হোম > বিশ্ব > মধ্যপ্রাচ্য

ইসরায়েলি হত্যাযজ্ঞের শিকার ১১২ জনের দেহাবশেষ মিলল ১০০০ দিন পর

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

প্রায় ১ হাজার দিন পর উদ্ধার হওয়া দেহাবশেষকে পতাকা মুড়িয়ে সারিবদ্ধ করে রাখা হয়েছে জানাজার জন্য। ছবি: এএফপি

গাজায় গতকাল মঙ্গলবার একই গোত্রের ১১২ সদস্যকে দাফন করা হয়েছে। ২০২৩ সালের নভেম্বরে ইসরায়েলের গণহত্যামূলক হামলায় তারা নিহত হয়েছিলেন। গত মাসে ধ্বংসস্তূ থেকে তাদের দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়। গাজা সিটির আবু শারিয়া ও আল-হাসায়না গোত্রের লোকজন প্রয়াত স্বজনদের শেষ বিদায় জানাতে জড়ো হন। মরদেহগুলো সারি করে রেখে ফিলিস্তিনি পতাকা দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছিল।

প্রায় ১ হাজার দিন ধরে স্বজনদের মরদেহ উদ্ধারের অপেক্ষায় থাকা পরিবারের সদস্যদের জন্য এটি ছিল একই সঙ্গে স্বস্তি ও নতুন শোকের মুহূর্ত। লন্ডন থেকে প্রকাশিত মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আইকে স্বজন হারানো আমের আবু শারিয়া বলেন, ‘এখানে একই সঙ্গে কষ্ট ও আনন্দের অনুভূতি রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আনন্দও হচ্ছে। কারণ, ৩ বছর পর আমরা আমাদের শহীদদের দাফন করতে এবং তাদের সম্মান জানাতে পারছি। কিন্তু শোকও আবার ফিরে এসেছে। মনে হচ্ছে, গণহত্যাটি যেন আজই ঘটেছে।’

গাজায় দুই বছর ধরে চলা এই যুদ্ধের সময়ে সবচেয়ে হত্যাযজ্ঞমূলক একক বিমান হামলার ঘটনাগুলোর একটি ছিল সাবরা এলাকায় চালানো ওই হামলা। ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান একটি পুরো আবাসিক ব্লক গুঁড়িয়ে দেয়। সেখানে আবু শারিয়া ও আল-হাসায়না গোত্রের শত শত সদস্য বসবাস করছিলেন এবং আশ্রয় নিয়েছিলেন।

হামলায় ৩০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হন। নিহতদের মধ্যে ছিলেন ৪৪ শিশু, ৩৭ নারী এবং ১০ জনের বেশি প্রতিবন্ধী। নিহতদের অধিকাংশই ধসে পড়া ভবনের নিচে চাপা পড়ে ছিলেন। যুদ্ধের প্রথম কয়েক মাসে ধ্বংসস্তূপ থেকে মরদেহ উদ্ধারের কাজ বন্ধ হয়ে যায়। কারণ, উদ্ধারকারী দলগুলোর কাছে প্রয়োজনীয় ভারী যন্ত্রপাতি ছিল না। এসব যন্ত্রপাতির অনেকটাই ইসরায়েলি হামলায় ধ্বংস হয়ে যায় অথবা ইসরায়েল গাজায় ঢুকতে বাধা দেয়।

সর্বশেষ, গত ১৪ জুলাই গাজার সিভিল ডিফেন্স বা বেসামরিক প্রতিরক্ষা দল সীমিত ও অপর্যাপ্ত সরঞ্জাম নিয়ে আবারও ওই এলাকায় অনুসন্ধান শুরু করে। কর্মকর্তারা জানান, বিস্ফোরণের প্রচণ্ড শক্তির কারণে মানুষের দেহাবশেষ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে গিয়েছিল। এতে উদ্ধারকাজ আরও কঠিন হয়ে পড়ে।

গত ১ আগস্টের মধ্যে উদ্ধারকারী দল ১১২ জনের দেহাবশেষ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। তবে আরও অনেক মানুষ এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। গাজা উপত্যকার ফিলিস্তিনি সিভিল ডিফেন্সের মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল মিডল ইস্ট আইকে বলেন, ‘আমরা অত্যন্ত কঠিন পরিস্থিতিতে ১৭ দিন ধরে মরদেহ উদ্ধারের কাজ করেছি। শেষ পর্যন্ত আমরা ১১২ জনের দেহাবশেষ উদ্ধার করতে পেরেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘হাজার হাজার মানুষ এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছেন। তাদের পরিবারের সদস্যরা এখনো শোক করছেন এবং তাদের মরদেহ উদ্ধারের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা ও সরঞ্জামের আবেদন জানিয়ে যাচ্ছেন।’

নিহতদের মধ্যে পরিবারের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্যও ছিলেন। তাদের মধ্যে ছিলেন ফাতহি আবু শারিয়া। তিনি ওই পরিবারের মুখতার বা বয়োজ্যেষ্ঠ প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। তাঁর বাড়িতে হামলা হওয়ার পর বহু মানুষ আশ্রয়ের জন্য মফিদ আল-হাসায়নার বাড়িতে চলে যান। মফিদ আল-হাসায়না ২০১৪ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের গণপূর্ত ও আবাসনমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

হামলা থেকে বেঁচে যাওয়া মাহমুদ আল-হাসায়না জানান, প্রায় ২০০ জন হাসায়না পরিবারের সদস্য ওই বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিলেন। তারা মনে করেছিলেন, বাড়িটি নিরাপদ থাকবে। কিন্তু ওই বাড়িতেও বোমা হামলা চালানো হয়। এতে সাবেক মন্ত্রী মফিদ আল-হাসায়না এবং তার সঙ্গে আশ্রয় নেওয়া অন্যরা নিহত হন।

আল-হাসায়না বলেন, ‘দুর্ভাগ্যজনকভাবে, ইসরায়েলিরা শিশু বা নারী, কারও নিরাপত্তা বা সুরক্ষা, কোনো বাড়ি কিংবা কোনো পবিত্রতারই তোয়াক্কা করেনি।’ তিনি আরও বলেন, ‘এখানে তারা সবাইকে আঘাত করেছে।’

নিহতদের অনেকেরই রোমানিয়া, ব্রিটেন ও যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ছিল বলেও তিনি জানান। হামলার সময় আল-হাসায়না নিজে ওই বাড়িতে ছিলেন না। তবে তাঁর ছেলে, ভাই এবং তাদের পরিবারের সদস্যরা হামলার মধ্যে পড়ে যান। তিনি বলেন, ‘আমার ছেলে আহত অবস্থায় বেরিয়ে আসতে পেরেছিল, আল্লাহর শুকরিয়া। কিন্তু আমি আমার ভাই, তাঁর স্ত্রী ও সন্তানদের হারিয়েছি। আমার বোন ও তাঁর সব সন্তানকে হারিয়েছি। আমার আরেক বোন ও তাঁর সন্তানদেরও হারিয়েছি। আরও অনেক খালা, চাচা ও অন্যান্য আত্মীয়কেও হারিয়েছি।’

তিনি বলেন, মরদেহগুলো উদ্ধারের জন্য অপেক্ষা করা এবং তাদের দাফন করতে না পারার সময়টা ছিল দীর্ঘ ও অত্যন্ত কষ্টের। বিশেষ করে বিদেশে বসবাসকারী স্বজনদের জন্য এই অপেক্ষা আরও বেদনাদায়ক ছিল। তিনি বলেন, ‘এই ক্ষত আবার খুলে গেছে। আমরা প্রায় ২০ দিন ধরে এখানে আছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিবার যখন একটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, বিদেশে থাকা স্বজনেরা ফোন করে কেঁদেছেন। আমরা যেন নতুন করে একটি ক্ষত খুলে দিয়েছি।’ তিনি বলেন, ‘দোয়া করি, আল্লাহ যেন তাদের ওপর তাঁর রহমত বর্ষণ করেন এবং তাদের সম্মানিত করেন। মৃতদের জন্য এটাই সবচেয়ে বড় সম্মান যে, তাদের দাফন করতে সহযোগিতা করা হচ্ছে।’

গাজার নিখোঁজ ব্যক্তিদের বিষয়ে গঠিত সরকারি কমিটির প্রধান ওমর নোফাল বলেন, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে গাজা উপত্যকায় প্রায় ৬ হাজার মানুষকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিখোঁজ হিসেবে নিবন্ধন করা হয়েছে। তবে তিনি বলেন, প্রকৃত সংখ্যা সম্ভবত ১৫ হাজারের কাছাকাছি। ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় ৭৩ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ৭০ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। এ ছাড়া আরও হাজার হাজার মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

লোহিত সাগরে হামলায় ডুবল ভারতীয় জাহাজ, ১৪ নাবিক উদ্ধার

ইসরায়েলি দখলের মুখে আল-আকসা—জরুরি বৈঠক ডাকছে জর্ডান

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্ভাব্য চুক্তির খসড়া বিলি করা হচ্ছে: কাতার

ন্যাটোর মতো ইসলামি দেশগুলোর বাহিনী গঠনের প্রস্তাব ইরানের, তালিকায় পাকিস্তান

তিন বছরে দেশ ছেড়েছে ২ লাখ ৬৮ হাজার ইসরায়েলি

হামাস অস্ত্র না ছাড়লে গাজা থেকে সরবে না ইসরায়েলি বাহিনী

ইউক্রেনের ৩ স্থানে হামলার পরিকল্পনা ছিল ইরানের, কিয়েভ ‘ক্ষমা চাওয়ায়’ বাতিল

ফিলিস্তিনিদের জমি দখলকারী ‘হিলটপ ইয়ুথ’ কারা, কী চায় তারা

গাজায় ইসরায়েলি হামলায় একদিনে নিহত ১৯

ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা কমাতে ট্রাম্পের প্রতি এমবিএসের আহ্বান