানের তেলের ওপর আঘাত হানার যে প্রচ্ছন্ন হুমকি দিয়ে আসছে, তাকে রুখতেই ইরান এই পাল্টা হুমকির কার্ডটি ব্যবহার করছে।
বিশ্বের অন্যতম প্রধান জ্বালানি রপ্তানি কেন্দ্র হওয়ায় খারগ দ্বীপে অস্থিরতা পুরো বিশ্বের বাজার ব্যবস্থাকে ওলটপালট করে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।