হোম > বিশ্ব > মধ্যপ্রাচ্য

মুসলিম বিশ্বের ‘প্রকৃত শত্রু’ ইসরায়েল–যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনা বুঝে মোকাবিলা করুন: মোজতবা খামেনি

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

মোজতবা খামেনি। ছবি: প্রেস টিভি

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা হোসেইনি খামেনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে মুসলিম ঐক্যের বিরুদ্ধে ‘সোর্ন এনিমি বা চির বা প্রকৃত শত্রু’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। একই সঙ্গে তিনি সমগ্র ইসলামী বিশ্বে আরও বেশি সংহতি, সহযোগিতা ও পারস্পরিক ঐক্যের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন। আজ রোববার লিখিত এক বার্তায় তিনি এই অবস্থান ব্যক্ত করেন।

ইসলামের নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া এবং খামেনির টেলিগ্রাম অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত ওই বার্তায় বিশ্বজুড়ে মুসলিমদের ঐক্য, পারস্পরিক প্রতিরক্ষা এবং ‘শত্রুদের’ বিরুদ্ধে সহযোগিতার আহ্বান জানানো হয়েছে। মোজতবা খামেনি এক লিখিত বার্তায় উপসাগরীয় দেশগুলোর শাসকদের তাদের ‘প্রকৃত শত্রুকে’ চিহ্নিত করার, তাদের পরিকল্পনা বোঝার এবং তার মোকাবিলা করার আহ্বান জানিয়েছেন।

লিখিত বিবৃতিতে মোজতবা খামেনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ‘ইরানসহ যেকোনো ইসলামী দেশের মুসলিম জনগণের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করার অজুহাত হিসেবে বিভিন্ন জাতিগত, সাংস্কৃতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও ভৌগোলিক পার্থক্যকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করে।’

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, বিবৃতিতে খামেনি আরও বলেন, ‘এই দৃষ্টিকোণ থেকে তারা মুসলিম উম্মাহর বিভক্তি এবং এর শক্তি দুর্বল হয়ে যাওয়ার বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করে এবং তাদের ওপর নিজেদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠার উপযুক্ত সময়ের অপেক্ষায় থাকে।’

খামেনি প্রশ্ন তোলেন, ‘মুসলিমরা যদি ঐক্যবদ্ধ থাকত এবং শক্ত মুষ্টি বদ্ধ করে একসঙ্গে দাঁড়াত, তাহলে কি ফিলিস্তিনি জাতি এতটা প্রতিরক্ষাহীন অবস্থায় থাকত এবং দখলদারদের নিপীড়ন ও অপরাধের শিকার হতো?’

তিনি আরও প্রশ্ন করেন, ‘পারস্য উপসাগরের চারপাশে বসবাসকারী দেশ ও সরকারগুলো যদি ইসলামের পতাকার নিচে নিজেদের ঐক্য প্রতিষ্ঠা করত, তাহলে কি হাজার হাজার কিলোমিটার দূর থেকে আসা দুর্নীতিগ্রস্ত ও পরিচয়হীন দুর্বৃত্তরা তাদের ভূমি ও সম্পদের প্রতি লোলুপ দৃষ্টি দেওয়ার সাহস পেত?’

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মুসলিম দেশগুলোর রাষ্ট্রপ্রধানদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, তাদের উচিত ‘তাদের প্রকৃত শত্রুকে চিহ্নিত করা, তার পরিকল্পনা বোঝা এবং তার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা।’ খামেনি বলেন, ‘আমেরিকার অপরাধী শাসকরা এবং ভুয়া জায়নবাদী শাসকগোষ্ঠী এই ঐক্য ও বন্ধুত্বের শপথ নেওয়া শত্রু।’

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘তারা শুধু ইসলামী প্রজাতন্ত্র ও ইরানি জাতির শত্রু নয়, একই সঙ্গে ইসলামী প্রতিরোধের বিশাল ফ্রন্টেরও শত্রু। তারা সমগ্র মুসলিম উম্মাহর বিরুদ্ধেও শত্রুতা পোষণ করে, যার মধ্যে পশ্চিম এশিয়া ও উত্তর আফ্রিকার জনগণও রয়েছে।’

ছয় মাস আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলায় আহত হওয়ার পর থেকে খামেনিকে আর জনসমক্ষে দেখা যায়নি। ওই হামলার মধ্য দিয়েই যুদ্ধ শুরু হয় এবং এতে তার বাবা ও আগের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হন।