হোম > বিশ্ব > মধ্যপ্রাচ্য

লোহিত সাগরে সৌদি তেলবাহী ২ ট্যাংকারে হুতিদের হামলা

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

বাব এল–মান্দেব বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ। ছবি: এএফপি

ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠী হুতি লোহিত সাগর দিয়ে চলাচলকারী সৌদি আরবের দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার দাবি করেছে। গতকাল বুধবার হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি জানান, সশস্ত্র বাহিনীর ঘোষিত সামুদ্রিক অবরোধের সিদ্ধান্ত লঙ্ঘন করায় ‘এনসেলিয়া’ এবং ‘লায়লা’ নামের দুটি সৌদি তেলবাহী ট্যাংকার লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার খবর অনুসারে, ইয়াহিয়া সারি বলেন, হুতির ‘সশস্ত্র বাহিনীর জারি করা অবরোধের সিদ্ধান্ত লঙ্ঘনের কারণে আমরা এনসেলিয়া ও লায়লা নামের দুটি সৌদি তেলবাহী ট্যাংকারকে লক্ষ্যবস্তু করেছি।’

এদিকে সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ) দেশটির ট্রান্সপোর্ট জেনারেল অথরিটির এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানিয়েছে, এনসেলিয়া জাহাজটি হামলার শিকার হয়েছে। তবে জাহাজটির সব নাবিক নিরাপদ রয়েছেন। এসপিএ লায়লা জাহাজে কথিত হামলার বিষয়ে কোনো বিস্তারিত তথ্য দেয়নি। এসপিএ এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘এই হামলাগুলো আন্তর্জাতিক আইন ও আন্তর্জাতিক কনভেনশনের লঙ্ঘন, যা বাণিজ্যিক জাহাজ ও তাদের নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে।’

হুতি মুখপাত্রের দাবি, একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন ব্যবহার করে হামলা চালানো হয়েছে, যার ফলে দুটি জাহাজেই আগুন ধরে যায়। তিনি আরও দাবি করেন, আনুষ্ঠানিকভাবে ‘আনসার আল্লাহ’ নামে পরিচিত হুতিরা ‘প্রায় ১০টি জাহাজকে তাদের নির্ধারিত পথ ত্যাগ করে ফিরে যেতে বাধ্য করেছে।’

অন্যদিকে, ওই অঞ্চলের নৌ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ইউনাইটেড কিংডম মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে, তারা একটি ট্যাংকারে হামলার খবর পেয়েছে। ইউকেএমটিও–এর বিবৃতিতে বলা হয়, ‘একটি ট্যাংকারের ক্যাপ্টেন জানিয়েছেন, একটি অজ্ঞাত প্রক্ষেপণাস্ত্র জাহাজটিতে আঘাত করেছে। এতে জাহাজে আগুন লেগেছে এবং নাবিকরা বর্তমানে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছেন।’

এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ইয়েমেন সরকার এবং সরকার-সমর্থিত সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের বিরুদ্ধে যুদ্ধরত হুতিরা গত ২০ জুলাই সৌদি আরবের বিরুদ্ধে সামুদ্রিক অবরোধ ঘোষণা করে। এর আগে চার বছরের মধ্যে ইয়েমেনে সবচেয়ে ভয়াবহ সহিংসতার এক ঘটনায় ইয়েমেন সরকার হুতি-নিয়ন্ত্রিত সানা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বোমা হামলা চালায়, যাতে একটি ইরানি বিমান সেখানে অবতরণ করতে না পারে।

হুতিরা জানায়, সৌদি আরবের বিরুদ্ধে সামুদ্রিক অবরোধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে ‘চোখের বদলে চোখ’ নীতির ভিত্তিতে। তাদের ভাষ্য, ‘আমাদের মহান জনগণের অবরোধের জবাবে অবরোধ আরোপ করার অধিকার রয়েছে।’ ২০১৪ সালে সানা দখলকারী এই গোষ্ঠীটি সৌদি নেতৃত্বের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেছে, তারা প্রায় ১২ বছর ধরে ইয়েমেনের ওপর ‘অন্যায় ও নিপীড়নমূলক অবরোধ’ আরোপ করে দেশের সম্পদ লুট করেছে এবং স্থল, সমুদ্র ও আকাশপথে বন্দর ও বিমানবন্দরগুলোর ওপর পূর্ণাঙ্গ অবরোধ বজায় রেখেছে।

সানাভিত্তিক সাংবাদিক হুসাইন আল-বুখাইতি আল জাজিরাকে বলেন, ‘সৌদিরা মনে করে অর্থনৈতিকভাবে শ্বাসরোধ করার এই কৌশল ব্যবহার করে তারা হুতিদের বিরুদ্ধে একটি গণঅভ্যুত্থান সৃষ্টি করতে পারবে।’

