হোম > বিশ্ব > মধ্যপ্রাচ্য

বিস্ফোরক–ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করছে হামাস, ফের যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত: ইসরায়েল

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকায় হামাসের দুই যোদ্ধা। ছবি: এএফপি

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) সামরিক গোয়েন্দা অধিদপ্তর ও সাউদার্ন কমান্ড দেশটির চিফ অব স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইইয়াল জামিরকে সতর্ক করেছে যে, হামাসের সামরিক শাখা ইসরায়েলের সঙ্গে নতুন করে যুদ্ধ শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছে। গতকাল রোববার ইসরায়েলের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম কান এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিবেদনটিতে কোনো নির্দিষ্ট সূত্র উল্লেখ করা হয়নি। তবে সেখানে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের মূল্যায়ন অনুযায়ী হামাস বর্তমানে প্রতি মাসে শত শত বিস্ফোরক ও অ্যান্টি-ট্যাংক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করছে। পাশাপাশি ১৮ থেকে ২২ বছর বয়সী নতুন যোদ্ধা নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। সংগঠনটি তাদের অভিজাত নুখবা ইউনিটের সদস্যদের প্রশিক্ষণও সম্প্রতি আবার শুরু করেছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

একই সঙ্গে হামাস গাজাজুড়ে যুদ্ধের সময় ধ্বংস হওয়া ভূগর্ভস্থ অবকাঠামো পুনর্গঠন করছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়, সংগঠনটি সিনাই অঞ্চল হয়ে ড্রোন ও যোগাযোগযন্ত্র গাজায় প্রবেশ করানোর চেষ্টা করছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েলি কর্মকর্তারা চিফ অব স্টাফকে জানিয়েছেন, বর্তমানে মাঠপর্যায়ে হামাস শক্ত অবস্থানে রয়েছে। তাদের মতে, সংগঠনটির ওপর উল্লেখযোগ্য কোনো চাপ নেই এবং হামাস গাজার নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দিতে প্রস্তুত নয়। এই মূল্যায়নের পরিপ্রেক্ষিতে বলা হয়, আইডিএফ মনে করছে হামাসের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক অভিযান শুরু করা প্রয়োজন। তবে যুক্তরাষ্ট্র এই পথের বিরোধিতা করছে। ওয়াশিংটনের অবস্থান হলো, গাজা উপত্যকায় বর্তমান পরিস্থিতি বজায় রাখা এবং একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’ উদ্যোগ এগিয়ে নেওয়া।

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সমর্থন পাওয়া ওই পরিকল্পনার আওতায় ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। এর আগে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাস-নেতৃত্বাধীন হামলার মাধ্যমে যুদ্ধ শুরু হয়েছিল। তবে পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপ এখনো বাস্তবায়ন হয়নি। এই ধাপে ধাপে গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার, হামাসের নিরস্ত্রীকরণ এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েনের বিষয় রয়েছে।

হামাসের অবস্থান হলো—প্রথম ধাপের প্রতিশ্রুতিগুলো ইসরায়েল বাস্তবায়ন না করা পর্যন্ত তারা নিরস্ত্রীকরণে রাজি হবে না। এসব প্রতিশ্রুতির মধ্যে রয়েছে মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করা, সেনা প্রত্যাহার এবং হামলা বন্ধ করা।

অন্যদিকে বোর্ড অব পিসের গাজাবিষয়ক দূত নিকোলাই ম্লাদেনভ বলেছেন, হামাস যদি দ্বিতীয় ধাপের নিরস্ত্রীকরণ শর্তে সম্মত হয়, তবেই ইসরায়েলের কাছ থেকে ওই প্রতিশ্রুতিগুলোর বাস্তবায়ন প্রত্যাশা করা উচিত। এদিকে যুদ্ধবিরতি বহাল থাকলেও গাজায় প্রায় প্রতিদিনই হামলা চালিয়ে যাচ্ছে আইডিএফ। তাদের দাবি, যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের প্রতিক্রিয়া হিসেবে এসব অভিযান পরিচালিত হচ্ছে এবং সম্ভাব্য হামলা ঠেকানো হচ্ছে।

