হোম > বিশ্ব > মধ্যপ্রাচ্য

গাজার তাঁবু শিবিরে সিগারেট জ্বালানোর লাইটারই এখন জীবনরেখা

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

এক সময়ের কৃষি প্রকৌশলী হাসান আবু লতিফা এখন নষ্ট লাইটার মেরামত করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। ছবি: রয়টার্স

গাজার দক্ষিণাঞ্চলের বিস্তীর্ণ তাঁবু শিবিরগুলোতে সিগারেট জ্বালানোর সাধারণ একটি ডিসপোজিবল লাইটারই এখন হয়ে উঠেছে দুর্লভ ও অত্যন্ত প্রয়োজনীয় এক পণ্য। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে রয়টার্স জানিয়েছে—খাবার, পানি ও জ্বালানির মতোই দৈনন্দিন জীবন টিকিয়ে রাখতে লাইটারের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে গাজার বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোকে।

চার সন্তানের মা নিসরিন আবু সাদার কথাই ধরুন। রান্নার জন্য আগুন জ্বালানো এখন তাঁর কাছে বড় এক চ্যালেঞ্জ। গাজায় রান্নার গ্যাসের সংকট থাকায় বহু পরিবারকে কার্ডবোর্ড, প্লাস্টিক ও কাঠের টুকরোসহ যা কিছু জ্বালানো যায়, তা দিয়েই খাবার রান্না করতে হচ্ছে।

খান ইউনিসে নিজের তাঁবুর পাশে অস্থায়ী রান্নার জায়গায় বসে ৩৮ বছর বয়সী নিসরিন বলেন, ‘লাইটার ছাড়া তাঁবু কোনো কাজে আসে না। গ্যাস নেই। আমরা ২৪ ঘণ্টাই আগুন জ্বালানোর চেষ্টা করি। তাই তাঁবুতে একটি লাইটার খুবই জরুরি।’

যুদ্ধের আগে গাজার তিনটি লাইটারের দাম ছিল মাত্র এক শেকেল (প্রায় ৪০ টাকা)। এখন সেখানে একটি লাইটার কিনতেই খরচ হচ্ছে ১০০ শেকেল, বাংলাদেশি মুদ্রায় যা ৪ হাজার টাকারও বেশি! এই বিপুল দাম নিসরিনের মতো বাস্তুচ্যুত মানুষের নাগালের বাইরে।

লাইটারের সংকটে একটি লাইটারই এখন কয়েক ডজন পরিবারের মধ্যে ভাগাভাগি করে ব্যবহার করা হচ্ছে। এক তাঁবু থেকে আরেক তাঁবুতে ঘুরতে ঘুরতে অতিরিক্ত ব্যবহারে সেগুলো দ্রুত নষ্টও হয়ে যাচ্ছে।

নিসরিন বলেন, ‘আগুন জ্বালানোর প্রয়োজন হলে আমি অপেক্ষা করি অন্য কেউ আগুন জ্বালানো পর্যন্ত। অথবা যেখানে আগুন জ্বলছে সেখানে গিয়ে এক টুকরো কার্ডবোর্ডে আগুন ধরিয়ে সেটি নিয়ে তাঁবুতে ফিরে আসি।’

নিজ তাঁবুতে সবজি রান্না করছেন বাস্তুচ্যুত নিসরিন আবু সাদা। ছবি: রয়টার্স

লাইটারের এই সংকট নতুন একটি জীবিকারও জন্ম দিয়েছে। বাস্তুচ্যুত তিন সন্তানের বাবা হাসান আবু লতিফা এখন নষ্ট লাইটার মেরামত করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। যুদ্ধের আগে তিনি কৃষি প্রকৌশলী হিসেবে কাজ করতেন।

হাসান বলেন, ‘লাইটার মেরামত করা আসলে কোনো পেশা নয়। কিন্তু মানুষের দুর্ভোগ, লাইটারের প্রয়োজন এবং নিজেদের কাজের প্রয়োজন—সব মিলিয়ে আমরা বাধ্য হয়েই এটি শুরু করেছি।’

গাজার অর্থনীতি যুদ্ধের কারণে প্রায় সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, সেখানে বেকারত্ব ৮০ শতাংশ ছাড়িয়েছে এবং দারিদ্র্য প্রায় শতভাগের কাছাকাছি পৌঁছেছে। সংঘাতের কারণে অধিকাংশ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধ হয়ে গেছে এবং ব্যাপকভাবে ধ্বংস হয়েছে অবকাঠামো।

বাস্তুচ্যুত ছয় সন্তানের মা ইফতিখার আল-কাফারনা ঐতিহ্যবাহী চুলায় রুটি বানিয়ে জীবিকা চালান। তাঁর কাছেও লাইটার এখন কাজের অপরিহার্য উপকরণ। তিনি বলেন, ‘লাইটার থাকলে কাজ আছে। লাইটার না থাকলে কাজও বন্ধ। তখন তিন-চার ঘণ্টা বসে থাকতে হয়।’

গাজায় চলমান সংকটের এই চিত্র দেখিয়ে দিচ্ছে, যুদ্ধ কীভাবে মানুষের জীবনে সবচেয়ে সাধারণ ও তুচ্ছ জিনিসকেও বেঁচে থাকার অপরিহার্য উপকরণে পরিণত করতে পারে।

ইরানে বড় ধরনের হামলার কথা ভাবছেন ট্রাম্প

বিশ্ববাজারে তেলের দাম ১০০ ডলার ছাড়াল, মূল্যস্ফীতির শঙ্কা

সিআইএ আস্তানায় ইরানের হামলা—রাশিয়ার ভূমিকা নিয়ে সন্দেহ

যুদ্ধ ছড়াচ্ছে মান্দেবে, চাপে যুক্তরাষ্ট্র

মন্ত্রীর নেতৃত্বে আল-আকসা মসজিদে ২৩০০ ইসরায়েলির অনুপ্রবেশ, জেরুজালেমে উত্তেজনা

বি-১ বোমারু বিমান দিয়ে ইরানে হামলা যুক্তরাষ্ট্রের, আরও বড় অভিযানের ইঙ্গিত

মধ্যপ্রাচ্যে সিআইএর স্থাপনায় ইরানের হামলায় রাশিয়ার সহায়তার ইঙ্গিত, খতিয়ে দেখছে যুক্তরাষ্ট্র

লোহিত সাগরে সৌদি তেলবাহী ২ ট্যাংকারে হুতিদের হামলা

পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্র হবে সৌদি আরবও—চুক্তি অনুমোদন করলেন ট্রাম্প

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রই যুদ্ধ করুক, তবে সংঘাতে জড়াতে প্রস্তুত ইসরায়েলও