ইসরায়েলের উগ্র ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির গাজা উপত্যকা থেকে সব ফিলিস্তিনিকে সরিয়ে বিদেশে পাঠানোর একটি পরিকল্পনা প্রকাশ করেছেন। তাঁর দাবি, পরিকল্পনাটি ‘বাস্তবসম্মত’ এবং এটি বাস্তবায়নে আগ্রহী দেশও রয়েছে। তবে তিনি কোনো দেশের নাম উল্লেখ করেননি।
ইসরায়েলে আগামী অক্টোবরে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনের আগে বেন-গভির বলেন, প্রথম বছরে গাজা থেকে আড়াই লাখ ফিলিস্তিনিকে সরানো হবে। এরপর পরবর্তী ছয় বছরে এই উপত্যকার প্রায় ২০ লাখ বাসিন্দাকে বিদেশে পাঠানোর লক্ষ্য রয়েছে।
বেন-গভিরের নেতৃত্বাধীন উগ্র ডানপন্থী দল ‘জিউইশ পাওয়ার’ আগামী সরকার গঠনের আলোচনায় ‘অভিবাসনবিষয়ক মন্ত্রণালয়’ গঠনের দাবি জানাবে বলেও তিনি জানান। তাঁর ভাষ্য, এই পরিকল্পনা নিয়ে দেড় বছর ধরে কাজ হয়েছে এবং এটি সুনির্দিষ্ট ও বাস্তবায়নযোগ্য।
২০ পৃষ্ঠার নথিতে পরিকল্পনাটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘গাজা উপত্যকা থেকে স্বেচ্ছায় অভিবাসনের জাতীয় কর্মপরিকল্পনা’। তবে ‘স্বেচ্ছা’ শব্দটি ব্যবহার করা হলেও আন্তর্জাতিক মহলে এটিকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি হিসেবেই দেখা হতে পারে। কারণ, গাজায় ভয়াবহ মানবিক পরিস্থিতির মধ্যে বসবাসরত জনগণকে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য করা হলে তা প্রকৃত অর্থেই স্বেচ্ছা প্রসূত হবে না।
আন্তর্জাতিক আইনে দখল করা ভূখণ্ড থেকে বেসামরিক জনগণকে জোর করে বাস্তুচ্যুত করা যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এদিকে জাতিসংঘের একটি স্বাধীন তদন্ত কমিশন চলতি বছর জানিয়েছে, গাজায় ফিলিস্তিনি শিশুদের লক্ষ্য করে হামলাসহ ইসরায়েলের কর্মকাণ্ড গণহত্যার শামিল।
বেন-গভিরের বক্তব্যের আগে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজও জানিয়েছিলেন, গাজার ফিলিস্তিনিদের অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের অনুমোদন চাওয়া হচ্ছে। তিনি গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের ‘যেকোনো উপায়ে’ অভিবাসনে সহায়তার কথা বলেছিলেন।
এর আগে ট্রাম্পও গাজার প্রায় ২০ লাখ ফিলিস্তিনিকে অন্যত্র সরিয়ে অঞ্চলটি পুনর্গঠনের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পরে তিনি সেই অবস্থান থেকে সরে আসেন।
এদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গত বুধবার গাজার একটি সামরিক ঘাঁটি পরিদর্শন করে বলেন, গাজায় দখল করা এলাকা থেকে ইসরায়েল সেনা প্রত্যাহার করবে না। তাঁর দাবি, ইসরায়েল বর্তমানে গাজার প্রায় ৬০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করছে। দেশটির উপ-সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল তামির ইয়াদাইয়ের হিসাবে এই নিয়ন্ত্রণের পরিমাণ ৬৫ শতাংশ।
অন্যদিকে বেন-গভির ইসরায়েলের প্রতি ‘অবিশ্বস্ত’ ব্যক্তিদের দেশ থেকে বহিষ্কারেরও দাবি জানিয়েছেন।