আজ সোমবার আইডিএফ জানিয়েছে, ফিলিস্তিনি ইসলামিক জিহাদের এক সদস্য উত্তর গাজায় রোববারের এক হামলায় নিহত হয়েছেন। সেনাবাহিনীর দাবি, নিহত ব্যক্তি জাহের আবু সালেম, যিনি ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে প্রবেশ করেছিলেন এবং বেসামরিক নাগরিক অপহরণে অংশ নিয়েছিলেন। আইডিএফ আরও দাবি করেছে, আবু সালেম যুদ্ধ চলাকালে এবং সাম্প্রতিক সময়েও ইসরায়েলি সেনা ও বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে হামলার পরিকল্পনায় যুক্ত ছিলেন। সে কারণেই তাঁকে হুমকি হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছিল।

অন্যদিকে হামাস-সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, সোমবার সকালে মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহ এলাকায় এক হামলায় তিনজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে আট বছর বয়সী মালেক আবু শাওয়িশও রয়েছে। এই হামলার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে আইডিএফ কোনো মন্তব্য করেনি।

হামাস পরিচালিত গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের অক্টোবরের যুদ্ধবিরতি শুরুর পর থেকে এক হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। তবে ওই পরিসংখ্যানে যোদ্ধা ও বেসামরিক নাগরিকদের আলাদা করে দেখানো হয়নি। একই সময়ে পাঁচজন ইসরায়েলি সেনাও নিহত হয়েছেন।

গাজাজুড়ে হামলা চালানোর পাশাপাশি আইডিএফ ধীরে ধীরে নিজেদের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকা বাড়িয়েছে। সেনাবাহিনীর দাবি, বর্তমানে তারা গাজার অন্তত ৬০ শতাংশ ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণ করছে। যুদ্ধবিরতির প্রথম দিনের সেনা প্রত্যাহারের পর এ হার ছিল প্রায় ৫৩ শতাংশ। গত মাসে দখলদার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, তিনি সেনাবাহিনীকে আরও এলাকা পুনর্দখলের নির্দেশ দিয়েছেন, যা বাস্তবায়িত হলে গাজার প্রায় ৭০ শতাংশ এলাকা ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে আসবে।

বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা এলাকাগুলোতে হামাস কার্যত প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, সংগঠনটি অস্ত্র ত্যাগে সম্মত হওয়ার পরই একটি অন্তর্বর্তী কর্তৃপক্ষের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করা হবে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির মধ্যেও হামাস গাজায় নিজেদের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে এবং যাদের তারা নিজেদের শাসনের জন্য হুমকি মনে করছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।

ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সাইবার যুদ্ধ শুরু করেছে ইরান, এক মাসেই ৪৮০০ হামলা

পাল্টাপাল্টি হামলা বন্ধে সম্মত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান, আলোচনা এবার কাতারে

ইরানে শিশুদের হত্যা ও সংঘটিত যুদ্ধাপরাধের আন্তর্জাতিক বিচার দাবি মোজতবার

সৌদি তেল কোম্পানি আরামকোর হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, নিহত ১৪

ইরানকে আবারও নিশ্চিহ্ন করার হুমকি ট্রাম্পের—পাল্টাপাল্টি হামলা, উত্তেজনা

যুক্তরাষ্ট্রের চুক্তিকে ‘আত্মসমর্পণ’ আখ্যা দিয়ে প্রত্যাখ্যান হিজবুল্লাহর

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান পাল্টাপাল্টি হামলা: চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে যা বলল দুই পক্ষ

উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলা, হুমকির মুখে যুদ্ধবিরতি

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ঘাঁটিগুলো সরানোর কথা ভাবছে যুক্তরাষ্ট্র, ব্যয় কত

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলা: ১১ হাজার নাবিক উদ্ধার অভিযান স্থগিত করল জাতিসংঘ