দ্রুততম সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি মধ্যপ্রাচ্যে জড়ো হওয়ার প্রেক্ষাপটে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে ইরান। তেহরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাতে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইনডিপেনডেন্ট জানিয়েছে, ইরানের ওপর যে কোনো ধরনের হামলা—তা সীমিত হোক বা ব্যাপক—দেশটি ‘সর্বাত্মক যুদ্ধ’ হিসেবে বিবেচনা করবে এবং ‘সবচেয়ে কঠিন উপায়ে’ এর জবাব দেওয়া হবে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই ইরানি কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা আশা করছি, এই সামরিক সমাবেশ সত্যিকারের কোনো সংঘাতের জন্য নয়। তবে সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতির জন্য আমাদের সেনাবাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত। এ কারণেই ইরানে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি রয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এবার কোনো হামলাকেই ছোট করে দেখা হবে না—সার্জিক্যাল, সীমিত বা যেভাবেই নাম দেওয়া হোক না কেন—সবকিছুকেই আমরা সর্বাত্মক যুদ্ধ হিসেবে দেখব।’
এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এল, যখন আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছাবে স্ট্রাইক গ্রুপসহ একটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরী। গত ২২ জানুয়ারি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, ইরানের দিকে একটি ‘আরমাডা’ (সশস্ত্র নৌবহর) এগিয়ে যাচ্ছে। তবে সেটি ব্যবহার করার প্রয়োজন হবে না বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি ইরানকে সতর্ক করে বলেন, বিক্ষোভকারীদের হত্যা বা পরমাণু কর্মসূচি পুনরায় শুরু করলে কঠোর পরিণতি ভোগ করতে হবে।
পেন্টাগনের নির্দেশে বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন এবং এর সঙ্গে থাকা তিনটি ডেস্ট্রয়ার ইতিমধ্যে দক্ষিণ চীন সাগর ছেড়ে পশ্চিমমুখী যাত্রা শুরু করেছে। মার্কিন নৌবাহিনীর এক কর্মকর্তার মতে, জাহাজগুলো বর্তমানে ভারত মহাসাগরে অবস্থান করছে। এগুলো বাহরাইনে নোঙর করা তিনটি লিটোরাল কমব্যাট শিপ এবং পারস্য উপসাগরে থাকা আরও দুটি মার্কিন ডেস্ট্রয়ারের সঙ্গে যুক্ত হবে।
এই স্ট্রাইক গ্রুপের আগমনে প্রায় ৫ হাজার ৭০০ অতিরিক্ত মার্কিন সেনা মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন হবে। কাতারের আল উদেইদ বিমানঘাঁটিসহ এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। এসব ঘাঁটিতে হাজার হাজার মার্কিন সেনা অবস্থান করছে।
ইরানি কর্মকর্তা বলেন, ‘আমেরিকানরা যদি ইরানের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা লঙ্ঘন করে, আমরা অবশ্যই জবাব দেব।’ তবে কী ধরনের জবাব দেওয়া হবে—সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত বলতে অস্বীকৃতি জানান। তিনি যোগ করেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের মতো একটি দেশের কাছ থেকে নিয়মিত সামরিক হুমকির মুখে থাকা কোনো দেশের নিজের সব সক্ষমতা প্রস্তুত রাখা ছাড়া আর কোনো পথ থাকে না।’