হোম > বিশ্ব > মধ্যপ্রাচ্য

ইরানের বিরুদ্ধে কুর্দিদের লেলিয়ে দিতে চান ট্রাম্প, হয়েছে আলোচনাও

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

ইরানি কুর্দি বিদ্রোহীদের কয়েকজন। ছবি: এএফপি

ইরানের বিরুদ্ধে দেশটির সংখ্যালঘু কুর্দি জাতিগোষ্ঠী এবং ইরাকি কুর্দিদের ব্যবহার করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এমনকি কুর্দি শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে আলাপও করেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর এই আলাপের পেছনে রয়েছে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর চাপ। এমনটাই জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত রোববার ইরাকের কুর্দি নেতাদের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন ট্রাম্প। ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ এবং পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে এই বিষয়ে অবগত তিনটি সূত্র অ্যাক্সিওসকে জানিয়েছে।

ইরান-ইরাক সীমান্তজুড়ে কুর্দিদের হাজারো যোদ্ধা মোতায়েন আছে। তারা এমন কৌশলগত এলাকা নিয়ন্ত্রণ করে, যা যুদ্ধের গতিপ্রকৃতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। পাশাপাশি ইরানের কুর্দি সংখ্যালঘুদের সঙ্গেও ইরাকের কুর্দিদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। দুটি সূত্র জানিয়েছে, শনিবারের বোমা হামলা অনুমোদনের এক দিন পর ট্রাম্প ইরাকের দুই প্রধান কুর্দি গোষ্ঠীর নেতা মাসুদ বারজানি ও বাফেল তালাবানির সঙ্গে কথা বলেন। একই তথ্য দিয়ে আরেকটি সূত্র জানায়, ইরানের দুই প্রধান কুর্দি গোষ্ঠীর নেতা মাসুদ বারজানি ও বাফেল তালাবানির সঙ্গে তিনি কথা বলেছেন।

এই ফোনালাপের বিষয়ে অবগত একটি সূত্র একে ‘সংবেদনশীল’ বলে উল্লেখ করেছে। তবে আলোচনার বিষয়বস্তু নিয়ে বিস্তারিত জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। আরেকটি সূত্র বলেছে, এ ফোনালাপ ছিল কয়েক মাস ধরে নেপথ্যে নেতানিয়াহুর তৎপর লবিংয়ের পরিণতি। বহু দশক ধরে সিরিয়া, ইরাক ও ইরানের কুর্দিদের সঙ্গে ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠ নিরাপত্তা, সামরিক ও গোয়েন্দা সম্পর্ক রয়েছে।

এক কর্মকর্তা বলেন, ‘সাধারণভাবে এবং বিশেষ করে নেতানিয়াহুর দৃষ্টিতে ধারণা হলো, কুর্দিরা আড়াল থেকে বেরিয়ে আসবে... তারা বিদ্রোহে উঠবে।’ ইরানে হামলা এবং রেজিম পরিবর্তনের পক্ষে ‘নিরলস’ অবস্থান নেওয়া নেতানিয়াহু প্রথমবার কুর্দিদের বিষয়টি উত্থাপন করেন হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে। ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘প্রথমবার যখন তিনি এসে ট্রাম্পের সঙ্গে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসেছিলেন, মনে হয়েছিল নেতানিয়াহু সবকিছু সাজিয়ে ফেলেছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘উত্তরসূরি বসানোর পরিকল্পনাও ছিল তাঁর। কুর্দিদের বিষয়টিও তিনি গুছিয়ে রেখেছিলেন—এখানে-ওখানে দুই সেট কুর্দি গোষ্ঠী। কত মানুষ বিদ্রোহে উঠবে, সেটিও হিসাব কষা ছিল।’

কুর্দিদের সঙ্গে ট্রাম্পের ফোনালাপ নিয়ে নির্দিষ্টভাবে জানতে চাইলে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বিস্তারিত বলতে অস্বীকৃতি জানান। তিনি অ্যাক্সিওসকে বলেন, ‘গত কয়েক দিনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই অঞ্চলের বহু মিত্র ও অংশীদারের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছেন।’

রোববার ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলে অবস্থানরত কুর্দি-ইরানি বিরোধী সংগঠন কুর্দিস্তান ফ্রিডম পার্টি ইরানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার অভিযোগ তোলে। যুদ্ধ শুরুর ছয় দিন আগে, ইরাকে আশ্রয় নেওয়া পাঁচটি ভিন্নমতাবলম্বী কুর্দি গোষ্ঠী ‘কোয়ালিশন অব পলিটিক্যাল ফোর্সেস অব ইরানিয়ান কুর্দিস্তান’ গঠনের ঘোষণা দেয়। তাদের লক্ষ্য, ইরানের বিরুদ্ধে লড়াই।

