হোম > বিশ্ব > মধ্যপ্রাচ্য

হুতিদের শক্তি বাড়াতে আইআরজিসি কমান্ডার ও ক্ষেপণাস্ত্র সরঞ্জাম পাঠিয়েছে ইরান: প্রতিবেদন

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

গত ৬ এপ্রিল ইয়েমেনের রাজধানী সানায় ইরানকে সমর্থন জানিয়ে বিক্ষোভ করে হুতিরা। ছবি: রয়টার্স

ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে দেশটিতে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) কমান্ডার ও সামরিক উপদেষ্টা এবং ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন-সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম পাঠিয়েছে ইরান। আজ শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিষয়টি সম্পর্কে অবগত চারটি সূত্রের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, ১৩ জুলাই তেহরান থেকে একটি বিমানে করে এসব ব্যক্তি ও সামরিক সরঞ্জাম ইয়েমেনে পাঠানো হয়। এই ধরনের তথ্য এর আগে প্রকাশ্যে আসেনি।

সূত্রগুলোর মধ্যে রয়েছেন দুজন ইরানি নাগরিক, ইয়েমেনের তথ্য ও সংস্কৃতিমন্ত্রী এবং একজন আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিশ্লেষক। ইরানি দুই সূত্রের দাবি, মাহান এয়ারের ওই ফ্লাইটে আইআরজিসির ১০ থেকে ২১ জন সদস্য ছিলেন। তাঁদের মধ্যে কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কমান্ডারও ছিলেন।

বিমানটির গন্তব্য প্রাথমিকভাবে হুতিদের নিয়ন্ত্রিত ইয়েমেনের রাজধানী সানা ছিল, কিন্তু সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেন সরকারের হামলায় সানা বিমানবন্দর আক্রান্ত হলে ওই বিমান লোহিতসাগরের বন্দর নগরী হোদেইদাহতে অবতরণ করে।

এক ইরানি সূত্র বলে, হুতি বাহিনীর সামরিক অভিযানকে সহায়তা ও নতুন ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্দেশ্যে আইআরজিসির কমান্ডাররা ইয়েমেনে গেছেন। ওই বিমানে হুতিদের কার্যক্রম পরিচালনায় অর্থায়ন করতে সোনাও পাঠানো হয়েছিল বলে দাবি করে ওই সূত্র। নিরাপত্তাজনিত কারণে ইরানি দুই সূত্র তাদের পরিচয় প্রকাশ করতে চায়নি।

এদিকে ইয়েমেনের সৌদি-সমর্থিত সরকারের তথ্য ও সংস্কৃতিমন্ত্রী মোআম্মার আল-ইরিয়ানি রয়টার্সকে বলেছেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তিনি আইআরজিসির সদস্য ও সামরিক সরঞ্জাম স্থানান্তরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তাঁর দাবি, এসব ব্যক্তির উদ্দেশ্য হুতিদের সামরিক সক্ষমতা বাড়ানো এবং লোহিতসাগর ও বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে আন্তর্জাতিক নৌ নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরির প্রস্তুতি নেওয়া।

নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা বিশ্লেষক মাজহেম আলসালুমও ১৩ জুলাইয়ের ফ্লাইটে আইআরজিসির বিশেষজ্ঞদের ইয়েমেনে পৌঁছানোর তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তাঁর মতে, বিমানে স্বল্প ও মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোনের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ছিল। এসব অস্ত্রব্যবস্থা অতীতে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে হামলায় ব্যবহৃত হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিকভাবে এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। তেহরান বরাবরই ইয়েমেনের হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা সরবরাহের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। হুতিদের এক কর্মকর্তা আবদেল রহমান আল-আহনোমিও অভিযোগগুলোকে ‘মিথ্যা ও বানোয়াট’ বলে দাবি করেছেন। তাঁর ভাষ্য, বিমানের সব যাত্রীই ছিলেন বেসামরিক নাগরিক।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফ্লাইটটি ইয়েমেনে পৌঁছানোর মাত্র তিন দিন পর হুতিরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধের ঘোষণা দেয়। এর আগে তেহরান হুতিদের লোহিতসাগরের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ বন্ধ রাখার প্রস্তুতি নিতে বলেছে বলেও খবর প্রকাশিত হয়। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের মধ্যে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথ লোহিতসাগর ও বাব আল-মান্দেব প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

হুতিদের জন্য কমান্ডার ও ক্ষেপণাস্ত্র-ড্রোন সরঞ্জাম পাঠিয়েছে ইরান

ইরানে ‘ভয়াবহ হামলার’ চূড়ান্ত দ্বারপ্রান্তে যুক্তরাষ্ট্র

ইরানে বড় ধরনের হামলার কথা ভাবছেন ট্রাম্প

গাজার তাঁবু শিবিরে সিগারেট জ্বালানোর লাইটারই এখন জীবনরেখা

বিশ্ববাজারে তেলের দাম ১০০ ডলার ছাড়াল, মূল্যস্ফীতির শঙ্কা

সিআইএ আস্তানায় ইরানের হামলা—রাশিয়ার ভূমিকা নিয়ে সন্দেহ

যুদ্ধ ছড়াচ্ছে মান্দেবে, চাপে যুক্তরাষ্ট্র

মন্ত্রীর নেতৃত্বে আল-আকসা মসজিদে ২৩০০ ইসরায়েলির অনুপ্রবেশ, জেরুজালেমে উত্তেজনা

বি-১ বোমারু বিমান দিয়ে ইরানে হামলা যুক্তরাষ্ট্রের, আরও বড় অভিযানের ইঙ্গিত

মধ্যপ্রাচ্যে সিআইএর স্থাপনায় ইরানের হামলায় রাশিয়ার সহায়তার ইঙ্গিত, খতিয়ে দেখছে যুক্তরাষ্ট্র