ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে জাহাজ চলাচলকে ঘিরে সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) ইরান দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালির কাছে তারা ১০টি জাহাজে হামলা চালিয়েছে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র পাঁচটি ইরানি তেলবাহী ট্যাংকার ডুবিয়ে দেওয়ার কথা জানায়। ছয় মাস ধরে চলা যুদ্ধের মধ্যে এটি দুই পক্ষের জাহাজে হামলার সবচেয়ে বড় পাল্টাপাল্টি ঘটনা বলে ধারণা করা হচ্ছে।
হামলার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম দ্রুত বেড়ে যায়। আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে, যা জুলাইয়ের পর সর্বোচ্চ। যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের গড় খুচরা দামও গ্যালনপ্রতি ৫ দশমিক ৯৪ ডলারের ওপরে উঠে নতুন রেকর্ড গড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, রাতভর পাঁচটি ইরানি তেলবাহী ট্যাংকার ধ্বংস করা হয়েছে। হামলার পর আগুনে জ্বলতে থাকা জাহাজের ভিডিও প্রকাশ করা হয়। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের দাবি, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) পরপর দুই দিন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে একটি মার্কিন নৌযান লক্ষ্য করার পর এই হামলা চালানো হয়েছে। এতে কোনো মার্কিন সেনা হতাহত হয়নি বলে জানায় ওয়াশিংটন।
অন্য দিকে আইআরজিসি জানায়, তারা জর্ডানের আল-আজরাকের কাছে মার্কিন বাহিনীর ব্যবহৃত একটি ঘাঁটি লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালির একটি নিষিদ্ধঘোষিত এলাকায় প্রবেশের চেষ্টা করা দুটি মার্কিন নৌযান ও আটটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালানোর দাবি করেছে তারা।
ব্রিটিশ মেরিটাইম নিরাপত্তা সংস্থা ইউকেএমটিও জানিয়েছে, উত্তর উপসাগর ও ওমান উপসাগরে কয়েকটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার খবর তারা পেয়েছে। একটি জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে পানি ঢুকে সেটি একদিকে কাত হয়ে পড়ার খবরও পাওয়া গেছে। তবে হতাহত বা পরিবেশগত ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ইরান একই সঙ্গে কুয়েত ও বাহরাইনের বন্দরে থাকা তেলবাহী জাহাজগুলোকে হুমকি দিয়েছে বলে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের খোর ফাক্কান বন্দরে একটি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসবাহী জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবরও পাওয়া গেছে।
যুদ্ধের আগে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন হতো। ইরানের অবরোধে বর্তমানে ওই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
এর মধ্যেই ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুতিদের সঙ্গে সৌদি আরবের সংঘাতও বেড়েছে। গতকাল মঙ্গলবার হুতিদের হামলায় সৌদি আরবের চারটি শহরের তেল স্থাপনায় বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড ঘটে এবং ৭৩ জন আহত হন। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে বৈশ্বিক বাজারে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।