ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরাতে সরকার গঠনের আলোচনা জোরদার করছেন বিরোধীরা। গত ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনে কোনো পক্ষই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় দেশটিতে নতুন সরকার গঠন নিয়ে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তবে আরব রাজনৈতিক দলগুলোর সমর্থন পেলে সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট সরকার গঠনের প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারে।
ইসরায়েলের ১২০ আসনের পার্লামেন্ট নেসেটে নেতানিয়াহুর ডানপন্থী জোট কিংবা আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট—কেউই সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। তবে বিরোধী জোটের সঙ্গে আরব দলগুলো যুক্ত হলে তাদের আসনসংখ্যা দাঁড়াবে ৬৭-এ। নির্বাচনে রেকর্ড ১৯টি আসন পাওয়া আরব দলগুলোও নেতানিয়াহু সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরাতে সহযোগিতার আগ্রহ দেখিয়েছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের সংবেদনশীল পরিস্থিতিতে এ ধরনের রাজনৈতিক সমঝোতা ইসরায়েলে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিতে পারে।
আগামী বুধবার (৪ নভেম্বর) প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল গ্রহণের পর সরকার গঠনের সাংবিধানিক প্রক্রিয়া শুরু হবে। এরপর রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে পরামর্শ করে তিনি একজন প্রার্থীকে সরকার গঠনের জন্য ৪২ দিন সময় দেবেন।
গতকাল রোববার (১ নভেম্বর) দলগুলোর নেতাদের ‘সৃজনশীল সমাধান’ খুঁজে বের করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট হারজগ। দ্বিতীয় দফা নির্বাচন এড়াতে রাজনৈতিক অচলাবস্থা কাটানোর ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
এরই মধ্যে নেতানিয়াহুবিরোধী সম্ভাব্য জোটের দলগুলোর মধ্যে অনানুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হয়েছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট গতকাল নিশ্চিত করেছেন, তিনি আইজেনকটকে সমর্থন দেবেন।
নির্বাচনে ভোট গ্রহণ ও গণনা চলাকালে আরব দলগুলোর বিরুদ্ধে ভোট চুরির অভিযোগ তুলেছিলেন নেতানিয়াহু। তবে আরব নেতারা একে নির্বাচনে তাঁদের রেকর্ড সাফল্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা বলে অভিহিত করেছেন।
ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির প্রধান নোয়াম সলবার্গ জানিয়েছেন, নির্বাচন যথাযথভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং ফলাফল ভোটারদের ইচ্ছারই প্রতিফলন। কোনো অনিয়মের তদন্ত চললেও তা সামগ্রিক ফলাফল পরিবর্তন করবে না। তবে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি এ বক্তব্যের সমালোচনা করেছে।
আরব জয়েন্ট লিস্ট ও রা’আম পার্টির ১৯ সদস্য নতুন সরকারে সরাসরি যুক্ত হবেন, নাকি বাইরে থেকে সংখ্যালঘু সরকারকে সমর্থন দেবেন—এখন সেটিই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। আরব দল তাআলের নেতা আহমেদ তিবি বলেছেন, নেতানিয়াহু সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে তাঁরা সহযোগিতা করতে চান, তবে মন্ত্রিত্ব চান না।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামলার নিন্দা জানাননি—এমন রাজনীতিকদের সরকারে অন্তর্ভুক্তি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
বর্তমানে তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন নেতানিয়াহু। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন শেষ হওয়ার পর ইরানে আবারও ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলা শুরু হতে পারে—এমন আশঙ্কা রয়েছে। সামরিক সংঘাত নতুন করে শুরু হলে তা নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক অবস্থান শক্তিশালী করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে মধ্য-বামপন্থী ডেমোক্র্যাটস পার্টির নেতা ইয়াইর গোলান বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে নতুন সামরিক অভিযান পরিচালনার নৈতিক বৈধতা নেতানিয়াহুর নেই। তিনি বলেন, ইসরায়েলের নিরাপত্তাকে নেতানিয়াহুর রাজনৈতিকভাবে টিকে থাকার লড়াইয়ের হাতিয়ার হতে দেওয়া যাবে না। যত দ্রুত সম্ভব বিকল্প সরকার গঠন করা জরুরি।