তবে রিয়াদ ইয়েমেনের জনগণের ওপর অবরোধ আরোপের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। একই সঙ্গে হুতিদের সমালোচকেরা উল্লেখ করেছেন, তারা জর্ডানের এমন একটি প্রস্তাবও প্রত্যাখ্যান করেছে, যাতে আম্মান ও সানার মধ্যে বিমান চলাচল পুনরায় চালুর কথা বলা হয়েছিল। আল-বুখাইতির মতে, ‘সৌদিদের বিরুদ্ধে আনসার আল্লাহর নৌ অবরোধের মূল লক্ষ্য হলো রিয়াদকে বাধ্য করা, যাতে তারা হুতি-নিয়ন্ত্রিত বন্দর ও বিমানবন্দরের ওপর আরোপিত অবরোধ তুলে নেয়।’

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় সৌদি আরব লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেব প্রণালী হয়ে বিকল্প পথে তেল পরিবহনের চেষ্টা করছিল। তবে সেই বিকল্প পথও এখন হুতিদের হামলার ঝুঁকির মুখে পড়েছে। ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর পর বাব আল-মান্দেব এলাকায় জাহাজে হামলা শুরু করে হুতিরা, যার ফলে বৈশ্বিক বাণিজ্যে বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হয়। ২০২৫ সালের অক্টোবরে গাজায় ‘যুদ্ধবিরতি’ ঘোষণার পর সেই হামলা বন্ধ হয়।

আল-বুখাইতি বলেন, ‘যারা মনে করছেন হুতিরা সৌদিদের বিরুদ্ধে সফলভাবে অবরোধ কার্যকর করতে পারবে না, তাদের মনে রাখা উচিত যে হুতিরাই ইসরায়েলি বন্দরগুলোর জন্য লোহিত সাগরের প্রবেশপথ কার্যকরভাবে বন্ধ করে দিয়েছিল। এর ফলে দক্ষিণ ইসরায়েলের ইলাত বন্দর কার্যত বন্ধ হয়ে যায়।’ তিনি আরও বলেন, ‘শেষ পর্যন্ত ওমানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রকে হুতিদের সঙ্গে একটি সমঝোতায় যেতে হয়েছিল।’ তিনি ২০২৫ সালের মে মাসে হওয়া ওই চুক্তির প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন।

লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগরের সঙ্গে সংযুক্তকারী বাব আল-মান্দেব প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ, বিশেষ করে তেল রপ্তানির জন্য। ইয়েমেনের উত্তর-পূর্বে এবং আফ্রিকার শৃঙ্গ অঞ্চলের জিবুতি ও ইরিত্রিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত এই প্রণালীটির সবচেয়ে সরু অংশের প্রস্থ মাত্র ২৯ কিলোমিটার (১৮ মাইল)। ফলে সুয়েজ খাল ব্যবহারকারী জাহাজগুলোর প্রবেশ ও প্রস্থানের জন্য মাত্র দুটি নৌপথ রয়েছে।

২০২৪ সালে এই প্রণালী দিয়ে প্রায় ৪ দশমিক ১ বিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ও পরিশোধিত পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য পরিবহন করা হয়েছে, যা বৈশ্বিক মোট তেল পরিবহনের প্রায় ৫ শতাংশ। অন্যদিকে, ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর পর থেকে হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদি বাব আল-মান্দেব প্রণালীও অচল হয়ে পড়ে, তবে বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রায় ২৫ শতাংশ বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্র হবে সৌদি আরবও—চুক্তি অনুমোদন করলেন ট্রাম্প

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রই যুদ্ধ করুক, তবে সংঘাতে জড়াতে প্রস্তুত ইসরায়েলও

গাজাকে দুই ভাগ করতে মাটির বাঁধ নির্মাণ করছে ইসরায়েল

ইরানে ফের যুদ্ধ শুরুর দুই সপ্তাহে আহত প্রায় ১০০ মার্কিন সেনা

ইরান পরমাণু সমৃদ্ধকরণ সেন্ট্রিফিউজ পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনে সরিয়েছে: দাবি ইসরায়েলের

মার্কিন স্থল আক্রমণকে ‘স্বাগত’ জানাতে প্রস্তুত তেহরান

সৌদি আরবকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অনুমতি দিল ট্রাম্প প্রশাসন

সীমার মধ্যে থাকলেও কেন মার্কিন রণতরিতে হামলা করছে না ইরান

সৌদি আরবের বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে হুতিদের নৌ অবরোধ

হামাসের নতুন রাজনৈতিক প্রধান কে এই খলিল আল-হাইয়া