ইরানের রাজধানী তেহরানে বাড়িভাড়া সাধারণ শ্রমিকদের মাসিক আয়ের তুলনায় কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। জুলাইয়ের শেষ দিকে প্রকাশিত বাজারতথ্য অনুযায়ী, তেহরানে বিজ্ঞাপন দেওয়া বাসাবাড়ির গড় মাসিক ভাড়া ৭২০ মিলিয়ন রিয়ালেরও বেশি—যা দেশটির অনেক শ্রমিকের মাসিক আয়ের প্রায় তিন গুণ।
ইরানভিত্তিক অর্থনৈতিক তথ্য প্ল্যাটফর্ম টিনডেক্সের তথ্য অনুযায়ী, জুলাইয়ের শেষ দিকে তেহরানে বিজ্ঞাপন দেওয়া অ্যাপার্টমেন্টের গড় মাসিক ভাড়া ছিল প্রায় ৭২৩ মিলিয়ন রিয়াল। খোলা বাজারে প্রতি ডলারের বিনিময়মূল্য ১৮ লাখ ৬০ হাজার রিয়াল ধরলে এর পরিমাণ প্রায় ৩৮৯ ডলার (প্রায় ৪৮ হাজার টাকা)। তবে এই হিসাবটি সম্পন্ন হওয়া ভাড়াচুক্তির নয়; বিজ্ঞাপনে বাড়িওয়ালাদের দেওয়া দাবি করা ভাড়ার ভিত্তিতে তৈরি। ফলে রাজধানীতে বাসা খুঁজতে যাওয়া ভাড়াটিয়াদের সামনে থাকা বাস্তব পরিস্থিতির একটি চিত্র এতে পাওয়া যায়।
ইরানে অনেক শ্রমিকের মাসিক বেতন সাধারণত ২০০ থেকে ২৫০ মিলিয়ন রিয়ালের মধ্যে। একই বিনিময়হারে এর মূল্য প্রায় ১০৮ থেকে ১৩৪ ডলার (১৩ থেকে ১৬ হাজার টাকা)। অর্থাৎ তেহরানের বিজ্ঞাপন দেওয়া গড় বাড়িভাড়া একজন শ্রমিকের সর্বোচ্চ মাসিক বেতনেরও প্রায় তিন গুণ।
ইরানের রোকনা নিউজ জানিয়েছে, তেহরানের কিছু এলাকায় ভাড়া ৭০ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িভাড়া বেড়েছে। অথচ রাজধানীতে ভাড়া বৃদ্ধির সর্বোচ্চ সীমা ২৫ শতাংশ নির্ধারণ করেছে দেশটির সুপ্রিম হাউজিং কাউন্সিল।
এতে সরকারের নির্ধারিত সীমা এবং বাস্তবে বাড়িওয়ালাদের দাবির মধ্যে বড় ধরনের ব্যবধান স্পষ্ট হয়েছে।
ইরানের পার্লামেন্টের নির্মাণ কমিটির সদস্য আলিরেজা নোভিনও স্বীকার করেছেন, সরকারের নির্ধারিত ভাড়া বৃদ্ধির সীমা ব্যাপকভাবে উপেক্ষিত হচ্ছে। তিনি বলেন, ২৫ শতাংশের সীমা বাস্তবে মানা হচ্ছে না এবং অধিকাংশ বাড়িওয়ালা তা অনুসরণ করছেন না।
কিছু বাড়িওয়ালা ৫০ শতাংশের বেশি ভাড়া বাড়ানোর পক্ষে যুক্তি হিসেবে প্রায় ৬০ শতাংশ মূল্যস্ফীতির কথা বলছেন। তবে নোভিনের মতে, সামগ্রিক মূল্যস্ফীতির হারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাড়িভাড়া একই হারে বাড়ানো উচিত নয়।
সরকারি নজরদারির দুর্বলতার কারণে আবাসন বাজার অনেকটাই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে নোভিন বলেন, কয়েকজন আইনভঙ্গকারীর বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হলে অন্যরাও আইন মেনে চলতে বাধ্য হবে।