হোম > বিশ্ব > মধ্যপ্রাচ্য

প্রতিটি বৈদ্যুতিক শকে আমি জ্ঞান হারাতাম—নাজিবের নির্যাতনের বর্ণনায় ঈসা

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

সিরিয়ার ভিন্নমতাবলম্বী মাহমুদ ঈসা ও সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের ঘনিষ্ঠ গোয়েন্দা কর্মকর্তা আতিফ নাজিব। ছবি: দ্য ন্যাশনাল

সিরিয়ার ভিন্নমতাবলম্বী মাহমুদ ঈসা জানিয়েছেন, সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের ঘনিষ্ঠ গোয়েন্দা কর্মকর্তা আতিফ নাজিবের হাতে তিনি ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন। নাজিবকে ২০১১ সালে দারায় শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ দমনে কঠোর ভূমিকার জন্য মঙ্গলবার দামেস্কের একটি আদালত মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন।

নাজিবের নির্যাতনের বর্ণনা দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ন্যাশনাল’-কে মাহমুদ ঈসা জানান, ১৯৯২ সালের শরতে দামেস্কে এক কমিউনিস্ট সহকর্মীর সঙ্গে ট্যাক্সিতে ওঠার সময় নিরাপত্তা কর্মকর্তারা তাঁদের আটক করে। পরে তাঁকে ও তাঁর সহকর্মীকে একটি সাদা পিউজো গাড়িতে তুলে নিরাপত্তা শাখায় নিয়ে যাওয়া হয়। গাড়িতে ছিলেন নাজিবও। ঈসার ভাষ্যমতে, নাজিব তখন তাঁর বুকে বন্দুক তাক করেছিলেন।

নিরাপত্তা কম্পাউন্ডে নিয়ে ঈসার শরীরে তার লাগিয়ে বৈদ্যুতিক শক দেওয়া হতো। দিনে দুবার চলত এই নির্যাতন। ঈসা বলেন, ‘প্রতিটি বৈদ্যুতিক শকে আমি জ্ঞান হারাতাম।’ পরে তিনি রাজনৈতিক বন্দী হিসেবে আট বছর কারাগারে কাটান।

তখন নাজিব ছিলেন আসাদ পরিবারের ক্ষমতাকেন্দ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার অপেক্ষাকৃত জুনিয়র কর্মকর্তা। বাশার আল-আসাদের মামাতো ভাই নাজিব পরে পদোন্নতি পেয়ে দারায় রাজনৈতিক গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান হন।

নাজিবের বিরুদ্ধে মামলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগ ছিল ২০১১ সালের ‘ব্ল্যাক ওয়েডনেসডে’। ওই ঘটনায় দারার ঐতিহাসিক ওমারি মসজিদের বাইরে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে অন্তত ১১ বিক্ষোভকারী নিহত হন। ঘটনাটিকে পরবর্তী সময়ে সিরিয়ার দীর্ঘ গৃহযুদ্ধের প্রথম দিকের বড় হত্যাকাণ্ডগুলোর একটি হিসেবে দেখা হয়।

নাজিবকে হত্যা, নির্যাতনসহ বিভিন্ন অপরাধে অভিযুক্ত করা হয়েছে। একই মামলায় বাশার আল-আসাদসহ আরও আটজনকে তাঁদের অনুপস্থিতিতে দণ্ড দেওয়া হয়েছে। তবে নাজিব পুরো বিচারপর্বে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। আট দফা শুনানির পর দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের সুযোগ রয়েছে।

এদিকে নির্যাতনের শিকার হয়েও নাজিবের মৃত্যুদণ্ডকে সমর্থন জানাননি মাহমুদ ঈসা। তিনি বলেন, ‘আমি মৃত্যুদণ্ডের বিরোধী।’ তাঁর মতে, দীর্ঘ সময় কারাগারে রাখাই মৃত্যুদণ্ডের চেয়ে বেশি কার্যকর শাস্তি হতে পারে।

তবে দারার সাবেক আন্দোলনকর্মী ও স্থানীয় প্রভাবশালী পরিবারের সদস্য ওমর নসিরাত বলেন, এত রক্তপাতের পর নাজিবকে ক্ষমা করার কথা ভাবাই কঠিন। তিনি দাবি করেছেন, সাবেক সরকারের হাতে শুধু দারাতেই হাজার হাজার বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন।

নসিরাত বলেন, ১৫ বছর পেরিয়ে গেলেও দারার মানুষের ক্ষোভ কমেনি। তাদের কাছে নাজিব ও অন্যদের হাতে ঝরা রক্ত এখনো ‘তাজা’। তাই দ্রুত মৃত্যুদণ্ড কার্যকর না হলে স্থানীয় জনগণের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেন।

উপসাগরীয় ৬ দেশকে যুক্ত করবে ২১০০ কিলোমিটারের এক রেললাইন

ইরানে আমাদের মিশন এখনো শেষ হয়নি: ইসরায়েল কাৎজ

ইসরায়েলে সরকার গঠনে আমন্ত্রণ পেলেও আইজেনকটের পথটা অনেক কঠিন

ইয়েমেনে সৌদি বিমান হামলায় ৩৩ জন নিহত, দাবি হুতিদের

রিয়াদের আরামকোতে আঘাত হানল হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র

বেলুচিস্তানের বিদ্রোহীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করল ইরান

আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট ইসরায়েলকে তছনছ করে দেবে: নেতানিয়াহু

ইয়েমেনে সৌদি হামলায় নারী-শিশুসহ ৩৩ জনের মৃত্যু, আহত ৩৯

নেতানিয়াহু নয়, আইজেনকটের হাতে ইসরায়েলের সরকার গঠনের দায়িত্ব

এবার ‘অমাবস্যায়’ ইরানে হামলা করবেন ট্রাম্প, প্রস্তুত সেন্টকম