হোম > বিশ্ব > মধ্যপ্রাচ্য

নতুন সিরিয়ায় নারীদের ফুটবল ঘুরে দাঁড়াবে, দেশে ফিরবেন নির্বাসিত সাবেক কোচ

সিরিয়ার প্রথম নারী ফুটবল কোচ মাহা জানুদ। ছবি: ওমান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন

২০১১ সালে গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে সিরিয়ায় প্রায় ৫ লাখ মানুষ নিহত হয়েছেন। বাস্তুচ্যুত হয়েছেন প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ মানুষ। বাস্তুচ্যুত এসব মানুষের অর্ধেকেরও বেশি বিভিন্ন দেশে শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় নিয়েছেন। এমন হাজারো বাস্তুচ্যুত শরণার্থীদের মধ্যে একজন মাহা জানুদ। যিনি সিরিয়ার প্রথম নারী ফুটবল কোচ। মাহা জানুদ বর্তমানে আইসল্যান্ডের শীর্ষস্থানীয় ক্লাব ব্রেইদাব্লিক ফুটবল একাডেমিতে কাজ করছেন।

সম্প্রতি জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলেকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ফুটবল ও দেশ নিয়ে কথা বলেছেন মাহা জানুদ।

জানুদ বলেন, ‘এই যন্ত্রণা অসহনীয়—১২ বছর ধরে আমি আমার পরিবারের সঙ্গে দেখা করিনা। আমি আশা করি, শিগগিরই আমরা পুনরায় একত্র হতে পারব এবং শরণার্থীদের সিরিয়া সফরের অনুমতি দেওয়া হবে। প্রতিটি সিরিয়ানের নিজের ঘরে ফেরার অধিকার আছে, সেখানে যাই থাকুক না কেন—হোক তা ধ্বংসস্তূপ।’

স্মৃতির পাতা উল্টে জানুদ বলেন, ‘২০০০ সালের কথা। যখন আমি কিশোরী, তখনই ফুটবল খেলা শুরু করি। এরপর সিরিয়ার জাতীয় দলের হয়ে ২০০৫ সালের পশ্চিম এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে তৃতীয় স্থান অধিকার করি।’

জানুদ আক্ষেপ করে বলেন, ‘আমি ভালো খেলতাম। কিন্তু ফুটবল ফেডারেশনের কাছ থেকে কোনো সহযোগিতা পাইনি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের কোনো শক্তিশালী ঘরোয়া লিগ ছিল না। দেশের ফুটবল ফেডারেশন আমাদের আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে পাঠালেও কোনো আর্থিক সহায়তা বা দলের উন্নয়ন পরিকল্পনা ছিল না।’

২০১১ সালে পেশাদার ফুটবল ছেড়ে মাহা জানুদ কোচিংয়ের দিকে ঝোঁকেন। ২০১৮ সালে এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি) নারীদের ফুটবলের জন্য প্রযুক্তিগত বিভাগ গঠনের নির্দেশ দিলে তিনি সিরিয়ার প্রথম নারী কোচ হিসেবে নিয়োগ পান।

কিন্তু জানুদ অভিযোগ করেন, সিরিয়ার ফুটবল ফেডারেশন (এসএফএ) তাঁর বেতন আত্মসাৎ করত।

তিনি বলেন, ‘এএফসি আমার জন্য যে বেতন বরাদ্দ করত, তা আমাকে না দিয়ে ফেডারেশন আমাকে জোর করে সই করিয়ে নিত, যেন আমি বেতন পেয়েছি।’

একই সময়ে তিনি দামেস্কের আল-মুহাফাজা ক্লাবের সহকারী কোচ ছিলেন। তিনি বলেন, তৎকালীন সরকার তাঁকে ‘নারীর ক্ষমতায়নের প্রতীক’ হিসেবে ব্যবহার করলেও বাস্তবে কোনো স্বীকৃতি দেয়নি।

জানুদ অভিযোগ করে বলেন, ‘বিশ্বজুড়ে আমাকে প্রথম নারী কোচ হিসেবে প্রচার করা হলেও, সিরিয়ার কর্মকর্তারা আমাকে কোনো ধন্যবাদ পর্যন্ত জানায়নি। কোনো নৈতিক বা আর্থিক স্বীকৃতি দেয়নি।’

২০২০ সালে দেশের পরিস্থিতি অস্থিতিশীল হয়ে গেলে তিনি সিরিয়া ছেড়ে ওমানের নারী ফুটবল দলের সঙ্গে কাজ শুরু করেন। এরপর ২০২৩ সালে আইসল্যান্ডে চলে যান জানুদ।

মাহা জানুদ বর্তমানে সিরিয়ার রাজনৈতিক পরিবর্তনের দিকে চেয়ে আছেন। জানুদ বলেন, ‘সিরিয়া এখন নতুন জন্মের যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। আমাদের দীর্ঘদিনের স্বৈরশাসনের অবসান হওয়ায় সবাই আনন্দিত। তবে আমরা যেন এক আগুন থেকে আরেক আগুনে ঝাঁপ না দিই।’

যুদ্ধের মধ্যেও সিরিয়ার পুরুষ ফুটবল দল এশিয়ায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা ধরে রেখেছে। তবে নারী ফুটবলের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশঙ্কা রয়েছে।

নতুন প্রশাসন বলেছে, ‘নারীদের শিক্ষা ও খেলাধুলা চালিয়ে নেওয়া হবে’। তবে বাস্তবে কী হয়, সেটাই দেখার বিষয় বলে মনে করেন জানুদ। তিনি বলেন, ‘নারীদের খেলার সুযোগ এবং বাজেট বরাদ্দ যদি নিশ্চিত করা হয়, তবে সিরিয়ার ভবিষ্যৎ বদলে যেতে পারে।’

সিরিয়ায় ফিরতে চান কি না জানতে চাইলে মাহা জানুদ বলেন, ‘সিরিয়া যদি সত্যিই নিরাপদ হয় এবং ন্যায়সংগত সংবিধানের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়, তবে ফিরতে চাই।’

ভাঙনের পথে ইয়েমেন, দক্ষিণাঞ্চলে গণভোটের ঘোষণা বিদ্রোহীদের

ট্রাম্পকে ‘শয়তান’ আখ্যা দিল ইরান, ষড়যন্ত্র ভন্ডুলের দাবি

সৌদি আরবের হামলায় আমিরাতপন্থী ৭ বিচ্ছিন্নতাবাদী নিহত, ইয়েমেনে নতুন উত্তেজনা

ইরানের গণ-অভ্যুত্থান ইতিহাসকে এগিয়ে নেবে—স্বর্ণপামজয়ী জাফর পানাহি

অর্থনৈতিক সংকটে দুর্বল ইরান বিক্ষোভে উত্তাল, সংঘর্ষে নিহত বেড়ে ৬

অর্থনৈতিক মন্দায় বিক্ষুব্ধ ইরান, জোরালো হচ্ছে সরকার পরিবর্তনের দাবি

ইরানে ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকট, বিক্ষোভ ও সহিংসতায় নিহত ১

গত বছর দেশ ছেড়ে চলে গেছে ৬৯ হাজার ইসরায়েলি

গাজায় এনজিওর কার্যক্রম বন্ধ করল ইসরায়েল, ব্যাপক বিপর্যয়ের শঙ্কা

গাজা-পশ্চিম তীরের ৩৭ ত্রাণ সংস্থার লাইসেন্স ১ জানুয়ারি থেকে স্থগিত করেছে ইসরায়েল