হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়েছেন ইরানের কারাবন্দী মানবাধিকারকর্মী ও শান্তিতে নোবেলজয়ী নার্গিস মোহাম্মদি। তাঁকে ইরানের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে তাঁর পরিবারের পরিচালিত একটি ফাউন্ডেশন জানিয়েছে।
ইরানে নারীদের অধিকার রক্ষা এবং মৃত্যুদণ্ড বাতিলের দাবিতে আন্দোলনের জন্য কারাবন্দী থাকা অবস্থায় ২০২৩ সালে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন ৫০ পেরোনো নার্গিস মোহাম্মদি। তাঁর অসুস্থতা নিয়ে নরওয়েজীয় নোবেল কমিটির সচিব উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। গত বৃহস্পতিবার এক বার্তায় তিনি জানান, কারাগারে হার্ট অ্যাটাকের পর এই মানবাধিকারকর্মীর শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হচ্ছে।
গত শুক্রবার নার্গিস মোহাম্মদি ফাউন্ডেশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘শারীরিক অবস্থার আশঙ্কাজনক অবনতি হওয়ায় আজ জরুরি ভিত্তিতে তাঁকে জানজান শহরের একটি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। তিনি দুবার জ্ঞান হারান এবং তাঁর হার্টে মারাত্মক জটিলতা দেখা দিয়েছে।’
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, কারাগারের চিকিৎসকেরা তাঁর শারীরিক অবস্থা সেখানে সামাল দেওয়া সম্ভব নয় জানালে তাঁকে হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। যদিও এর আগে তেহরানে তাঁর নিজস্ব বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দলের মাধ্যমে চিকিৎসা করানোর কথা বলা হয়েছিল।
রয়টার্স তাৎক্ষণিকভাবে এই বিবৃতির সত্যতা নিশ্চিত করতে পারেনি। বিবৃতিতে তাঁর হাসপাতালের নেওয়ার বিষয়টি ‘শেষ মুহূর্তের মরিয়া’ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে যে, তাঁর গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় হয়তো অনেক দেরি হয়ে গেছে।
ফাউন্ডেশন গত ফেব্রুয়ারিতে জানিয়েছিল, নার্গিস মোহাম্মদিকে নতুন করে আরও সাড়ে সাত বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সে সময় নোবেল কমিটি তেহরানকে অবিলম্বে তাঁকে মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিল।
আইনজীবী খসরু আলিকোর্দির মৃত্যুর প্রতিবাদ করার পর গত ডিসেম্বরে নার্গিস মোহাম্মদিকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রসিকিউটর হাসান হেমাতিফার তখন সাংবাদিকদের বলেছিলেন, উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর মাশহাদে আলিকোর্দির স্মরণসভায় নার্গিস উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছিলেন এবং উপস্থিতদের ‘আইনবিরোধী স্লোগান’ দিতে ও ‘শান্তি বিঘ্নিত’ করতে উৎসাহিত করেছিলেন।
ফাউন্ডেশন জানায়, গতকাল শুক্রবার সকালে কয়েক দিন ধরে উচ্চ রক্তচাপ ও তীব্র বমি বমি ভাব থাকার পর নার্গিস মোহাম্মদি মূর্ছা যান। কয়েক দফা বমি করার পর তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেললে তাঁকে দ্রুত কারাগারের মেডিকেল ইউনিটে নিয়ে স্যালাইন দেওয়া হয়।
এর আগে তিনবার এনজিওপ্লাস্টি করা এই মানবাধিকারকর্মীর জীবন এখন হুমকির মুখে বলে তাঁর পরিবার জানিয়েছে। তাঁর পরিবার বলেছে, ‘আমরা অবিলম্বে তাঁর বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ তুলে নেওয়ার এবং শান্তিপূর্ণ মানবাধিকার কর্মকাণ্ডের জন্য দেওয়া সব সাজা নিঃশর্তভাবে বাতিলের দাবি জানাচ্ছি।’