কুর্দিরা ইরাকের বৃহত্তম জাতিগত সংখ্যালঘু এবং ইরানেও অন্যতম বৃহৎ। তাদের প্রায়ই বলা হয়, নিজস্ব রাষ্ট্রহীন বিশ্বের বৃহত্তম জাতিগোষ্ঠী। দক্ষিণ-পূর্ব তুরস্ক, উত্তর সিরিয়া, উত্তর ইরাক ও উত্তর-পশ্চিম ইরান জুড়ে বিস্তৃত তাদের পৈতৃক আবাসভূমি। ২০০৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসনের মাধ্যমে সাদ্দাম হোসেনের পতনের পর উত্তর ইরাকে একটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল প্রতিষ্ঠা সম্ভব হয়, যা বর্তমানে কুর্দিরাই শাসন করছে।

‘পেশমারগা’ নামে পরিচিত কুর্দি যোদ্ধারা—যার অর্থ ‘যারা মৃত্যুর মুখোমুখি হয়’—ইরাকে দীর্ঘ লড়াই এবং সিরিয়ায় আইএসআইএসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশ নিয়ে বহু দশকের সামরিক অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে। মাঠপর্যায়ে অভিজ্ঞ ও যুদ্ধক্লান্ত এসব যোদ্ধা যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের শনিবার শুরু হওয়া বোমা হামলা অভিযানে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থলযুদ্ধের মাত্রা যোগ করতে পারে।

এর আগে, ২০০১ সালের আফগানিস্তান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র একই কৌশল নিয়েছিল। ভারী বিমান সহায়তার আড়ালে স্থলভাগে জাতিগত সংখ্যালঘু যোদ্ধাদের অগ্রযাত্রা নিশ্চিত করে তালেবান শাসন পতনে সহায়তা করা হয়েছিল। তবে জটিলতার জায়গাও রয়েছে। কুর্দিদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো মিত্র তুরস্কের সম্পর্ক বৈরী, যা পরিস্থিতিকে জটিল করতে পারে। একটি সূত্র জানায়, ‘প্রেসিডেন্ট সবার সঙ্গেই কথা বলছেন। তিনি কুর্দি নেতাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। (তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ) এরদোয়ানের সঙ্গেও কথা বলেছেন।’

গত সপ্তাহে ‘কোয়ালিশন অব পলিটিক্যাল ফোর্সেস অব ইরানিয়ান কুর্দিস্তান’ ঘোষণার পর ইরানের নির্বাসিত যুবরাজের নেতৃত্বাধীন একটি নির্বাসিত গোষ্ঠীর সঙ্গে টানাপোড়েন তৈরি হয়। মার্কিন নীতিনির্ধারকদের কেউ কেউ মনে করেন, ইরানের বিরুদ্ধে অস্ত্র হাতে নেওয়া কুর্দির সংখ্যার বিষয়ে নেতানিয়াহু হয়তো অতিরিক্ত আশাবাদী ছিলেন। তবু এক কর্মকর্তা বলেন, ‘বিষয়টি একেবারে শূন্যও নয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘যুদ্ধে বা যুদ্ধ-পরবর্তী ইরানে তাদের ভূমিকা কী হবে, সেটা আমার জন্য জানার ক্ষেত্রে পদমর্যাদার বাইরে।’

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন কমান্ড সেন্টার, সদর দপ্তর ধ্বংস ও গোয়েন্দাকেন্দ্র ধ্বংসের দাবি ইরানের

নাগরিকদের মধ্যপ্রাচ্য ছাড়ার পরামর্শ যুক্তরাষ্ট্রের, সহায়তার ‘অবস্থায় নেই’ ইসরায়েলে মার্কিন দূতাবাস

কুয়েতে মার্কিন দূতাবাস অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা, সৌদিতে বন্ধ কানাডার

হরমুজ প্রণালির আশপাশে আটকে আছে ৭ শতাধিক জ্বালানি ট্যাংকার

সৌদি তেল শোধনাগারে হামলা ‘ফলস ফ্ল্যাগ’, নেপথ্যে ইসরায়েল

ইরানকে ১০ বছর পরমাণু জ্বালানি কেনার টাকা দিতে চেয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র

৫৬০ সেনা হতাহতসহ যুক্তরাষ্ট্রের যেসব ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ দিল ইরান

ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র সতর্কতা সাইরেন আর থামবে না—ইরানের হুঁশিয়ারি

রিয়াদে মার্কিন দূতাবাসে জোড়া ড্রোন হামলা, প্রতিশোধের হুমকি ট্রাম্পের

বাহরাইন বন্দরে মার্কিন পতাকাবাহী তেলের জাহাজে আগুন