হোম > বিশ্ব > মধ্যপ্রাচ্য

‘যুদ্ধবিরতির’ পরও গাজায় ১ হাজারের বেশি মানুষকে হত্যা করেছে ইসরায়েল

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

ফাইল ছবি

গত বছরের অক্টোবরে গাজায় ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় একটি ‘যুদ্ধবিরতি’ কার্যকর হয়। তবে সেই সমঝোতার পরও গাজায় সহিংসতা থামেনি। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ওই যুদ্ধবিরতির পর থেকে এখন পর্যন্ত গাজায় এক হাজারের বেশি মানুষকে হত্যা করেছে ইসরায়েল। আর অবরুদ্ধ এই উপত্যকার মানবিক পরিস্থিতি ক্রমেই ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে—গতকাল বুধবার পর্যন্ত যুদ্ধবিরতি চুক্তি হওয়ার পর থেকে গাজাজুড়ে ইসরায়েলি হামলায় এক হাজার পাঁচজন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।

এই পরিস্থিতিতে সহায়তা সংস্থা মেডিকেল এইড ফর প্যালেস্টাইনের গাজা শাখার পরিচালক ফিকর শাল্লতুত বলেন, ‘গাজা আবারও এক নতুন ও করুণ মাইলফলকে পৌঁছেছে।’ তিনি বলেন, ‘যাদের বলা হয়েছিল সবচেয়ে খারাপ সময় শেষ, তাদেরই এখন আরও হাজারো মানুষ প্রিয়জনদের দাফন করছেন।’

যদিও যুদ্ধবিরতিতে বড় ধরনের সংঘাত থেমে গেছে, তবে চুক্তির দ্বিতীয় এবং আরও সংবেদনশীল ধাপ বাস্তবায়নে এখনো কোনো অগ্রগতি হয়নি। ওই ধাপে ইসরায়েলি সেনাদের গাজা থেকে প্রত্যাহার এবং হামাসের অস্ত্র সমর্পণের বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। অক্টোবরের পর থেকে ইসরায়েল অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে নিজেদের উপস্থিতি আরও জোরদার করেছে। বর্তমানে গাজা উপত্যকার প্রায় ৬৪ শতাংশ এলাকা তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, যা চুক্তিতে নির্ধারিত ৫৩ শতাংশের তুলনায় বেশি।

গত শুক্রবার পূর্ব গাজা সিটির কয়েক ডজন পরিবারকে বাড়িঘর ছাড়তে বাধ্য করা হয়। জাতিসংঘের অফিস ফর দ্য কো-অর্ডিনেশন অব হিউম্যানিটারিয়ান অ্যাফেয়ার্স (ওসিএইচএ) জানিয়েছে, ইসরায়েলি বাহিনী হলুদ সিমেন্ট ব্লক বসিয়ে পশ্চিম দিকে ‘ইয়েলো লাইন’ আরও বিস্তৃত করার পর বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনির সংখ্যা আরও বেড়েছে।

এ মাসের শুরুতে আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য হুসাম বদরান বলেন, গোষ্ঠীটি এখনই তাদের অস্ত্র হস্তান্তর করবে না। তিনি জানান, অস্ত্রাগারের ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত অন্যান্য ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীর সঙ্গে বিস্তৃত আলোচনার পর নেওয়া হবে।

যুদ্ধবিরতির অংশ হিসেবে গাজার পুনর্গঠন এবং স্বাস্থ্যব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের সুযোগ তৈরি হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তার অগ্রগতি হয়নি। ওসিএইচএর তথ্য অনুযায়ী, গাজার ৩৭টি হাসপাতালের মধ্যে মাত্র ২০টি আংশিকভাবে কার্যকর রয়েছে। একটিও সম্পূর্ণভাবে সচল হাসপাতাল নেই। ফিকর শাল্লতুত আরও বলেন, যুদ্ধ চলাকালে বোমাবর্ষণ অব্যাহত ছিল এবং গাজা প্রায় সম্পূর্ণ অবরোধে ছিল। তিনি বলেন, বিশ্বনেতারা ভেবেছিলেন একটি কাগজের চুক্তি দিয়ে দায়বদ্ধতা, অবরোধ প্রত্যাহার কিংবা ওষুধ পৌঁছানোর প্রয়োজনীয়তা পূরণ করা সম্ভব। তিনি আরও অভিযোগ করেন, এখনো গাজায় প্রবেশ কঠোরভাবে সীমিত এবং সহায়তা ক্ষুধার্ত মানুষের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হচ্ছে, আর আন্তর্জাতিক নীরবতা অব্যাহত রয়েছে।

প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালের ২৩ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলের যুদ্ধের পর থেকে গাজায় এখন পর্যন্ত ৭৩ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। অধিকাংশ এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে এবং প্রায় ১৯ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত অবস্থায় রয়েছে।

বাংলাদেশ-পাকিস্তানে হামাস সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করছে তেল আবিব: এনডিটিভিকে ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত

যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের চুক্তির ১৪টি দফায় কী আছে, তেহরান কী ছাড় পেল

চুক্তিতে সই ট্রাম্প-পেজেশকিয়ানের, কার্যকর হয়েছে বুধবার থেকেই

ইরান চুক্তির পরপরই ভোটারদের রোষানলে পড়তে চলেছেন নেতানিয়াহু

লেবাননে হিজবুল্লাহর পেছনে শারার সিরিয়াকে লেলিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা ট্রাম্পের

হরমুজে মার্কিন অবরোধ ভেঙে বেরিয়ে গেল ইরানের ৩ ট্যাংকার

যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের ‘১৪ দফার’ চুক্তিতে কী আছে

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি: তেহরানের জন্য ৩০০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ তহবিলের সম্ভাবনা

ইরানের দেখানো কৌশলেই হরমুজ থেকে গোপনে তেল নিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

ইরান পুনর্গঠনে ৩০০ বিলিয়ন ডলারের পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের