ফিলিস্তিনি-চিলিয়ান সংগীতশিল্পী এলিয়ানার জনপ্রিয় গান ‘গানেনি’-এর মিউজিক ভিডিওর দৃশ্য ‘ফ্রেম বাই ফ্রেম’ নকল করার অভিযোগ উঠেছে দুই ইসরায়েলি শিল্পীর বিরুদ্ধে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও দুটি পাশাপাশি রেখে তুলনা করে অভিযোগটি ছড়িয়ে পড়েছে। অনেক মন্তব্যকারী এটিকে ফিলিস্তিনি ও আরব সংস্কৃতিকে ইসরায়েলি শিল্পীদের আত্মসাৎ করার আরেকটি উদাহরণ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ন্যাশনাল’ জানায়, ইসরায়েলি শিল্পী গাল জুমা ও আসুলিনের যৌথ গান ‘জাহারা’ প্রকাশিত হয় গত ৪ আগস্ট। এর দুই সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে এলিয়ানার ভক্তদের বিভিন্ন অ্যাকাউন্ট ভিডিও দুটির একাধিক দৃশ্য পাশাপাশি প্রকাশ করতে শুরু করে।
অভিযোগকারীরা বিশেষভাবে মরুভূমির একটি দৃশ্যের কথা উল্লেখ করেছেন। সেখানে সাদা রঙের একটি মার্সিডিজ গাড়িকে নকশাদার কার্পেট ও কাপড় দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে। দুটি ভিডিওতেই গাড়ির ভেতরের অংশ রঙিন ও কারুকাজ করা কাপড়ে সাজানো দেখা যায়।
এ ছাড়া ছাদে নাচের দৃশ্য, অস্তগামী সূর্যের সামনে মানুষের ছায়ামূর্তি, শিল্পীর হাতের তালুতে আঁকা চোখ এবং নৃত্যের বিভিন্ন দৃশ্যে প্রায় একই ধরনের ফ্রেম ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে সমালোচকদের বক্তব্য, আপত্তি গানের সুর বা কথার বিষয়ে নয়; দুটি গানের সংগীত ও লিরিক ভিন্ন। অভিযোগ মূলত মিউজিক ভিডিওর দৃশ্য পরিকল্পনা নিয়ে।
‘জাহারা’ গানে হিব্রু ও আরবি ভাষার কথা ব্যবহার করা হয়েছে। গানটিতে ২০০০-এর দশকের আরঅ্যান্ডবি ধাঁচের সংগীতের সঙ্গে বেহালার ব্যবহার রয়েছে। ভিডিওটি পরিচালনা ও ধারণ করেছেন ব্রুস মেলান। শুক্রবার পর্যন্ত ইউটিউবে ভিডিওটির দর্শকসংখ্যা ছিল প্রায় ১০ লাখ।
অন্যদিকে, এলিয়ানার ‘গানেনি’ প্রকাশিত হয় ২০২৪ সালের ১২ এপ্রিল। তাঁর প্রথম অ্যালবাম ‘ওলেদতো’র সঙ্গে। স্পেনে ধারণ করা ভিডিওটি পরিচালনা করেছেন নাগমেহ পুর। ইউটিউবে এর দর্শকসংখ্যা ২০ কোটিরও বেশি।
সমালোচনার ঢেউ পৌঁছেছে গাল জুমার ইনস্টাগ্রামেও। সেখানে ‘জাহারা’ মিউজিক ভিডিওর প্রচারসংক্রান্ত পোস্টের নিচে অনেকে ভিডিওটিকে গানেনি-র ‘কপি-পেস্ট’ সংস্করণ বলে মন্তব্য করেছেন।
শুক্রবার পর্যন্ত জুমা বা আসুলিন কেউই অভিযোগের বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি। এলিয়ানাও এ বিষয়ে কথা বলেননি এবং কোনো আনুষ্ঠানিক কপিরাইট অভিযোগ দায়েরের খবর পাওয়া যায়নি।
২৪ বছর বয়সী এলিয়ানার জন্ম নাজারেতে। সেখানেই বেড়ে ওঠেন। ২০২৩ সালে তিনি কোচেলায় প্রথম শিল্পী হিসেবে সম্পূর্ণ আরবি ভাষার গান পরিবেশন করেন।