মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। ইসরায়েল জানিয়েছে, তারা লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ‘সীমিত ও লক্ষ্যভিত্তিক’ স্থল অভিযান শুরু করেছে। ইসরায়েলের দাবি, এই অভিযান মূলত ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল্লাহর গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি লক্ষ্য করে পরিচালিত হচ্ছে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে জানায়, তাদের সৈন্যরা সাম্প্রতিক দিনগুলোতে দক্ষিণ লেবাননের কয়েকটি কৌশলগত স্থানে অভিযান চালিয়েছে। এসব অভিযানের লক্ষ্য হচ্ছে হিজবুল্লাহর সামরিক অবকাঠামো ধ্বংস করা এবং সীমান্তবর্তী ইসরায়েলি বসতিগুলোর নিরাপত্তা জোরদার করা। একই সঙ্গে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে বিমান হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার (১৬ মার্চ) ইসরায়েলের হামলায় অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে দুজন প্যারামেডিকও রয়েছেন। অন্যদিকে ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলে হিজবুল্লাহর রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কারণে সাইরেন বেজে উঠলেও সেখানে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতার হত্যাকাণ্ডের জের ধরে প্রায় দুই সপ্তাহ আগে হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের দিকে রকেট ও ড্রোন হামলা চালালে দুই পক্ষের সংঘাত নতুন করে তীব্র হয়। ইসরায়েল বলছে, এই হামলার পর হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র না করা পর্যন্ত তাদের সামরিক অভিযান চলবে।
লেবানন কর্তৃপক্ষের হিসাব অনুযায়ী, ইসরায়েলি হামলায় দেশটিতে এখন পর্যন্ত অন্তত ৮৫০ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১০৭ জন শিশু। একই সঙ্গে প্রায় ৮ লাখ ৩০ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। অন্যদিকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননে সংঘর্ষে তাদের দুই সেনা নিহত হয়েছে।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, তাদের ৯১ তম ডিভিশনের সেনারা ইতিমধ্যে লেবাননের ভেতরে অভিযান শুরু করেছে। আইডিএফ-এর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাদাভ শশানি বলেছেন, হিজবুল্লাহ দক্ষিণ লেবাননে তাদের কার্যক্রম বাড়ানোর পরিকল্পনা করছিল এবং প্রতিদিন শত শত রকেট নিক্ষেপ করছে। তাদের অভিজাত রাদওয়ান বাহিনীর শতাধিক যোদ্ধাকেও সীমান্তে মোতায়েন করা হয়েছে।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, বর্তমানে কয়েক হাজার সৈন্য নিয়ে তিনটি ইসরায়েলি ডিভিশন দক্ষিণ লেবাননে কাজ করছে এবং আরও দুটি ডিভিশন শিগগিরই সেখানে যোগ দিতে পারে।
এই স্থল অভিযান লেবাননের সার্বভৌমত্বের ওপর নতুন আঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে এবং এতে দীর্ঘমেয়াদি ইসরায়েলি দখলের আশঙ্কা বাড়ছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ইসরায়েল সম্ভবত লিতানি নদীর দক্ষিণের পুরো অঞ্চল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে চায়, যা ইসরায়েল সীমান্ত থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না এলে ইসরায়েল-লেবানন সীমান্তের সংঘাত আরও বিস্তৃত আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে।